সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি: সপ্তাহের প্রথম লেনদেনের দিন সোমবার বড়সড় পতনের মুখে পড়ল দেশের শেয়ার বাজার। দিনের শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপে সেই উত্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় বাজার। দিনভর অস্থির লেনদেনের পর বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স ৫৪৭.৬৫ পয়েন্ট বা ০.৭৬ শতাংশ কমে ৭১,৯২৪.৬৮ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ১৫৭.১০ পয়েন্ট বা ০.৭০ শতাংশ নেমে ২২,৩৬৩.৩৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে বড় সংস্থাগুলির শেয়ারে পতন হলেও স্মল-ক্যাপ সূচক ১.৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সোমবারের পতনের পিছনে মূলত পাঁচটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, গত শুক্রবার শেয়ার বাজারে উত্থানের পর সোমবার বিনিয়োগকারীদের একাংশ মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেন। ফলে দিনের শুরুতে তৈরি হওয়া ইতিবাচক পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। আগের লেনদেনে নিফটি ২২,৫২০ পয়েন্টে বন্ধ হলেও সোমবার বিক্রির চাপে একসময় ২২,৩৫০ পয়েন্টের গুরুত্বপূর্ণ স্তরের নিচেও নেমে যায়।
দ্বিতীয়ত, সরকারি ব্যাঙ্ক ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রের শেয়ারে দুর্বলতা বাজারের পতনকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ধামি সিকিউরিটিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রশান্ত ধামির মতে, সোমবার সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা গিয়েছে সরকারি ব্যাঙ্কগুলির শেয়ারে। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক এবং কানাড়া ব্যাঙ্কের শেয়ার এক থেকে দুই শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। পাশাপাশি ভারতী এয়ারটেল ও এনটিপিসির মতো বড় সংস্থার শেয়ারেও দুর্বলতা দেখা যায়। ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির মধ্যে ডক্টর রেড্ডিজ ও সিপলা কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও সামগ্রিকভাবে এই ক্ষেত্রেও বিক্রির চাপ বজায় ছিল।
তৃতীয়ত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণেও বাজারের দুর্বলতার ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিফটির ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ২২,৬০০ থেকে ২২,৬৫০ পয়েন্টের উপরে স্থিতিশীল থাকা জরুরি। বর্তমানে ২২,৩০০ পয়েন্টকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক স্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই স্তরের নিচে নেমে গেলে বিক্রির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
চতুর্থত, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক শেয়ার বিক্রিও বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। টানা ১১ দিন ধরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছেন। আগের লেনদেনে তাঁরা ৩,৫৬৮ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ৪,৭৪৩ কোটি টাকার শেয়ার কিনলেও বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের প্রভাব পুরোপুরি সামাল দেওয়া যায়নি।
পঞ্চমত, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। এর প্রভাবে ডলার সূচক ১৮ মাসের সর্বোচ্চ স্তর ১০২.৫-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের একাংশ ভারত-সহ উন্নয়নশীল বাজার থেকে অর্থ সরিয়ে মার্কিন সম্পদে বিনিয়োগ করছেন। এর প্রভাব পড়ছে ভারতীয় টাকা ও শেয়ার বাজারের উপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে বিদেশি বিনিয়োগের গতিপ্রকৃতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত স্তরগুলির উপর বাজারের গতিবিধি অনেকাংশে নির্ভর করবে। তবে বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
No Comment! Be the first one.