সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি : দিল্লিতে শনিবার, ১০ অক্টোবর সিজেপি-র আন্দোলন ঘিরে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর দমন-পীড়ন এবং বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনায় রবিবার সুপ্রিম কোর্টে জরুরি শুনানি শুরু হয়েছে। দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে আন্দোলনকারীদের আটক এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে শীর্ষ আদালতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে এই সংক্রান্ত একগুচ্ছ আবেদনের শুনানি চলছে।
আদালতের উদ্যোগে জরুরি শুনানির ব্যবস্থা করায় আইনজীবীরা বেঞ্চকে ধন্যবাদ জানান। জবাবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, “আমাদের ধন্যবাদ জানানোর কোনও প্রয়োজন নেই। দেশের সেবায় আমরা সর্বদা প্রস্তুত।” শুনানির শুরুতে বেঞ্চ জানায়, তালিকাভুক্ত মামলাগুলির পাশাপাশি এই বিষয়ে জরুরি আবেদন জানাতে ইচ্ছুক আইনজীবীদেরও বক্তব্য পেশের সুযোগ দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে সব পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে বলেও জানায় আদালত।
শুনানির প্রথম পর্বে আন্দোলনকারীদের বেআইনিভাবে আটক এবং দিল্লিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা, যা আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা হিসেবে পরিচিত ছিল, জারি করার বিরুদ্ধে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর অভিযোগ, ট্রেন থেকে আন্দোলনকারীদের নামিয়ে আটক করা হচ্ছে। দিল্লিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে শীর্ষ আদালতের ‘অনুরাধা ভাসিন’ মামলার ঐতিহাসিক রায়ের উল্লেখ করেন সিব্বল।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের টেনে-হিঁচড়ে বাসে তোলা এবং বাস থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী শাহদান ফারাসাত। অভিযোগ, এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁকেও পুলিশ আটক করেছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজেও তাঁকে আটক করার দৃশ্য দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন প্রবীণ আইনজীবী এন. হরিহরণ। তিনি বলেন, “দিল্লি শহরে নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাফেরার অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।” তাঁর বক্তব্য, আন্দোলন ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপে সাধারণ নাগরিকদের চলাচল এবং মৌলিক অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট কী পর্যবেক্ষণ দেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। শুনানিতে আন্দোলনকারীদের আটক, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ এবং নাগরিকদের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলি কতটা গুরুত্ব পায়, তা পরবর্তী পর্যায়ে স্পষ্ট হবে।
No Comment! Be the first one.