সাহসিকতার স্বীকৃতি, ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরকে বিশেষ সম্মান জানাবে ইজরায়েল

সকাল সকাল ডেস্ক

নয়াদিল্লি: মাঝ আকাশে সহ-পাইলটের প্রাণঘাতী হামলার মুখেও অসীম সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে বড়সড় বিমান দুর্ঘটনা এড়ানোর কৃতিত্বের জন্য ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে বিশেষ সম্মান জানাতে চলেছে ইজরায়েল। ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের জীবন রক্ষায় তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড ফর সিভিলিয়ান হিরোইজম’ প্রদানের ঘোষণা করা হয়েছে। এই সম্মান গ্রহণের জন্য তাঁকে জেরুজালেমে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

ক্যাপ্টেন মাচ্ছরকে লেখা এক চিঠিতে ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট তাঁর সাহসিকতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। হারজগ লিখেছেন, চরম যন্ত্রণা ও জীবনের ঝুঁকির মধ্যেও নিজের মধ্যে শক্তি খুঁজে পাওয়া এবং বিপদের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা তাঁর অসাধারণ চরিত্রের পরিচয় বহন করে। এই সাহসিকতার জন্য ক্যাপ্টেন মাচ্ছর ইজরায়েলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

প্রেসিডেন্টের কথায়, ঘটনাটি কোনও রোমাঞ্চকর চলচ্চিত্রের কাহিনির মতো মনে হলেও বাস্তবে মাঝ আকাশে ককপিটের ভিতরে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা কল্পনা করাও কঠিন। এমন সংকটের মধ্যেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর যে সাহস ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়।

চিঠিতে ভারত ও ইজরায়েলের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন হারজগ। ১৯১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অটোমান বাহিনীর হাত থেকে হাইফা শহর মুক্ত করার অভিযানে ভারতীয় সেনাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, শতাধিক বছর আগে ভারতীয় সেনারা যেভাবে সাহসিকতার নজির গড়েছিলেন, ক্যাপ্টেন মাচ্ছরও সেই ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছেন। তাঁর এই ভূমিকা ভারত ও ইজরায়েলের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ক্যাপ্টেন মাচ্ছর। তাঁর দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাঁকে জেরুজালেমে স্বাগত জানিয়ে দেশের জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চান তিনি।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি ওড়ার সময় ককপিটের ভিতরে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, ওমানের নাগরিক এক সহ-পাইলট ককপিটে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত কুড়ুল দিয়ে পিছন থেকে ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের ওপর একাধিকবার আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যান।

প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত সহ-পাইলটের পরিকল্পনা ছিল বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে তেল আভিভের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে সেটি আছড়ে ফেলা। তবে এই পরিকল্পনা ও হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্তকারীদের দাবির স্বাধীন সত্যতা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

হামলায় গুরুতর আহত হন ক্যাপ্টেন মাচ্ছর। তাঁর মাথায় গভীর আঘাত লাগায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করতে হয়। তা সত্ত্বেও সংকটময় মুহূর্তে তিনি যাত্রীদের ককপিটে প্রবেশের সুযোগ করে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয় এবং বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করে ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তাঁর অসাধারণ ভূমিকা শুধু বহু মানুষের জীবন রক্ষার ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, ভারত ও ইজরায়েলের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বেরও এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More