জেওয়ার বিমানবন্দরের নতুন নাম নরেন্দ্র মোদী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, অনুমোদন উত্তরপ্রদেশ মন্ত্রিসভার

সকাল সকাল ডেস্ক

লখনউ : উত্তরপ্রদেশের জেওয়ারে নির্মীয়মাণ নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে ‘নরেন্দ্র মোদী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’ রাখার প্রস্তাবে অনুমোদন দিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনজীবনে ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাঁর নেতৃত্ব এবং উত্তরপ্রদেশের উন্নয়নে অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার ২৫ বছর পূর্ণ করেছেন নরেন্দ্র মোদী। এই উপলক্ষে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি প্রস্তাবও পাস করেছে মন্ত্রিসভা। যোগীর কথায়, ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ‘সেবা, সমর্পণ এবং রাষ্ট্র প্রথম’—এই ভাবনাকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর ২৫ বছরের যাত্রা এগিয়েছে। তাঁর মতে, এই যাত্রা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের নয়, বরং জনসেবা থেকে জনকল্যাণ এবং জনঅংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জনবিশ্বাস অর্জনেরও।

জেওয়ার বিমানবন্দরকে উন্নয়নের নতুন কেন্দ্র হিসেবে দেখছে রাজ্য

যোগী আদিত্যনাথ বলেন, জেওয়ারের নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উত্তরপ্রদেশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর একটি বড় উপহার। বিমানবন্দরটি চালু হলে রাজ্যের অর্থনীতি, শিল্প, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। সেই গুরুত্ব বিবেচনা করেই এর নাম ‘নরেন্দ্র মোদী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’ করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘বিকশিত উত্তরপ্রদেশ, বিকশিত ভারত-২০৪৭’ গড়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার কাজ করে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে এই লক্ষ্য পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

কাশী থেকে জেওয়ার, পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের বিশেষ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে যোগী বলেন, নরেন্দ্র মোদী কাশীর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। কাশীর উন্নয়ন, আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ এবং রাজ্যের সামগ্রিক বিকাশের মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশে প্রায় ২,৪৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ৪২টি জাতীয় সড়কের উন্নয়নে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

রাজ্যকে শিল্প ও পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দাদরি ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হয়ে উঠেছে। এক হাজার ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ পণ্য পরিবহণ করিডর উত্তরপ্রদেশের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। বারাণসীতে জাতীয় জলপথ-১-এর উপর মাল্টিমোডাল ইনল্যান্ড পোর্ট টার্মিনাল এবং ১০০ একর জমিতে ফ্রেট ভিলেজ গড়ে উঠেছে। লখনউয়ে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের সংযোজন কেন্দ্র, উত্তরপ্রদেশ প্রতিরক্ষা শিল্প করিডর এবং এক হাজার একরের পিএম মিত্র বস্ত্র পার্ককেও শিল্পোন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

কৃষক, দরিদ্র ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় সরকারি সহায়তা

কৃষক কল্যাণের প্রসঙ্গে যোগী জানান, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পে উত্তরপ্রদেশের তিন কোটিরও বেশি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাঠানো হয়েছে। প্রায় ৮৬ লক্ষ কৃষকের ঋণ মকুব করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় রাজ্যের ৬৫ লক্ষেরও বেশি দরিদ্র পরিবার বাড়ি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনায় ৩.৬৭ কোটি রেশন কার্ডধারী পরিবারের প্রায় ১৫ কোটি মানুষ বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পাচ্ছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে তাঁর দাবি, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে রাজ্যে প্রায় ৬.০৮ কোটি কার্ড তৈরি হয়েছে এবং ৯.৯০ কোটিরও বেশি নাগরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় এসেছেন। গুরুতর রোগে আক্রান্ত ১.০৯ কোটিরও বেশি রোগী ১৮ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকার বিনামূল্যের চিকিৎসার সুবিধা পেয়েছেন। স্বচ্ছ ভারত মিশনে ৩.৩৭ কোটিরও বেশি শৌচাগার এবং ৫৯,১৮৩টি সমষ্টিগত শৌচাগার নির্মাণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনায় ১.৮৬ কোটি বিনামূল্যের রান্নার গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান যোগী।

মহিলা ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘লখপতি দিদি’ অভিযানে ১০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে এক কোটিরও বেশি মহিলা যুক্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী স্বনিধি প্রকল্পে ১৫ লক্ষেরও বেশি পথবিক্রেতা আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। স্বামিত্ব যোজনার আওতায় ৯১ হাজারেরও বেশি গ্রামে কাজ হয়েছে এবং ১.১০ কোটিরও বেশি গ্রামীণ পরিবার বাড়ির মালিকানার নথি পেয়েছে বলে জানান তিনি।

কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে যোগী বলেন, রাজ্যে ৯.৫০ লক্ষেরও বেশি সরকারি নিয়োগ হয়েছে এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে ৬৫ লক্ষ যুবক-যুবতী কাজ পেয়েছেন। কর্মসংস্থান মেলা, শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে ৩১.১১ লক্ষেরও বেশি যুবক-যুবতী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। স্বামী বিবেকানন্দ যুব ক্ষমতায়ন যোজনায় ৬২ লক্ষেরও বেশি যুবক-যুবতীকে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

‘এক জেলা, এক পণ্য’ প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের স্থানীয় পণ্য ও হস্তশিল্প আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। কাশীর গোলাপি মীনাকারি, নিজামাবাদের কালো মৃৎশিল্প, কনৌজের আতর এবং লখনউয়ের জরদৌজি শিল্পকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ, কাশী বিশ্বনাথ ধামের পুনর্নির্মাণ এবং প্রয়াগরাজ মহাকুম্ভের আয়োজনকেও উত্তরপ্রদেশের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরেন যোগী। তাঁর দাবি, মহাকুম্ভে ৬৬ কোটিরও বেশি পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছিল। কাশী তামিল সঙ্গমম, বৌদ্ধ সার্কিটের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজ্য সরকারের মতে, জেওয়ার বিমানবন্দরের নতুন নামকরণের প্রস্তাব উত্তরপ্রদেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ। বিমানবন্দরটি রাজ্যের অর্থনীতি, শিল্প ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে এর পরিকাঠামো, পরিষেবা এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পাঞ্চলের বিকাশের উপর।

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More