সকাল সকাল ডেস্ক
মুম্বই। ভারতীয় শেয়ার বাজারে পতনের ধারা যেন থামছেই না। টানা আট সপ্তাহ ধরে নিম্নমুখী সেনসেক্স ও নিফটি। প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে এত দীর্ঘ সময় ধরে টানা সাপ্তাহিক পতন দেখেনি দেশের শেয়ার বাজার। এই আট সপ্তাহেই বিনিয়োগকারীদের সম্পদ কমেছে ২৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। বাজারে চাপ বাড়ানোর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রি।
বৃহস্পতিবারও বাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। দিনের শেষে সেনসেক্স ৫৭০ পয়েন্টের বেশি হারিয়ে ৭১,৯০৯-এর ঘরে থামে। নিফটি কমে প্রায় ১৯৮ পয়েন্ট। এর ফলে চলতি সপ্তাহে নিফটির পতন প্রায় ৩.১ শতাংশ এবং সেনসেক্সের প্রায় ২.৭ শতাংশ। সেপ্টেম্বরেও দুই প্রধান সূচক প্রায় ৬ শতাংশ করে নেমেছিল।
গত আট সপ্তাহের পরিসংখ্যান আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই সময় নিফটি প্রায় ৮.৭ শতাংশ এবং সেনসেক্স প্রায় ৮.৪ শতাংশ হারিয়েছে। পয়েন্টের হিসাবে সেনসেক্সের পতন প্রায় ৬,৫৯০ এবং নিফটির প্রায় ২,১৪৯ পয়েন্ট। একই সময়ে বিএসই-তে নথিভুক্ত সংস্থাগুলির সম্মিলিত বাজার মূলধন ২৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি কমে ৪৬৭ লক্ষ কোটি টাকার নীচে নেমেছে।
বাজারের উপর সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করেছে বিদেশি পুঁজির বহির্গমন। ১ অক্টোবর এক দিনেই বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীরা প্রায় ৯,৪৮৪ কোটি টাকার শেয়ার নিট বিক্রি করেছেন। তার আগের তিনটি অধিবেশন মিলিয়ে মাত্র চার দিনেই বিদেশি লগ্নিকারীদের নিট বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৩৪,৯৬৫ কোটি টাকা।
বিদেশি লগ্নিকারীদের বিক্রির বিপরীতে বাজারকে কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নিকারীরা। ১ অক্টোবর তাঁরা প্রায় ১০,০৪২ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। তবে বিদেশি পুঁজির ধারাবাহিক বহির্গমনের চাপ পুরোপুরি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। সেপ্টেম্বর মাসেও ভারতীয় শেয়ার থেকে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়ার হিসাব সামনে এসেছে।
বিদেশি লগ্নিকারীদের এই প্রবণতার পিছনে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিকেই অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার পর্যবেক্ষকেরা। মার্কিন সরকারি বন্ডের ইয়িল্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় তুলনামূলক কম ঝুঁকির বিনিয়োগের দিকে পুঁজি সরার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফলে ভারতের মতো উদীয়মান বাজারে বিদেশি লগ্নির উপর চাপ বাড়ছে।
এর পাশাপাশি উদ্বেগ বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার আবহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ফের ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে পৌঁছেছে। তেল আমদানিনির্ভর ভারতের ক্ষেত্রে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি আমদানি খরচ এবং মূল্যস্ফীতির উপর চাপ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে ডলারের বিপরীতে টাকার দুর্বলতাও বাজারের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ভারতীয় মুদ্রা ডলার প্রতি ৯৬.৩১ টাকার কাছাকাছি নেমেছে।
এই পরিস্থিতিতে বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে কয়েকটি বিষয়ের দিকে নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের। বিদেশি পুঁজির বহির্গমন কমে কি না, মার্কিন বন্ডের ইয়িল্ড কোন দিকে যায়, অপরিশোধিত তেলের দাম কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ডলারের বিপরীতে টাকা ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না—এই বিষয়গুলিই আগামী দিনে বাজারের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
No Comment! Be the first one.