সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি: ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে শুক্রবার ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মাঝ-আকাশে গুরুতর আহত হয়েও যাত্রীদের জীবন রক্ষায় তাঁর সাহসিকতা, ধৈর্য এবং উপস্থিত বুদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভিডিও কলে কথোপকথনের সময় ক্যাপ্টেন মাচ্ছার ককপিটে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানান। তিনি বলেন, আহত হওয়ার পরেও তাঁর মনে হয়েছিল বিমানের সমস্ত যাত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। সেই কর্তব্যবোধ থেকেই তিনি কঠিন পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন এবং যাত্রীদের প্রাণ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রী যখন জানতে চান, এত কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি সাহস পেলেন কোথা থেকে, তখন মাচ্ছার জানান, কঠিন সময়ে তিনি নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করেন। ঘটনার সময়ও তিনি মনে মনে হনুমান চালিশা পাঠ করছিলেন। তাঁর বিশ্বাস, ভগবান হনুমানই তাঁকে এই কঠিন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের রক্ষা করার সাহস জুগিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ক্যাপ্টেন মাচ্ছার। তিনি জানান, গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজের মনোবল হারাননি এবং শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের নিরাপদে রাখার চেষ্টা করে গিয়েছেন। তাঁর কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী তাঁর অসাধারণ ধৈর্য ও সাহসের প্রশংসা করেন।
মাচ্ছারের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং কর্তব্যনিষ্ঠার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোটা দেশ তাঁকে নিয়ে গর্বিত। তিনি বলেন, “আমরা ভারতীয়রা কারও জীবন নিই না, আমরা প্রাণ বাঁচাই।” পাশাপাশি ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের মা গীতা দেবীর প্রতিও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছেলেকে দৃঢ় সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও সংস্কারে বড় করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর মায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ককপিটের ভিতরে ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন তাঁর সহকারী পাইলট। বিমানটিকে বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও গুরুতর আহত অবস্থায় মাচ্ছার অসীম সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করিয়ে শতাধিক যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করেন তিনি।
ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের জীবন রক্ষা করে তিনি যে কর্তব্যনিষ্ঠা ও সাহসের নজির স্থাপন করেছেন, তার প্রশংসা করেছেন বিভিন্ন মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
No Comment! Be the first one.