সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল পরিষেবা চালুর দিনেই ভারতে স্টারলিংকের যাত্রা বিলম্বিত হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি তথা স্পেসএক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক। ভারতের কয়েকজন প্রভাবশালী ধনকুবের নিজেদের ব্যবসায়িক আধিপত্য বজায় রাখতে স্টারলিংকের পরিষেবা চালুর পথে বাধা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। যদিও মাস্কের এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে ভারত সরকার। নয়াদিল্লির দাবি, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কোনও সংস্থার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে না।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের জবাবে মাস্ক এই মন্তব্য করেন। ওই পোস্টে ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দিতে স্টারলিংকের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে দাবি করা হয়, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ভারতের ১১ হাজার ২৫৬টি গ্রাম ফোর-জি নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে ছিল। এর জবাবে মাস্ক অভিযোগ করেন, কিছু প্রভাবশালী ধনকুবের ভারতীয় গ্রাহকদের উপর নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে স্টারলিংকের পরিষেবা আটকে রাখছেন। তবে তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি।
ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার বাজারে স্টারলিংকের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে ভারতী গ্রুপ-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং রিলায়েন্স জিও-সমর্থিত জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস। রিলায়েন্স জিওর কর্ণধার মুকেশ আম্বানি এবং ভারতী গ্রুপের প্রধান সুনীল মিত্তাল। এই দুই সংস্থাও স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ পরিষেবার বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তবে মাস্কের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পপতিদের সরাসরি যোগসূত্রের কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি।
অন্যদিকে, ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রক মাস্কের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। মন্ত্রকের বক্তব্য, লাইসেন্সপ্রাপ্ত তিনটি সংস্থাই নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে সংস্থাগুলির নিরাপত্তাসংক্রান্ত মূল্যায়ন চলছে। ফলে কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তার বাস্তব ভিত্তি নেই।
ভারতে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই অপেক্ষা করছে স্টারলিংক। গত বছরের জুনে সংস্থাটি টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স পেলেও নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন এখনও বাকি রয়েছে। সম্প্রতি ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসে স্টারলিংকের বিজনেস অপারেশনস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার জানান, ভারতে ইতিমধ্যেই ২০টি গেটওয়ে কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। সেখানে শতাধিক অ্যান্টেনাও বসানো হয়েছে। ভারতের নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত মেনেই পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, বুধবারই বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ সংস্থা বাংলালিংকের সহযোগিতায় স্টারলিংক-নির্ভর স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল পরিষেবা চালু হওয়ার খবর সামনে আসে। দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই ধরনের পরিষেবা চালু করেছে। প্রতিবেশী দেশে পরিষেবা শুরু হলেও ভারতে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় মাস্কের অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে ভারত সরকারের নীতি এবং বেসরকারি সংস্থাগুলির প্রতিযোগিতা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
No Comment! Be the first one.