উদ্ধারকাজে প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক
পাটনা ও বৈশালী : বিহারের বৈশালী জেলার রাঘোপুরে গঙ্গায় নৌকাডুবির ঘটনায় ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে রামপুর শ্যামচাঁদ পঞ্চায়েতের আট নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পাশের গ্রামে শ্রাদ্ধের ভোজে যোগ দিতে নৌকায় করে নদী পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। মাঝনদীতে নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর পুলিশ, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) এবং স্থানীয় ডুবুরিরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণাও করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা রবি যাদব বুধবার সকালে নৌকাটির বেহাল অবস্থা নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, রাঘোপুর ব্লকের রামপুর শ্যামচাঁদ পঞ্চায়েতের আট নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পাশের গ্রামে শ্রাদ্ধের ভোজে যোগ দিতে নৌকায় করে নদী পার হচ্ছিলেন। মাঝস্রোতে পৌঁছনোর পর নৌকাটি ভেঙে ডুবে যায়।

রবি যাদব জানান, দুর্ঘটনার সময় তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা একযোগে উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। খাটিয়া ও দড়ির সাহায্যে জলে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিদের টেনে তোলা হয়। পরে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর দাবি, প্রাণ বাঁচানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হলেও সকলকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
রবি যাদবের আরও অভিযোগ, নৌকাটির জরাজীর্ণ অবস্থা সম্পর্কে রাঘোপুরের সার্কেল অফিসার দীপক কুমারকে আগেই জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দুর্ঘটনার খবর দেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পরে প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন বলেও দাবি করেছেন তিনি। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিকাঠামো ও পরিষেবার অভাব ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন রবি যাদব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য জানা যায়নি।
বুধবার বৈশালীর জেলাশাসক বর্ষা সিং জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পাওয়ার পরই উদ্ধারকাজ শুরু হয়। এসডিআরএফের একটি দল স্থানীয় ডুবুরিদের সহযোগিতায় নদীতে তল্লাশি চালায়। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে সাতজন একই পরিবারের সদস্য। প্রত্যেকের বয়স ১৫ বছর বা তার কম। উদ্ধার হওয়া সাতজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান জেলাশাসক।
পুলিশ মৃতদের মধ্যে পিঙ্কি কুমারী, অঙ্কিতা কুমারী, সুনীতা কুমারী, আরিয়ান কুমার, আলিশা কুমারী, শিকি কুমারী, ভোনু কুমারী, মীরা কুমারী এবং নমন কুমারের পরিচয় জানিয়েছে। তাঁরা সকলেই রামপুর শ্যামচাঁদ গ্রামের বাসিন্দা।

এই ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বৈশালীতে নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারপিছু এককালীন দু’লক্ষ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীও ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে নিহতদের পরিবারপিছু চার লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা জানিয়েছেন। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা এবং উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নৌকাটির বেহাল অবস্থা সম্পর্কে আগাম অভিযোগ করা হয়েছিল কি না এবং দুর্ঘটনার পর উদ্ধার ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
No Comment! Be the first one.