১০ বছরে ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করেছে ভারত: প্রধানমন্ত্রী

সকাল সকাল ডেস্ক

নয়াদিল্লি : গত দশ বছরে ভারতে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছেন বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি সুশাসন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং জনকল্যাণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, সরকারের ক্ষমতার মূল উদ্দেশ্য নাগরিকদের ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল করে রাখা নয়, বরং তাঁদের আত্মনির্ভর ও সক্ষম করে তোলা।

মঙ্গলবার ভাষণে ক্ষমতা, সম্পদ ও জ্ঞানের যথাযথ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন মোদী। তিনি বলেন, জ্ঞান, সম্পদ কিংবা ক্ষমতা—যাঁর হাতেই থাকুক না কেন, সেগুলি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতার সার্থকতা তার উদ্দেশ্যের মধ্যেই নিহিত। ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যেও এই শিক্ষা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এই দর্শনকে দেশের শাসনব্যবস্থা ও কর্মসংস্কৃতিতে প্রয়োগ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর মতে, সরকারের হাতে কর্তৃত্ব থাকলেও সেই ক্ষমতার লক্ষ্য হওয়া উচিত নাগরিকদের আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করে তোলা। এই নীতির ভিত্তিতেই গত এক দশকে ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই সংখ্যাটি বিশ্বের বহু দেশের সম্মিলিত জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।

জনকল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার

ভাষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতে আয়োজিত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্মেলনে মানবকল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি পশুপাখি ও সামগ্রিক প্রাণীজগতের কল্যাণে এই প্রযুক্তিকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

মোদীর মতে, প্রযুক্তির উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং বৃহত্তর মানবকল্যাণেও তার ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। ভারত যত বেশি সক্ষম ও আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে, ততই বিশ্ব ও মানবজাতির উপকার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সুশাসন ও আত্মনির্ভরতার ওপর জোর

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সুশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের কাজ শুধু পরিষেবা দেওয়া নয়, বরং নাগরিকদের নিজেদের উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করে দেওয়াও। সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক নীতি এবং প্রযুক্তির প্রয়োগকে জনকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেন তিনি।

ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে দারিদ্র্য বিমোচন, আত্মনির্ভরতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের বিষয়গুলি উঠে আসে। তাঁর বক্তব্য, ভারতের অগ্রগতির সুফল যেন নাগরিকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় এবং সেই উন্নয়ন বৃহত্তর মানবকল্যাণেও অবদান রাখে।

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More