সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি : আসন্ন শীতের মরশুমে রাজধানীর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিল দিল্লি প্রশাসন। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ভূপেন্দর যাদব এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত যৌথভাবে ১৫০টি নতুন বৈদ্যুতিক বাসের যাত্রার সূচনা করেন। পাশাপাশি পাঁচটি নতুন গণ-চার্জিং কেন্দ্র এবং বায়ুর গুণমানের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য ১৩টি নতুন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
দূষণ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দর যাদব দিল্লির বায়ুদূষণ মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তের নেতৃত্বে রাজধানীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সম্প্রতি দিল্লির দূষণপ্রবণ এলাকাগুলির জন্য ১১ দফা কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বায়ুর মান পর্যবেক্ষণে জোর
বায়ুর গুণমানের সূচক বা একিউআই-এর পরিসংখ্যান তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দাবি করেন, গত ৩০ আগস্ট দিল্লির একিউআই যেখানে ৪৩০ ছিল, ধারাবাহিক পদক্ষেপের ফলে তা কমে ৯২-তে নেমে এসেছে। তবে এই পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট সময়ের পরিস্থিতির প্রতিফলন। দিল্লির বায়ুর মানের সামগ্রিক চিত্র বুঝতে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ১৩টি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র চালু হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার দূষণের মাত্রা সম্পর্কে আরও ধারাবাহিক তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে দূষণের পরিস্থিতি শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে প্রশাসনের সুবিধা হতে পারে।
পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণে গুরুত্ব
দিল্লির গণপরিবহণ ব্যবস্থায় ১৫০টি নতুন বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত হওয়ায় পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারিত হল। পাশাপাশি পাঁচটি নতুন গণ-চার্জিং কেন্দ্র চালু হওয়ায় বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জ দেওয়ার সুযোগও বাড়বে।
শীতের মরশুমে দিল্লিতে বায়ুদূষণ প্রায়ই বড় সমস্যা হয়ে ওঠে। যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলো এবং অন্যান্য দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। নতুন বাস, চার্জিং কেন্দ্র এবং বায়ুমান পর্যবেক্ষণ পরিকাঠামো সেই উদ্যোগের অংশ। তবে দূষণ নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপগুলির প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে ধারাবাহিক বাস্তবায়ন, দূষণের বিভিন্ন উৎসের ওপর নজরদারি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর।
No Comment! Be the first one.