সকাল সকাল ডেস্ক
যোধপুর : ভারত ও জাপানের সামরিক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল রাজস্থানের যোধপুর বায়ুসেনা ঘাঁটিতে। চলতি দ্বিপাক্ষিক বায়ুসেনা মহড়া ‘বীর গার্ডিয়ান ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হালকা যুদ্ধবিমান এলসিএ তেজসে একসঙ্গে উড়ান দিলেন ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং এবং জাপান এয়ার সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের চিফ অফ স্টাফ জেনারেল তাকেহিরো মোরিতা।
যোধপুর বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ যৌথ মহড়া চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভারত ও জাপানের বায়ুসেনার মধ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অনুশীলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তেজস বিমানে উড়ান শেষে ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশেষ করে জাপানি যুদ্ধবিমান এই প্রথম ভারতের মাটি থেকে যৌথ অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়টিকে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং বলেন, ২০২৪ সালের ‘তরঙ্গ শক্তি’ মহড়ার সময় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জাপানি যুদ্ধবিমান ভারতে পৌঁছতে পারেনি। তবে এবার সেই সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সংস্কৃত শ্লোক ‘আপৎসু মিত্রম’-এর উল্লেখ করে বায়ুসেনা প্রধান বলেন, বিপদের সময় যে পাশে থাকে, সেই প্রকৃত বন্ধু। ভারত ও জাপানের বায়ুসেনার সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পেশাদার আস্থা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মুক্ত, অবাধ এবং নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারত ও জাপানের অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণে দুই দেশের বায়ুসেনার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং নিয়মিত যৌথ মহড়া কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
‘বীর গার্ডিয়ান ২০২৬’-এর মতো যৌথ অনুশীলনের মাধ্যমে দুই দেশের বায়ুসেনার পারস্পরিক বোঝাপড়া, সমন্বয় এবং পেশাদার দক্ষতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
No Comment! Be the first one.