যুব সমাজকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করায় জোর দিয়েছে ভারত সরকার : প্রধানমন্ত্রী

সকাল সকাল ডেস্ক

নয়াদিল্লি : দেশের যুবসমাজকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করতে কেন্দ্রীয় সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার ২০তম রোজগার মেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় নবনিযুক্ত ৫১ হাজারেরও বেশি যুবক-যুবতীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে উৎসবের মরশুম শুরু হয়েছে। এই উৎসবের আবহে হাজার হাজার পরিবারের জীবনে নতুন আনন্দের সূচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে ৫১ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণী সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র পাচ্ছেন। এমন এক সময়ে তাঁরা ভারত সরকারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, যখন দেশ ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। এই লক্ষ্য পূরণে যুবসমাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্তদের উদ্দেশে বলেন, সরকারের অংশ হিসেবে তাঁদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত যেন ‘বিকশিত ভারত’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর অভিযানকে আরও শক্তিশালী করে। একইসঙ্গে তরুণদের নিজেদের সহযাত্রী যুবসমাজের প্রতিও বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দেশের যুবসমাজের প্রতিভা ও দক্ষতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় তরুণদের সক্ষমতা বর্তমানে বিশ্বের আস্থা অর্জন করেছে। উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং যুবশক্তির কাছ থেকে বিশ্বের প্রত্যাশাও ক্রমশ বাড়ছে।

সম্প্রতি শেষ হওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত চেষ্টা করেছে যাতে ব্রিকসের সহযোগিতা কেবল সরকারগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। উদ্যোক্তা, কৃষক, মহিলা এবং যুবসমাজকেও এই সহযোগিতার সক্রিয় অংশীদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ভাবনা থেকেই ‘ব্রিকস কানেক্ট’ এবং ‘ব্রিকস এমএসএমই কো-অপারেশন পোর্টাল’-এর মতো উদ্যোগ চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে ভারত প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিগুলি দেশের যুবসমাজের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন অংশীদারিত্ব তৈরি হচ্ছে, নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ছে এবং তরুণদের জন্য কর্মজীবনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

যুবসমাজকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষা নীতি, স্কিল ইন্ডিয়া মিশন, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা এবং শিক্ষানবিশ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার মতো বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে যুবকদের শিক্ষা ও দক্ষতাকে পরিবর্তনশীল অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার চেষ্টা চলছে।

এরই একটি উদাহরণ হিসেবে ‘পিএম সেতু’ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে ১,০০০টি সরকারি আইটিআই আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়ায় শিল্পক্ষেত্রের সরাসরি অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী যুবকদের দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগও আরও বাড়বে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

Read More News

Read More