সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা
ধর্মতলায় নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সমর্থনে আয়োজিত মিছিল ঘিরে সংঘর্ষ, পুলিশের উপর হামলা এবং সাংবাদিকদের নিগ্রহের ঘটনায় তদন্তে গতি এনেছে কলকাতা পুলিশ। রবিবার আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ছাত্র নন, বরং তাঁদের একাংশ ‘জামাতি’ ও ‘মৌলবাদী’। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও বার্তা দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্মতলার বিক্ষোভ চলাকালীন একদল দুষ্কৃতী পুলিশের দিকে জলের বোতল, জুতো এবং অন্যান্য বস্তু ছুড়ে পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে। সেই সময় কর্তব্যরত সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিকদের উপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় একাধিক সাংবাদিক আহত হন। পরে মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।
এই ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছয়টি এবং এন্টালি থানায় একটি-সহ মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। সবকটি মামলায় গুন্ডাদমন আইনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে রয়েছেন কড়েয়ার শাহবাজ খান, রাজাবাগানের শেখ মহম্মদ সলমান হোসেন এবং ভাঙড়ের মহম্মদ জহিরউদ্দিন মোল্লা। এর আগে মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজকে অন্ডালের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, তাঁরা ভিনরাজ্যে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।
রবিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ঘটনায় ধৃতদের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ, যেমন খারিজি মাদ্রাসা সংক্রান্ত তদন্ত, ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা, পশু আইন ও সাউন্ড পলিসি বাস্তবায়নের ফলে ক্ষুব্ধ কিছু গোষ্ঠী অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও জানান, ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রায় ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধর্মতলা কাণ্ডের তদন্ত এখনও চলছে। পুলিশের দাবি, হামলার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও বৃহত্তর সংগঠিত চক্র বা পরিকল্পিত উস্কানির যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাও ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
No Comment! Be the first one.