সকাল সকাল ডেস্ক
ঝাল বা অতিরিক্ত মশলাদার খাবার খেলেই অনেকের হেঁচকি শুরু হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, দ্রুত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা খাবার, এমনকি দীর্ঘক্ষণ হাসা বা কান্নার পরও হেঁচকি উঠতে পারে। সাধারণত জল খেলেই অনেকে স্বস্তি পান, তবে সবসময় তা কার্যকর হয় না। চিকিৎসকদের মতে, হেঁচকির আসল কারণ জানা থাকলে তা থামানোও সহজ হয়।
কেন ওঠে হেঁচকি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেঁচকি মূলত ডায়াফ্রামের আকস্মিক ও বারবার সংকোচনের ফল। ডায়াফ্রাম হলো বুক ও পেটের মাঝখানে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশি, যা শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করে। এই পেশি হঠাৎ সংকুচিত হলে ফুসফুসে দ্রুত বাতাস ঢোকে। একই সময়ে স্বরযন্ত্রের গ্লটিস অংশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাতাসের প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং ‘হিক’ শব্দের সৃষ্টি হয়।
হেঁচকির সাধারণ কারণ
হেঁচকি ওঠার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। যেমন—
- খুব দ্রুত বা অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার খাওয়া।
- অতিরিক্ত ঝাল, গরম বা ঠান্ডা খাবার খাওয়া।
- কার্বোনেটেড বা সোডাযুক্ত পানীয় পান করা।
- খাওয়ার সময় অতিরিক্ত বাতাস পেটে ঢুকে যাওয়া।
- ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস।
কীভাবে থামাবেন হেঁচকি?
চিকিৎসকদের মতে, ‘টাং পুল মেথড’ অনেকের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। এই পদ্ধতিতে মুখ যতটা সম্ভব বড় করে খুলে জিভ বাইরে বের করে ৩ থেকে ৫ সেকেন্ড ধরে রাখতে হয়। প্রয়োজনে হাত দিয়ে জিভ আলতোভাবে ধরে রাখা যেতে পারে। এভাবে ১০ থেকে ১৫ বার করলে ডায়াফ্রামের সংকোচন কমতে পারে।
কিছু ঘরোয়া উপায়
হেঁচকি কমাতে কয়েকটি সহজ উপায়ও কাজে লাগতে পারে—
- লেবুর রস: জিভে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিলে টক স্বাদ ভ্যাগাস নার্ভকে উদ্দীপিত করে হেঁচকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
- ঝাল সস: অল্প পরিমাণ হট সস জিভে দিলে অনেকের ক্ষেত্রে হেঁচকি থেমে যেতে পারে।
- পিনাট বাটার: আধ চা চামচ পিনাট বাটার ধীরে ধীরে মুখে রেখে খেলে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। বিকল্প হিসেবে অল্প মাখনের সঙ্গে চিনি মিশিয়েও খাওয়া যায়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যে হেঁচকি নিজে থেকেই থেমে যায়। তবে যদি হেঁচকি ৪৮ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়, বারবার ফিরে আসে বা খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমের সমস্যা তৈরি করে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এই প্রতিবেদনটি চাইলে আরও এসইও-ফ্রেন্ডলি, গুগল ডিসকভার উপযোগী বা প্রিন্ট মিডিয়া স্টাইলেও সাজিয়ে দিতে পারি।
No Comment! Be the first one.