সকাল সকাল ডেস্ক
তেহরান/রিয়াদ/ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। লোহিত সাগরে সৌদি আরবের মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। একই সময়ে ইরানে টানা ১২তম রাতেও বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান।
সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি
লোহিত সাগরে সৌদি আরবের মালিকানাধীন ‘এনসেলিয়া’ এবং ‘লায়লা’ নামে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী। সৌদির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ, সাধারণ পরিবহণ কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হুথিদের দাবি, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়, যার ফলে দুই জাহাজেই আগুন লাগে এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়। গোষ্ঠীটির বক্তব্য, ইয়েমেনের ওপর দীর্ঘদিনের অবরোধের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
টানা ১২তম রাতেও ইরানে মার্কিন হামলা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, টানা ১২তম রাতেও ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, অভিযানে নৌ সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক কার্যকলাপেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং একটি জাহাজকে অচল করে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী কোনও জাহাজে ইরান হামলা চালালে তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ট্রাম্প লিখেছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা অন্য কোনও অস্ত্র দিয়ে হামলা হলে তার জবাব সরাসরি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দেওয়া হবে।
ইরানের পাল্টা বার্তা
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন হুঁশিয়ারির পাল্টা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের নীতি ‘চোখের বদলে চোখ’। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনও আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে এবং যারা এ ধরনের অভিযানে সহযোগিতা করবে, তাদেরও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও দাবি করেছে, মার্কিন হুমকি কার্যকর হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
নতুন হামলার দাবি, নিহতের খবর
ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, বুশেহর, খুজেস্তান-সহ একাধিক এলাকায় নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুশেহরের একটি সামরিক স্থাপনায় দু’দফা হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া খুজেস্তানের আন্দিমেস্ক এলাকার উপকণ্ঠেও হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইরাক-ইরান সীমান্তের সালামচেহ সীমান্ত ক্রসিং এলাকায় পৃথক হামলায় অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন। তবে এসব ঘটনার স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি
ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, পশ্চিম কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প দোহায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, গোলাবারুদের ডিপো এবং স্থলবাহিনীর রসদ সংরক্ষণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে ইরান বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও দ্রুত বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে মার্কিন ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও ৮৮ ডলারের উপরে উঠে গেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
No Comment! Be the first one.