সকাল সকাল ডেস্ক
ঢাকা: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন বলে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। কালের কণ্ঠ-সহ বিভিন্ন প্রতিবেদনে সূত্র উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার কথা বিবেচনা করছেন। তবে বুধবার রাত পর্যন্ত বঙ্গভবন বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। যদিও এই দাবির স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
সূত্রের দাবি, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা এক সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এর আগে বিএনপির প্রবীণ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আবদুল মঈন খানের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রাজনৈতিক মহলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
তবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনও আলোচনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তাঁর কথায়, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন নাম সামনে আসে, কিন্তু এ বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে জাতীয় সংসদের স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। বর্তমানে সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। কারণ তাঁর কার্যকালের মধ্যেই বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতির প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বঙ্গভবন-ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মীদের সরকারি বাসভবন ছাড়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রাম নিতে পারেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন বলেও ওই সূত্রের দাবি। তবে এই তথ্যেরও কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং তাঁর সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহাবুদ্দিন দায়িত্বে বহাল ছিলেন। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও তাঁকে সরানো হয়নি। তবে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ঘোষণা না আসায় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল। আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক জল্পনা হিসেবেই দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।
No Comment! Be the first one.