সকাল সকাল ডেস্ক
কিয়েভ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে পুনরায় হামলা চালানোর ঘোষণা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটনের অনুরোধে ইউক্রেন তিন দিনের জন্য রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখলেও মস্কো সেই সময় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিকাঠামোয় আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। ফলে একতরফাভাবে সংযম দেখানোর আর কোনও যৌক্তিকতা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যানশিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি স্পষ্ট জানান, রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা আর হামলা বন্ধ রাখছি না। আমাদের আর সহ্য করার কোনও কারণ নেই।’’
সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ সংক্রান্ত চুক্তি এবং রুশ ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করার মার্কিন সিদ্ধান্ত ঘিরে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়ে ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও স্বার্থকে উপেক্ষা করছে আমেরিকা। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের একাংশের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত শনিবার ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে নতুন বিতর্ক উসকে দেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইউক্রেনে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় এসেছে। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছেন। ইউক্রেনের এমন একজন নেতা প্রয়োজন, যিনি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ অবসানের চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান জেলেনস্কি। তাঁর দাবি, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইউক্রেনের ওপর কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে মস্কো পরিকল্পিতভাবে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিশেষত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি।
জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সৎ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আগ্রাসনকারীর পাশে না দাঁড়িয়ে ইউক্রেনকে সমর্থন করার আহ্বান জানান তিনি।
ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন-রাশিয়া চুক্তি নিয়ে নিজের অসন্তোষও স্বীকার করেন জেলেনস্কি। তবে তিনি জানান, বিষয়টি ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা আবেগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। চলমান এই কূটনৈতিক বিরোধ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
No Comment! Be the first one.