সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা : প্রাচীন রামমন্দিরের সুদৃশ্য স্থাপত্য ও আধ্যাত্মিকতার আবহে এবার সেজে উঠেছে মধ্য কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় পুজো উদ্যোক্তা মহম্মদ আলি পার্ক ইউথ অ্যাসোসিয়েশনের দুর্গাপূজা। ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের হাত ধরে কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী পুজোটি চলতি বছরে তাদের ৫৮তম বর্ষে পদার্পণ করল। মহাত্মা গান্ধী (এমজি) রোড মেট্রো স্টেশনের সংলগ্ন এই পুজো প্রাঙ্গণ এখন নিখুঁত ভারতীয় স্থাপত্যশৈলী ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।বৃহস্পতিবার এই জমকালো দুর্গোৎসবের উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, বিজেপির রাজ্য সভাপতি, প্রবীণা প্রাক্তন কাউন্সিলর মীনা দেবী পুরোহিত এবং সমাজসেবী তথা সংগঠনের সহ-সভাপতি বিনয় দুবে সহ সমাজের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফিতে কেটে উৎসবের শুভ সূচনা করেন তাঁরা।শিল্পী চিরঞ্জীবের নিপুণ তত্ত্বাবধানে মূলত বাঁশ এবং প্লাইউডের সাহায্যে বিশাল এই মণ্ডপটি নির্মাণ করা হয়েছে। মণ্ডপের অন্দরে সুনিপুণ কারুকাজের মাধ্যমে মহাকাব্য রামায়ণের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা এবং রামচন্দ্রের জীবনের নানা উল্লেখযোগ্য অধ্যায় শৈল্পিক রূপ দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতিমা শিল্পী কুশ বেরার সুহাতে গড়া দেবী দুর্গার প্রতিমাটিতে পাথরের মতো টেক্সচার ও মার্বেলের উজ্জ্বল আভা দেওয়া হয়েছে, যা মণ্ডপের গাম্ভীর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, বিশিষ্ট আলোক শিল্পী গণেশ মণ্ডলের সুপরিকল্পিত আলোর রোশনাই মণ্ডপের প্রতিটি সূক্ষ্ম কারুকাজকে আরও বেশি জীবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র কুমার শর্মা এপ্রসঙ্গে জানান যে, ভক্তিভাব ও উন্নত শিল্পকলার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে দর্শনার্থীদের সম্পূর্ণ এক নতুন ও মনমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্বনামধন্য ক্লাবটি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কলকাতার দুর্গাপূজার মানচিত্রে নিজেদের বিশেষ স্বাতস্ত্র্য বজায় রেখে চলেছে।
No Comment! Be the first one.