খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা, তেহরান কে চালাচ্ছে, প্রশ্ন ট্রাম্প-ভ্যান্সের

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর দেশটির ক্ষমতার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা মার্কিন-ইরান সংঘাতের মধ্যেও তেহরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ওয়াশিংটন পুরোপুরি নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন ভ্যান্স। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর শর্ত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

সোমবার সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, শুধু ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেই চলবে না। ইরানকে বাস্তবে এমন পদক্ষেপ নিতে হবে, যার মাধ্যমে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্থবহ মাত্রায় হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তাঁর বক্তব্য, চলমান সংঘাতের অবসানে এই শর্ত পূরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল দেশটির প্রকৃত শাসনক্ষমতা কার হাতে রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তাঁর দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের প্রথম সারির অধিকাংশ শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। এমনকি দ্বিতীয় সারির নেতৃত্বও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্পের কথায়, বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, ইরানকে আসলে কে পরিচালনা করছে।

ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সংশয় অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও ট্রাম্প ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইর শারীরিক অবস্থা এবং দেশ পরিচালনায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দীর্ঘদিন জনসমক্ষে তাঁর অনুপস্থিতি ঘিরেও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। যদিও তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা কিংবা অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

তবে মার্কিন প্রশাসনের এই সমস্ত দাবি সরাসরি খারিজ করেছে ইরান। তেহরানের বক্তব্য, মোজতবা খামেনেই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার মধ্যেও দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো স্বাভাবিক নিয়মেই পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি ইরানি কর্তৃপক্ষের।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচির সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। তবে সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরানের ক্ষমতার কাঠামোয় তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কতটা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ভ্যান্সের বক্তব্য, ইরানের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি কীভাবে নেওয়া হচ্ছে, সেই প্রক্রিয়া পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

এদিকে, ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন খুব ভালোভাবেই জানে ইরানে কারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং দেশটির প্রশাসনিক ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হয়। তাঁর অভিযোগ, ইরানের নেতৃত্বে কোনও শূন্যতা নেই। বরং মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং অসংলগ্ন অবস্থানের কারণেই বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা বাস্তবিক অর্থেই কমাতে হবে। কেবল কূটনৈতিক আশ্বাস বা ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতিকে যথেষ্ট বলে মনে করছে না ওয়াশিংটন।

বিদেশে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিয়ে বরাবরই সংশয় প্রকাশ করে এসেছেন ভ্যান্স। বর্তমান সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক আলোচনায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এর আগে জুন মাসে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থায়ী হয়নি।

দীর্ঘ সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর রিপাবলিকান দলের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।

তবে শান্তি আলোচনায় তিনি প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন কি না, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি ভ্যান্স। তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসন আলোচনার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সামগ্রিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতেই রয়েছে।

ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে ওয়াশিংটনের সংশয় এবং তেহরানের পাল্টা অবস্থানের মধ্যে দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও সমঝোতা সম্ভব হবে কি না এবং দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটবে কি না, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More