সকাল সকাল ডেস্ক
ইসলামাবাদ/কাবুল: পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ফের উত্তেজনা বেড়েছে। সোমবার আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আফগান সরকারের দাবি, হামলায় অন্তত তিনজন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসলামাবাদের দাবি, জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছে এবং তাতে ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। ফলে হামলায় হতাহতের সংখ্যা এবং পরিচয় নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।
এই হামলা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরেও পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়ছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পাকিস্তান যদি ইয়েমেনের সংঘাতে সৌদি আরবের পক্ষে সরাসরি সামরিকভাবে যুক্ত হয়, তা হলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে আলোচনায় এসেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে মক্কায় স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে তিন দেশের কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলাকে সংশ্লিষ্ট তিন দেশের উপর হামলা হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। যদিও পাকিস্তান জানিয়েছে, এই চুক্তি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনও নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।
হুথিদের সৌদি-বিরোধী তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এর আগে জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের উপর হামলা অব্যাহত থাকলে মক্কা চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে ইয়েমেনের সংঘাতে পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।
ঠিক এই সময়েই আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা নতুন করে সীমান্ত পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের ভিতরে হামলা চালাচ্ছে। কাবুলের তালিবান সরকার অবশ্য বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের উপর একাধিক হামলার পর আফগানিস্তানের উপর ইসলামাবাদের চাপ আরও বেড়েছে।
এদিকে, ‘আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল’-এর উদ্ধৃত নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, হুথিদের মাধ্যমে পাকিস্তানকে ইয়েমেনের সংঘাতে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে, যাতে পাকিস্তানের সামরিক নজর আফগান সীমান্ত থেকে অন্যদিকে সরানো যায়। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে কোনও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর সম্ভাব্য সামরিক দায়বদ্ধতার মুখে পাকিস্তান কি আফগান সীমান্তে নিজের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার আরও বাড়াচ্ছে? আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে মক্কা চুক্তির দায় এড়ানোর কোনও পরিকল্পিত কৌশলের সরাসরি যোগসূত্র এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পাকিস্তানের প্রকাশ্য অবস্থান অনুযায়ী, সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ এবং টিটিপির তৎপরতাই আফগানিস্তানে সামরিক অভিযানের প্রধান কারণ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সামনে কার্যত একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একদিকে আফগানিস্তান সীমান্তে টিটিপিকে ঘিরে সংঘাত, অন্যদিকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা। এর সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির দায়বদ্ধতা যুক্ত হওয়ায় ইসলামাবাদের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে পাকিস্তান কোন ক্ষেত্রে কতটা সামরিক ও কূটনৈতিক ভূমিকা নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
No Comment! Be the first one.