সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা: মরসুমের প্রথম কলকাতা ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল মোহনবাগান। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত ডুরান্ড কাপের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে সাহাল আবদুল সামাদের একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে সবুজ-মেরুন শিবির। তবে ফলাফলের বাইরে ম্যাচে দুই দলের পারফরম্যান্সই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে কয়েকটি ভালো আক্রমণ গড়ে তুলেছিল মোহনবাগান। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলকে বেশ ছন্নছাড়া দেখায়। দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে লাল-হলুদের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে সাহাল আবদুল সামাদ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়।
গোল খাওয়ার পর ইস্টবেঙ্গল আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে। বদলি হিসেবে নেমে মোহাম্মদ রশীদ আক্রমণে গতি আনলেও একাধিক সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ম্যাচে আর সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি।
দুই দলই নতুন মরসুমে নতুন কোচের অধীনে খেলছে। ইস্টবেঙ্গলের কোচ আন্তোনিও হাবাস এবং মোহনবাগানের কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস—দু’জনেরই হাতে প্রস্তুতির সময় ছিল খুবই কম। সেই প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায় ম্যাচে। ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব, ঘনঘন ভুল পাস এবং আক্রমণ গঠনে সমন্বয়ের ঘাটতি নজরে আসে।
ফিটনেসও দুই দলের অন্যতম দুর্বল দিক হিসেবে সামনে আসে। ম্যাচের মাঝামাঝি থেকেই অনেক ফুটবলারকে ক্লান্ত দেখায়। ফলে প্রত্যাশিত গতিতে খেলা এগোয়নি এবং দীর্ঘ সময় ম্যাচটি প্রীতি ম্যাচের মতোই নিষ্প্রভ ছিল।
ম্যাচের শুরুতে কোনও দলই প্রথম একাদশে বিদেশি ফুটবলার রাখেনি। পরে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দানি রামিরেজ ও মোহাম্মদ রশীদ এবং মোহনবাগানের হয়ে দেজান দ্রাজিচ মাঠে নামেন। বিদেশি ফুটবলারদের নথিভুক্তিকরণ ও প্রয়োজনীয় অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মাঠের অবস্থাও সমালোচনার মুখে পড়েছে। অসমান ঘাস ও অনুপযুক্ত মাঠের কারণে ফুটবলারদের বারবার সমস্যায় পড়তে হয়েছে। মরসুমের শুরুতেই চোটের ঝুঁকি নিয়েই খেলতে হয়েছে দুই দলের ফুটবলারদের।
ডার্বিতে জয় পেলেও মোহনবাগান এবং হারলেও ইস্টবেঙ্গল—দুই দলকেই আগামী ম্যাচগুলিতে অনেক বেশি ছন্দে ফিরতে হবে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
No Comment! Be the first one.