পাঁচ দিনের মধ্যেই হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের পদ ছাড়লেন ক্যাটি জাকারিয়া, যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন: দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের পদ ছাড়তে হল ক্যাটি জাকারিয়াকে। তাঁর পেশাগত যোগ্যতা, আইনজীবী হিসেবে পরিচয় এবং প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের জেরেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জাকারিয়াকে পদে থাকা নিয়ে পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে তাঁকে সরাসরি বরখাস্ত করা হয়েছে, নাকি তিনি নিজেই পদত্যাগ করেছেন, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, সংবাদমাধ্যমের তীব্র সমালোচনার পর তিনি জাকারিয়াকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করতে বলেছিলেন। ট্রাম্পের বক্তব্য, তিনি ক্যাটিকে জানিয়েছিলেন, এই পদে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কোনও বাধ্যবাধকতা তাঁর নেই। তিনি নিজে এমন পরিস্থিতিতে থাকলে পদে থাকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যম জাকারিয়ার প্রতি অতিরিক্ত কঠোর মনোভাব দেখিয়েছে এবং তাঁকে অযথা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত জাকারিয়ার শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন থেকে। ফক্স নিউজ এবং নিউজম্যাক্সের মতো রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমে রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করার সময় তিনি নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আমেরিকার কোনও অঙ্গরাজ্যে আইন পেশায় কাজ করার অনুমতি পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পাশাপাশি, অতীতে চিনে কাজ করার সময় সেখানকার আইন পেশায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করা হয়।

স্বাধীন সংবাদমাধ্যম পপুলার ইনফরমেশনের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জাকারিয়া আমেরিকার কোনও অঙ্গরাজ্যের লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবী নন। এরপর তাঁর পেশাগত পরিচয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় হোয়াইট হাউসকে। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প তাঁকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেন। জবাবে জাকারিয়া চিনে কাজ করার অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুললেও তাঁর ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্কের অবসান হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জাকারিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, তিনি ২০০৭ সালে পেপারডিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০১১ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ডিগ্রি লাভ করেন। নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জাকারিয়ার দাবি, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিয়েই তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেন সংক্রান্ত আইনি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন।

তবে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন এবং কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে আইনজীবী হিসেবে পেশাগত অনুমোদন পাওয়া এক বিষয় নয়। ফলে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি আইন পেশায় কাজ করার অনুমোদন সংক্রান্ত প্রশ্নও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।

প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে জাকারিয়ার বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্ন সামলানোর ধরন নিয়েও সমালোচনা হয়। গত ১৩ অক্টোবর তাঁর প্রথম প্রেস ব্রিফিং মাত্র ১৪ মিনিট স্থায়ী হয়। এরপর আর কোনও আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং করেননি তিনি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

পদ হারানোর পরেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন জাকারিয়া। সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি ট্রাম্পকে দয়ালু, চিন্তাশীল এবং অত্যন্ত পরিশ্রমী ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর প্রশাসনের হয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে সম্মানের বলেও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর স্টিভেন চেউংও জাকারিয়ার দক্ষতা ও মেধার প্রশংসা করেছেন।

প্রেস সচিবের দায়িত্ব পাওয়ার আগে জাকারিয়া ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের যোগাযোগ সংক্রান্ত বিভাগে কাজ করেছেন। চলতি বছরের জুন মাসে তিনি সংস্থাটির সিনিয়র কমিউনিকেশনস উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। এর আগে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগেও কিছুদিন জনসংযোগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

হোয়াইট হাউসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্রের পদে এত অল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তন মার্কিন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষত মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রশাসনের জনসংযোগ ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব কে সামলাবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ক্যাটি জাকারিয়ার পাঁচ দিনের কার্যকাল হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব পদে আধুনিক ইতিহাসের সংক্ষিপ্ততম কার্যকাল হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More