‘সারা রাত ঘুমোতে পারিনি’, সঞ্জু প্রসঙ্গে গম্ভীর

সকাল সকাল ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে প্রথম একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেই সহজ ছিল না। এতটাই কঠিন ছিল সেই সিদ্ধান্ত যে, সারা রাত ঘুমোতে পারেননি ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজের আগে জিওস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সঞ্জু স্যামসনকে বাদ দেওয়া থেকে শুরু করে বৈভব সূর্যবংশীর সুযোগ পাওয়া, শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্ব এবং ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স— একাধিক বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন গম্ভীর।

গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচের পরই প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর জায়গায় ম্যানচেস্টারে অভিষেক হয়েছিল তরুণ বৈভব সূর্যবংশীর। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে কয়েকটি ম্যাচের পরেই বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে সেই সময় ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।

গম্ভীর জানিয়েছেন, কোচিং জীবনে সেটিই ছিল তাঁর অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে তিন-চারটি ম্যাচের পর বাদ দেওয়া তাঁর পক্ষে সহজ ছিল না। বিষয়টি নিয়ে সঞ্জুর সঙ্গে সরাসরি এবং খোলামেলা আলোচনা করেছিলেন তিনি। একই সময়ে বৈভব দুর্দান্ত ফর্মে থাকায় এবং সিরিজ জয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেয়। গম্ভীরের মতে, দলের স্বার্থে নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত সঞ্জুও ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছিলেন। পরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দলে ফিরে টানা দুটি অর্ধশতরান করেন স্যামসন।

তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ভারতীয় কোচ। তাঁর মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনা বা বাইরের চাপ দেখে প্রথম একাদশ নির্বাচন করা যায় না। শেষ পর্যন্ত কোচ এবং অধিনায়ককেই ঠিক করতে হয় কোন কম্বিনেশন দলকে ম্যাচ জেতাতে পারে। কয়েকটি ম্যাচে ব্যর্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সফল একটি কম্বিনেশন ভেঙে দেওয়া উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি। তাই প্রতিভাবান কোনও তরুণকে অপেক্ষা করতে হলেও দলের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেছেন গম্ভীর। ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সে শ্রেয়সের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দলের প্রয়োজনে নিজের ব্যাটিং পজিশন ছেড়ে দিতেও কখনও দ্বিধা করেন না শ্রেয়স। লেফট-রাইট কম্বিনেশন কিংবা ম্যাচের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নিজের ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করতেও তাঁর আপত্তি নেই।

গম্ভীরের মতে, একজন অধিনায়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণ হল নিঃস্বার্থ মানসিকতা। একজন ক্রিকেটার প্রচুর পরিশ্রমী কিংবা দলের সেরা ব্যাটার হতে পারেন, কিন্তু দলের স্বার্থে নিজের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা না থাকলে নেতৃত্ব পূর্ণতা পায় না। শ্রেয়সের মধ্যে সেই গুণ রয়েছে বলেই মনে করেন তিনি।

ভারতীয় দলের সাময়িক ব্যর্থতা নিয়ে অতিরিক্ত সমালোচনারও বিরোধিতা করেছেন গম্ভীর। কয়েকটি খারাপ ম্যাচ বা একটি সিরিজের ফলের ভিত্তিতে ক্রিকেটারদের বিচার করা উচিত নয় বলে তাঁর মত। গত কয়েক বছরে দলের সাফল্যের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

গম্ভীরের বক্তব্য, এক বিশ্বকাপ থেকে পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পর তৃতীয় বিশ্বকাপের জন্য দলকে দীর্ঘ ১৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়নি, মাত্র ১৭ মাসের মধ্যেই এসেছে পরবর্তী সাফল্য।

তাঁর মতে, তিনটি খারাপ ম্যাচ কোনও ক্রিকেটারকে রাতারাতি খারাপ খেলোয়াড়ে পরিণত করে না। একইভাবে সাময়িক ব্যর্থতায় একটি সফল দলও খারাপ হয়ে যায় না। তাই বারবার কম্বিনেশন বদলের পরিবর্তে ক্রিকেটারদের উপর আস্থা রাখা এবং দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই টিম ম্যানেজমেন্টের প্রধান লক্ষ্য।

গাভাইয়ের উত্তরসূরি সূর্য কান্ত, শপথ নিলেন সুপ্রিম কোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি

নয়াদিল্লি : সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে শপথ নিলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। বিদায়ী প্রধান...

November 24, 2025

Read More News

Read More