সকাল সকাল ডেস্ক
রিয়াধ। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের একাধিক স্পর্শকাতর স্থানে হামলা চালিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রাজধানী রিয়াধ এবং বন্দর শহর ইয়ানবুতে অবস্থিত আরামকোর তেল স্থাপনাও রয়েছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াধের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ, তায়েফ, ফারাসান ও ইয়ানবুতে চালানো অন্যান্য হামলাও ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।
আল জাজিরা ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হামলার কথা জানিয়েছেন। সারির দাবি, সৌদি আরবের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। কয়েক মাস পর এই প্রথম হুতিরা ফের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। হুতিদের তরফে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আরামকোর তেল স্থাপনাকে তারা নিশানা করবে।
হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি শনিবার বলেন, “রাজধানী সানাকে লক্ষ্য করে সৌদি আরবের হামলার চেষ্টার জবাবে দুটি সফল সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।” তাঁর দাবি, “প্রথম হামলাটি সৌদি রাজধানী রিয়াধের স্পর্শকাতর স্থানে এবং দ্বিতীয়টি ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় চালানো হয়েছে।”
ইয়ানবুতে হামলার বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত এই শহরটি ইয়েমেন-সৌদি আরব সীমান্ত থেকে প্রায় ৭০০ মাইল উত্তরে। রিয়াধও সীমান্ত থেকে ৭০০ মাইলের বেশি দূরে অবস্থিত। ফলে হুতিদের দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াধে হামলার ঘটনায় হুতিদের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে একাধিক দেশ। কুয়েতের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে বলেছে, এই হামলা সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের প্রকাশ্য লঙ্ঘন। মিশরও জানিয়েছে, হুতিদের হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসংঘের সনদের নীতির লঙ্ঘন।
বাহরাইন এই ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। জর্ডন জানিয়েছে, এই ধরনের হামলা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সৌদি আরবে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হন এবং জ্বালানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হয়। ২০২২ সালে রাষ্ট্রসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতার পর ইয়েমেনে বড় আকারের লড়াই অনেকটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ ওই অঞ্চলে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
No Comment! Be the first one.