এক থেকে একশো, সবার হৃদয়ে মেসি! আর্লিংটনে ধরা পড়ল ‘মেসি-ম্যানিয়া’র অনন্য ছবি
সকাল সকাল ডেস্ক আর্লিংটন ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসির জাদু নতুন কিছু নয়। তবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ম্যাচে আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে দেখা গেল এক বিরল দৃশ্য, যা আরও একবার প্রমাণ করল—মেসির জনপ্রিয়তা বয়সের কোনও সীমারেখা মানে না। একদিকে মায়ের কোলে বসা একরত্তি শিশু, যার বয়স এখনও এক বছরও পূর্ণ হয়নি। অন্যদিকে গ্যালারিতে উপস্থিত ১০০ বছরের এক বৃদ্ধা। দু’জনের জীবনের দূরত্ব প্রায় এক শতাব্দী, কিন্তু তাঁদের উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু একজনই—লিওনেল মেসি। ম্যাচ চলাকালীন সম্প্রচারকারী সংস্থার ক্যামেরা বারবার ঘুরে যায় দর্শকাসনের দিকে। সেখানে ধরা পড়ে এই দুই বিশেষ সমর্থকের ছবি। মুহূর্তের মধ্যে সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে এবং আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে ‘মেসি-ম্যানিয়া’র এই অনন্য রূপ। শতবর্ষী সমর্থক পলিন কানা, যিনি সামাজিক মাধ্যমে ‘গ্যাংস্টার গ্র্যানি’ নামে পরিচিত, ছিলেন গ্যালারির অন্যতম আকর্ষণ। ১৯২৬ সালে জন্ম নেওয়া পলিন নাতি রস স্মিথের সঙ্গে কৌতুকধর্মী ভিডিও তৈরি করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও নাম তুলেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছেন মেসির একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবেও। ইন্টার মায়ামি থেকে আর্জেন্টিনা—মেসির প্রতিটি ম্যাচই নিয়মিত অনুসরণ করেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও নীল-সাদা জার্সি পরে হাজির ছিলেন স্টেডিয়ামে। অন্যদিকে, গ্যালারির আরেক প্রান্তে দেখা যায় মায়ের কোলে বসা এক শিশু সমর্থককে। স্টেডিয়ামের প্রচণ্ড শব্দ থেকে রক্ষা করতে তার কানে পরানো হয়েছিল বড় হেডফোন। তবুও মাঠের দিকে ছিল তার কৌতূহলী দৃষ্টি। তবে দর্শকাসনের এই আবেগঘন ছবিগুলোকেও ছাপিয়ে ম্যাচের নায়ক ছিলেন মেসিই। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ জয়ে দুটি গোল করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। প্রথম গোলটি আসে ৩৮ মিনিটে, ফাকুন্দো মেদিনার পাস থেকে। যোগ করা সময়ে করেন দ্বিতীয় গোল। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করলেও ছন্দ হারাননি তিনি। এই জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতার আসনে এককভাবে বসেন মেসি। তাঁর মোট বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ১৮-তে। পেছনে পড়ে যান জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজে। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই ১৮ গোলের মধ্যে ১১টিই এসেছে ৩৫ বছর বয়স পার করার পর।এক শতবর্ষী বৃদ্ধা থেকে মায়ের কোলে থাকা শিশু—প্রজন্ম বদলায়, সময় বদলায়, কিন্তু মেসির প্রতি ভালোবাসা যেন একই থাকে।
পেলে-মেসির কাতারে ইয়ামাল, ১৮ বছরেই বিশ্বকাপে গড়লেন নতুন ইতিহাস
সকাল সকাল ডেস্ক লস এঞ্জেলস কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে হতাশাজনক গোলশূন্য ড্রয়ের পর সমালোচনার মুখে পড়েছিল স্পেন। তাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম ছিল লামিন ইয়ামাল। আর মাঠে নেমেই কোচের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করলেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা। আটলান্টায় সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে স্পেন। সেই জয়ের নায়ক ১৮ বছরের ইয়ামাল। ম্যাচের ১১ মিনিটেই গোল করে তিনি স্পেনকে এগিয়ে দেন এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন। ডান প্রান্ত থেকে আসা নিচু ক্রসে পিছনের পোস্টে দৌড়ে এসে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। বিশ্বকাপে এটাই তাঁর প্রথম গোল। ইয়ামালের গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্পেন। পরে আরও তিনটি গোল করে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। প্রথম ম্যাচে হারানো আত্মবিশ্বাসও ফিরে পায় লা রোহা। তবে শুধু গোলের জন্য নয়, ইতিহাস গড়ার কারণেও আলোচনায় উঠে এসেছেন ইয়ামাল। ১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অষ্টম কনিষ্ঠ গোলদাতা হয়ে গেলেন। একই সঙ্গে ছাপিয়ে গেলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে। মেসি ২০০৬ বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছিলেন ১৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে। অর্থাৎ মেসির চেয়ে ১৪ দিন কম বয়সে বিশ্বকাপের গোলের খাতা খুললেন স্প্যানিশ তারকা। পরিসংখ্যান সংস্থা অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার কম বয়সে বিশ্বকাপে নিজের দেশের হয়ে ম্যাচের প্রথম গোল করা মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার তিনি। এর আগে এই নজির ছিল শুধু ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৭ বছর বয়সে ওয়েলসের বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন পেলে। চোটের কারণে বার্সেলোনার মরসুমের শেষভাগে মাঠের বাইরে থাকতে হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এসে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ইয়ামাল। ২০২৪ ইউরো জয়ের পর এবার বিশ্বকাপেও স্পেনের অন্যতম বড় ভরসা হয়ে উঠছেন তিনি। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাঁর গোল শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক সুপারস্টারের আগমনের বার্তাও দিয়ে গেল।
হ্যারি কেনের ছন্দে বিশ্বকাপ স্বপ্নে ভাসছে ইংল্যান্ড
সকাল সকাল ডেস্ক লস এঞ্জেলস হ্যারি কেনকে এমন দুর্দান্ত ছন্দে বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ কবে দেখা গিয়েছে, তা মনে করতে খুব বেশি পিছিয়ে যেতে হবে না। সাম্প্রতিক বড় টুর্নামেন্টগুলিতে তিনি গোল পেলেও নিজের সেরাটা তুলে ধরতে পারেননি। ২০২৪ ইউরোয় পিঠের চোট নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন। স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই মাঠ ছাড়তে হয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে মাত্র দু’টি গোল করেছিলেন, আর ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিসের স্মৃতি এখনও তাজা। কিন্তু চলতি বিশ্বকাপে যেন এক নতুন হ্যারি কেনকে দেখা যাচ্ছে। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার বলা হয়। শুধু গোল করাই নয়, পুরো ইংল্যান্ড আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন তিনি। আর এই রূপান্তরের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে তাঁর ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের পরিকল্পনা ও যত্নশীল ব্যবস্থাপনার। দুই বছর আগে ইউরো শুরুর আগে চোটে ভুগছিলেন কেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ব্যথা নিয়েই খেলতে নেমেছিলেন, ফলে টুর্নামেন্টে পূর্ণ ফিটনেস নিয়ে নামা সম্ভব হয়নি। এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গোটা মরসুমে বড় কোনও চোট তাঁকে ভোগায়নি। ২০২৩ সালে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর তিন বছরে মাত্র আটটি ম্যাচ মিস করেছেন তিনি। ফলে শারীরিকভাবে অনেক বেশি সতেজ অবস্থায় বিশ্বকাপে এসেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তাঁর খেলার ধরনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন তিনি শুধুই বক্সের ভেতরে অপেক্ষা করা একজন স্ট্রাইকার নন। মাঝমাঠে নেমে খেলা গড়ে তোলা, বল বিতরণ করা এবং আক্রমণের ছন্দ তৈরি করাও তাঁর দায়িত্বের অংশ হয়ে উঠেছে। বায়ার্নে এই ভূমিকায় নিয়মিত খেলার ফলে ইংল্যান্ড দলের কৌশলেও তিনি সহজেই মানিয়ে নিয়েছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে বারবার দেখা গিয়েছে, কখনও ডিফেন্ডারদের কাছ থেকে বল নিচ্ছেন, কখনও মিডফিল্ডে নেমে আক্রমণ সাজাচ্ছেন। কেনের ফিটনেসের আরেকটি বড় কারণ ম্যাচের চাপ কমে যাওয়া। প্রিমিয়ার লিগে ৩৮ ম্যাচের দীর্ঘ মৌসুমের তুলনায় বুন্দেসলিগায় ম্যাচ সংখ্যা কম। পাশাপাশি শীতকালীন বিরতি ও মৌসুমের শেষ দিকে বিশ্রাম পাওয়ায় তাঁর শরীর আরও সতেজ থেকেছে। বায়ার্ন এপ্রিলেই লিগ নিশ্চিত করে ফেলায় কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি শেষ কয়েকটি ম্যাচে কেনকে সীমিত সময় খেলিয়েছেন, যা বিশ্বকাপের আগে তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। ৩৩ বছরে পা দিতে চলেছেন হ্যারি কেন। সম্ভবত এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডকে ১৯৬৬ সালের পর আবার বিশ্বকাপ জেতানোর স্বপ্ন এখনও অটুট। পার্থক্য শুধু একটাই—এবার তাঁর পাশে রয়েছে ফিট শরীর, দুর্দান্ত ছন্দ এবং সঠিক প্রস্তুতি। তাই প্রশ্ন উঠছেই, হ্যারি কেনের হাত ধরে কি সত্যিই ফুটবল আবার ‘ঘরে ফিরতে’ চলেছে?
স্পেনকে রুখে, উরুগুয়েকে আটকে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে কেপ ভার্দে
সকাল সকাল ডেস্ক লস এঞ্জেলস বিশ্বকাপ শুরুর আগে গ্রুপ ‘এইচ’-এর ছবি ছিল একেবারে পরিষ্কার। ফুটবলবিশ্বের ধারণা ছিল, স্পেন এবং উরুগুয়ে সহজেই নকআউট পর্বে পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও কেপ ভার্দের লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় আর সম্মান রক্ষার মধ্যে। কিন্তু মাত্র দুই ম্যাচের মধ্যেই সেই সমস্ত হিসেব ওলটপালট করে দিয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া দলটি প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয়। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে দু’বার পিছিয়ে পড়েও উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ২–২ সমতা আদায় করে সবাইকে চমকে দেয়। মাত্র ছ’লক্ষ জনসংখ্যার দেশটি এখন নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন দেখছে, আর সেই স্বপ্ন আর কল্পনা নয়—বাস্তব সম্ভাবনা। দুই ম্যাচ শেষে স্পেন চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে এবং কার্যত শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করেছে। কেপ ভার্দে ও উরুগুয়ের পয়েন্ট সমান, দু’টি করে। তবে গোলসংখ্যা ও টাইব্রেকারের নিরিখে কেপ ভার্দে আপাতত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। সৌদি আরবের ঝুলিতে রয়েছে এক পয়েন্ট। এবার সব নজর ২৬ জুনের ম্যাচে। হিউস্টনে সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। সমীকরণ খুবই সহজ—জিতলেই নিশ্চিত নকআউট। ড্র করলেও সম্ভাবনা থাকবে, তবে তখন স্পেন বনাম উরুগুয়ে ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। যদি উরুগুয়ে জয় না পায়, তাহলে কেপ ভার্দে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখে পরের পর্বে পৌঁছে যাবে। তবে হারলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যাবে। তখন গোলপার্থক্য, অন্যান্য গ্রুপের ফল এবং সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলির তালিকার ওপর নির্ভর করতে হবে। ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপ ফরম্যাটে ১২টি গ্রুপের প্রথম দুই দলের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলও শেষ বত্রিশে সুযোগ পায়। সবচেয়ে বেশি চাপ এখন উরুগুয়ের ওপর। তাদের শেষ ম্যাচ খেলতে হবে গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল স্পেনের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে কেপ ভার্দের সামনে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। তাই ইতিহাস গড়ার সুযোগ এখন পুরোপুরি তাদের হাতেই। প্রথম বিশ্বকাপেই যদি কেপ ভার্দে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করে, তবে তা হবে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় অঘটন এবং অনুপ্রেরণার গল্প।
কোহলির প্রত্যাবর্তন, বাদ বরুণ! ইংল্যান্ড সফরের ওয়ানডে দলে একাধিক চমক বিসিসিআইয়ের
ইংল্যান্ড সফরের জন্য ভারতের ওয়ানডে দল ঘোষণা করল বিসিসিআই। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পরই আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজের স্কোয়াড প্রকাশ করা হয়েছে। ঘোষিত দলে সবচেয়ে বড় খবর বিরাট কোহলির প্রত্যাবর্তন। চোটের কারণে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে পারেননি ভারতের তারকা ব্যাটার। তবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁকে দলে রাখা হয়েছে। তবে কোহলির অন্তর্ভুক্তি সম্পূর্ণভাবে তাঁর ফিটনেসের ওপর নির্ভর করছে। আইপিএল শেষ হওয়ার পর থেকেই তিনি লন্ডনে রয়েছেন এবং সেখানেই ব্যক্তিগত প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। বিসিসিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশে ফিরে তাঁকে সেন্টার অব এক্সেলেন্সে ফিটনেস পরীক্ষা দিতে হবে। মেডিক্যাল টিমের ছাড়পত্র পেলেই তিনি মাঠে নামতে পারবেন। দলে ফিরেছেন তারকা পেসার যশপ্রীত বুমরাও। আফগানিস্তান সিরিজে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে চোটের কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন রহস্য স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী। পায়ের সমস্যার জন্য তিনি শুধু ইংল্যান্ড নয়, আয়ারল্যান্ড সফর থেকেও ছিটকে গিয়েছেন। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন তরুণ অলরাউন্ডার গুরনুর ব্রার। তাঁকে ইংল্যান্ড সফরের দলেও রাখা হয়েছে। তবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেও সুযোগ পাননি যশস্বী জয়সওয়াল। তাঁর বাদ পড়া নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগেই জানা গিয়েছিল, এই সিরিজে খেলবেন না হার্দিক পান্ডিয়া। তাঁর জায়গায় স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন নীতিশ রেড্ডি। ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই অবদান রাখার ক্ষমতার জন্য নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে ভারত-ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ, যা চলবে ১১ জুলাই পর্যন্ত। এরপর ১৪, ১৬ এবং ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ফলে ইংল্যান্ড সফরে ভারতের মূল আকর্ষণ এখন বিরাট কোহলির প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর ফিটনেস পরিস্থিতি। ভারতের ওয়ানডে দল: শুভমন গিল (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, শ্রেয়স আইয়ার (সহ-অধিনায়ক), কে এল রাহুল, ঈশান কিষান, ওয়াশিংটন সুন্দর, অক্ষর প্যাটেল, নীতিশ রেড্ডি, কুলদীপ যাদব, হর্ষিত রানা, অর্শদীপ সিং, যশপ্রীত বুমরা, গুরনুর ব্রার এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ।
মাঠে ড্র, ড্রেসিংরুমে বার্তা! লস অ্যাঞ্জেলেসে ভাইরাল ইরানের ‘শান্তির নোট’
সকাল সকাল ডেস্ক লস এঞ্জেলস বিশ্বকাপ মানেই শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, কখনও কখনও তা হয়ে ওঠে আবেগ, পরিচয় এবং মানবিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মঞ্চও। চলতি বিশ্বকাপে ঠিক তেমনই এক নজির গড়ল ইরান। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের পর মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ইরানি ফুটবলারদের রেখে যাওয়া একটি হাতে লেখা নোট। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে রেখে যাওয়া সেই বার্তা এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুম পরিষ্কার করে একটি সাদা কাগজে নিজেদের অনুভূতি লিখে যান ইরানের ফুটবলাররা। সেখানে লেখা ছিল, “হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের আধুনিক ইরান—ইরানের আত্মা এখনও অটুট। আমরা গর্ব নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছিলাম, সম্মানের সঙ্গে খেলেছি এবং মর্যাদা নিয়েই ফিরছি।” শুধু নিজেদের গর্বের কথাই নয়, সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে দল। নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, “যাঁরা ১৮০ মিনিট ধরে নিজেদের হৃদয়, কণ্ঠস্বর ও আত্মা উজাড় করে ইরানকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ।” তবে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে শেষের বার্তাটি—“সমস্ত দেশের মধ্যে শান্তি, পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্ব বিরাজ করুক।” এই শান্তির আহ্বানের মধ্যেই ছিল এক নীরব প্রতিবাদও। নোটে ব্যবহৃত দুটি হ্যাশট্যাগ—#168 এবং #Minab—নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। জানা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের আবহে ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে বোমা হামলায় নিহত শিশুদের স্মরণ করতেই এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। কোনও সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্য না রেখেও ইরানি ফুটবলাররা বিশ্বমঞ্চে মানবিক এক বার্তা তুলে ধরেছেন। চলতি বিশ্বকাপে মাঠের বাইরেও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে ইরান। মার্কিন অভিবাসন নীতির কারণে দলকে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে তাদের পরিকল্পিত বেস ক্যাম্প সরিয়ে নিতে হয় মেক্সিকোর তিজুয়ানায়। সেখান থেকে নিয়মিত বিমানযাত্রা করে ম্যাচ খেলতে আসতে হচ্ছে ফুটবলারদের। ভিসা জটিলতার কারণে কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফও দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি। বেলজিয়াম ম্যাচের পর ইরানের কোচ আমির ঘালিনোই বলেন, অন্য অনেক দলের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খেলতে হচ্ছে তাঁদের। এমনকি তিনি ইরানকে “এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বঞ্চিত দল” বলেও উল্লেখ করেন। তবে মাঠে সেই প্রতিকূলতার কোনও প্রভাব পড়তে দেননি ইরানের ফুটবলাররা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-২ ড্র এবং বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ০-০ ফল করে তারা এখনও নকআউটের লড়াইয়ে টিকে রয়েছে। এবার সামনে মিশর। সেই ম্যাচে জয় পেলে ইতিহাস গড়ে পরের পর্বে পৌঁছতে পারে ইরান। ফল যাই হোক, সোফাই স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে রেখে যাওয়া একটি ছোট্ট নোট ইতিমধ্যেই প্রমাণ করে দিয়েছে—ফুটবল কখনও কখনও শুধু খেলা নয়, মানবতারও ভাষা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজের জন্য ভারতীয় দল ঘোষনা: বিরাট কোহলি অন্তর্ভুক্ত
সকাল সকাল ডেস্ক, মুম্বই : ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজের জন্য ভারতীয় দল রবিবার বিসিসিআই কর্তৃক ঘোষণা করা হয়েছে। বিরাট কোহলিকে দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তবে তার অংশগ্রহণ ফিটনেস ছাড়পত্রের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে মোহাম্মদ সিরাজকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের হারের পর জসপ্রিত বুমরাহও তার প্রথম ওয়ানডে খেলার অপেক্ষায় রয়েছেন। বিসিসিআই জানিয়েছে যে, আইপিএল ২০২৬-এ পাওয়া পায়ের চোট থেকে সেরে ওঠার শেষ পর্যায়ে রয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী, এবং একারণে তিনি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে পারবেন না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের ওডিআই স্কোয়াড: শুভমান গিল (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি*, শ্রেয়াস আইয়ার (সহ-অধিনায়ক), কেএল রাহুল (উইকেট কিপার), ইশান কিষাণ (উইকেট কিপার), ওয়াশিংটন সুন্দর, অক্ষর প্যাটেল, নীতীশ কুমার রেড্ডি, কুলদীপ যাদব, জাসপ্রিত বুমরাহ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, হর্ষিত রানা, আরশ সিংহ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের সংশোধিত টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড: শ্রেয়াস আইয়ার (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন (উইকেট কিপার), ইশান কিশান (উইকেট কিপার), শিবম দুবে, তিলক ভার্মা (সহ-অধিনায়ক), নীতীশ কুমার রেড্ডি, অক্ষর প্যাটেল।
সুইডেনকে ৫-১ গোলে হারালো নেদারল্যান্ডস
সকাল সকাল ডেস্ক, হিউস্টন : ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের ম্যাচে সুইডেনকে ৫-১ গোলে হারিয়ে নেদারল্যান্ডস ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে গেল। বিশ্বকাপে টানা সর্বোচ্চ ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ল ডাচরা। বিশ্বকাপে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ পর্যন্ত টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত ছিল পেলের ব্রাজিল। হিউস্টনে শনিবার রাতের এই ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের পক্ষে ১৭ মিনিটের মধ্যে দুটি গোল করেন ব্রায়ান ব্রবি। ডাচ জাতীয় দলের জার্সিতে এটি তার তৃতীয় গোল। বিরতির পরই ব্যবধান ৩–০ করে নেদারল্যান্ডস। ৪৭ মিনিটে ডেনজেল ডামফ্রিসের পাশ থেকে তৃতীয় গোলটি করেন কোডি গাকপো। এরপর ৫৪ মিনিটে দারুণ এক শটে দলের চার ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে প্রতিআক্রমণে সুইডেনের হয়ে একটি গোল শোধ করেন অ্যান্থনি এলাঙ্গা। তবে ৮৭ মিনিটে ডাচদের হয়ে ৫ নম্বর গোলটি করেন ক্রিসেনসিও সামারভিল। এই জয়ে এফ’ গ্রুপে ২ ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে চলে গেল ডাচরা। এই জয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা প্রায় নিশ্চিত করল তারা। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে সুইডেন। তৃতীয় জাপানের সংগ্রহ ১ ম্যাচে ১ পয়েন্ট। সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলে হারা তিউনিসিয়া কোনো পয়েন্ট না পেয়ে রয়েছে শেষে।
চমক জাগিয়ে শুরু করলেও আইভরি কোস্ট জিততে পারলো না জার্মানির বিরুদ্ধে
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা: শক্তিতে জার্মানির থেকে অনেক পিছিয়ে থাকা আইভেরি কোস্ট জার্মানির চোখে চোখ রেখে লড়াই করল। এমনকি চমক জাগিয়ে এগিয়ে গিয়ে জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি করল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বদলি খেলোয়াড় ডেনিস উন্দাভ সব হিসাব নিকাশ পাল্টে দিল। তার জোড়া গোলে নকআউট পর্বে চলে গেল চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। টরন্টো স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে নাগেলসমানের দল জার্মানি। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়া প্রথম ম্যাচে বদলি নেমে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন এই উন্দাভ। এবার দুই গোল করে তিনিই এদিনের ম্যাচে হয়ে গেলেন নায়ক। প্রথমার্ধে আইভরি কোস্ট এগিয়ে যায় কেসিয়ের গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে আট মিনিটের মধ্যেই সমতা টানেন উন্দাভ। এরপর অতিরিক্ত সময়ের ৯৪ মিনিটে আরেকটি গোল করে দলকে তিন পয়েন্ট এনে দেন এই ফরোয়ার্ড। এদিন ম্যাচে ৬০ শতাংশ বল পজেশনে রেখে গোলের জন্য ১৬টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে জার্মানি। আইভরি কোস্টের ৯ শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে । দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আছে জার্মানি। আর সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আইভরি কোস্ট। আসরের প্রথম ম্যাচে একুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে আফ্রিকার দলটির নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখল। আর এক ম্যাচ করে খেলা একুয়েডর ও কুরাসাও এখনও কোনও পয়েন্ট পায়নি। গ্রুপের শেষ ম্যাচে আগামী বৃহস্পতিবার রাতে একুয়েডরের বিপক্ষে খেলবে জার্মানি। আর এই দিনেই কুরাসাওয়ের মুখোমুখি হবে আইভরি কোস্ট।
এফআইএইচ মহিলা নেশন্স কাপ : চিলিকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারত
সকাল সকাল ডেস্ক, অকল্যান্ড : শনিবার অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এফআইএইচ উইমেন্স নেশনস কাপের সেমিফাইনালে চিলিকে ছয় গোলে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিয়ে ভারত ফাইনালে পৌঁছেছে। যেখানে চিলি গোল করতে ব্যর্থ হয়। ভারতের হয়ে গোল করেছেন নভনীত কৌর (৬’, ১৩’), দীপিকা (১৪’, ১৮’), নেহা (৩২’) এবং রুতুজা দাদাসো পিসাল (৩৯’)। অন্যদিকে, অধিনায়ক সালিমা টেটে তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হয়েছেন। ফাইনালে ভারত যুক্তরাষ্ট্র অথবা স্বাগতিক নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে।