জম্মুতে অবৈধ খননের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান, বাজেয়াপ্ত চার ট্র্যাক্টর-ট্রলি
সকাল সকাল ডেস্ক। জম্মু ; জম্মু জেলায় অবৈধ খননের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে নেমে পুলিশ চারটি ট্র্যাক্টর-ট্রলি বাজেয়াপ্ত করেছে। অনুমতি ছাড়া খনিজ উত্তোলন ও পরিবহণের কাজে এগুলি ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার পুলিশ জানায়, পিপি জৌরিয়া এলাকায় এই ট্র্যাক্টর-ট্রলিগুলি অবৈধ খননের সময় ধরা পড়ে। পরে জেলা খনন আধিকারিককে খবর দেওয়া হয় এবং তিনি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। জম্মু পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ খননের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে।
রানিনগরে নৌকাডুবি, দুই কৃষক নদীতে তলিয়ে গেলেন
সকাল সকাল ডেস্ক। মুর্শিদাবাদ ; মুর্শিদাবাদ জেলার রানিনগরে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটল। এতে দুই কৃষক নদীতে তলিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা গেলেও অন্যজনের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। ঘটনাস্থলে রানিনগর থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে। পাশাপাশি ডুবুরিদের তলব করা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজ চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানিনগরের কাতলামারী কার্গিল এলাকায় পদ্মার শাখা নদী, যেটি মরা পদ্মা নামে পরিচিত, সেখানেই মঙ্গলবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সাধারণত ওই নদীতে সারা বছর জল খুব একটা থাকে না, তাই কৃষকরা হেঁটেই জমিতে যাতায়াত করেন। কিন্তু বর্ষাকালে নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় নৌকার উপরেই ভরসা রাখতে হয়। এদিনও কয়েকজন কৃষক নৌকায় চেপে মাঠে কাজ শেষ করে ফিরছিলেন। হঠাৎ মাঝনদীতে নৌকা ডুবে যায়। সবাই জলে পড়লেও বেশিরভাগ কৃষক সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে দুই কৃষক আর উঠতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা গেলেও অপর কৃষক, সুজন শেখ ওরফে সুমন (৩০), নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁকে উদ্ধারের জন্য তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবারই হবে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি, ৮ সেপ্টেম্বর: আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে দেশের ১৭তম উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সেদিনই জানা যাবে কে হবেন জগদীপ ধনখড়ের উত্তরসূরি।এনডিএ প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সি পি রাধাকৃষ্ণন। বিরোধী ইন্ডি জোটের প্রার্থী প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি বি সুদর্শন রেড্ডি।উল্লেখ্য, ধনখড় স্বাস্থ্যগত কারণে হঠাৎ করেই জুলাই মাসে পদত্যাগ করেছিলেন।
দ্বিতীয়বার ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজ
সকাল সকাল ডেস্ক। নিউ ইয়র্ক, ৮ সেপ্টেম্বর: ইউএস ওপেনের ফাইনালে ইয়ানিক সিনারকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতলেন কার্লোস আলকারাজ।ফাইনালের ফলাফল: ৬-২, ৩-৬, ৬-১, ৬-৪। এই জয়ের ফলে আবারও বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে ফিরলেন ২২ বছর বয়সী স্প্যানিশ তারকা।উইম্বলডনের ফাইনালে সিনারের কাছে হারের প্রতিশোধ নিলেন আলকারাজ। এখন তাঁর ক্যারিয়ারে ছয়টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা।
“সংবিধান রক্ষার জন্যই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন” – সঞ্জয় রাউত
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি, ৮ সেপ্টেম্বর: আসন্ন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রক্রিয়া বলে মন্তব্য করলেন শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)-র সাংসদ সঞ্জয় রাউত।তিনি বলেন, “লোকসভা-রাজ্যসভার সাংসদরা ভোট দেবেন দেশের স্বার্থে। আমাদের আগের উপরাষ্ট্রপতি কোথায়, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। গণতন্ত্রকে এভাবে সংকটে ফেলা যায় না।”
ভেনিসে পুরস্কার পেলেন অনুপর্ণা, মুখ্যমন্ত্রীর অভিনন্দন
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা, ৮ সেপ্টেম্বর: ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা পরিচালকের সম্মান পেলেন পুরুলিয়ার মেয়ে অনুপর্ণা রায়। তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি Songs of Forgotten Trees জিতে নিল ‘অরিজোন্টি’ বিভাগে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার।এই খবর জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনন্দন বার্তা পাঠালেন। তিনি লেখেন, “অনুপর্ণার এই সাফল্য আমাদের বাংলার গর্ব। তাঁর মা-বাবা ও সহযোগীদের অভিনন্দন। আশা করি আরও এগিয়ে গিয়ে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করবেন।”
“শিল্প কারখানা বন্ধ করাই তৃণমূলের নীতি” – কটাক্ষ শুভেন্দুর
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা, ৮ সেপ্টেম্বর: কোলাঘাটের রামকো সিমেন্ট কারখানা বন্ধ হওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।তিনি এক্স-এ লিখেছেন, “রাজ্যে যত কল-কারখানা বাকি আছে, তৃণমূল সরকার সেগুলিরও শ্রাদ্ধ করতে বদ্ধপরিকর। এভাবে চলতে থাকলে কোনো নতুন লগ্নি আসবে না, বরং পুরনো শিল্পও অন্যত্র চলে যাবে।”তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি সরকার এলে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও শিল্প পুনর্জীবনের ব্যবস্থা হবে।
বাংলার মেয়েদের দাপট, রেলওয়েজকে ৭-০ গোলে হারাল
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা, ৮ সেপ্টেম্বর: সিনিয়র জাতীয় মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলার দুরন্ত জয়। কৃষ্ণনগরের দ্বিজেন্দ্রলাল রায় স্টেডিয়ামে বাংলার মেয়েরা রেলওয়েজকে ৭-০ গোলে হারাল। এর আগে মেঘালয়কেও একই ব্যবধানে হারিয়েছিল দল।প্রথমার্ধেই সবকটি গোল হয়ে যায়। গোলদাতাদের মধ্যে ছিলেন রিম্পা হালদার, সঙ্গীতা বাসফোর ও মৌসুমী মুর্মু। অধিনায়ক রিম্পা নিজেও একটি গোল করেন। সুলঞ্জনা রাউল লালকার্ড দেখেন। বাংলার গোলকিপার মামণি দাসকে প্রায় ভাবনায় ফেলতে পারেনি রেলওয়ের খেলোয়াড়রা।
রিলসের দুনিয়া আর হারিয়ে যাওয়া সামাজিক আদর্শ
সকাল সকাল ডেস্ক। ভারতের সামাজিক চেতনা একসময় গান্ধী, নেহরু, ভগত সিং, আম্বেদকর আর সুভাষের মতো মহাপুরুষদের কাহিনি থেকে গড়ে উঠত। আজ সেই জায়গা দখল করেছে সোশ্যাল মিডিয়ার “ভাইরাল তারকারা”। লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার আর লাইকসওয়ালা ব্লগার আর রিল-নির্মাতারা তরুণ প্রজন্মের নতুন রোল মডেল হয়ে উঠেছে। বিনোদনের নামে এই সংস্কৃতি আসল আদর্শকে আড়াল করে দিচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে—আমাদের আগামী প্রজন্ম কি ত্যাগ আর সংগ্রামের উত্তরাধিকারকে মনে রাখবে, নাকি কেবল “ট্রেন্ডিং ভিডিও”-র মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে? কখনো এই দেশের আত্মা বাস করত তার মহাপুরুষদের চিন্তা আর সংগ্রামে। আমাদের আদর্শ ছিলেন মহাত্মা গান্ধী, যিনি সত্য আর অহিংসা দিয়ে সাম্রাজ্য কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। ভগত সিং আর চন্দ্রশেখর আজাদ, যারা প্রাণ বিসর্জন দিয়ে তরুণদের সাহস আর আত্মত্যাগের বার্তা দিয়েছিলেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, যার ডাক আজও শোনা যায়—“তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।” ড. ভীমরাও আম্বেদকর, যিনি আধুনিক ভারতের সংবিধানের ভিত্তি গড়েছিলেন। চৌধুরী ছোটুরাম, যিনি কৃষক আর শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর উঁচু করেছিলেন, সমাজে ন্যায়ের লড়াই লড়েছিলেন। এরা সেই মানুষ, যারা সংগ্রাম, ত্যাগ আর চিন্তাশীলতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। গ্রামের আড্ডা থেকে শুরু করে শহরের বৈঠকখানা পর্যন্ত, প্রতিটি সভা-সমিতিতে এই মহাপুরুষদের ছবি ঝুলত। শিশুরা তাদের গল্প শুনে বড় হতো। সমাজে যে-ই এগিয়ে যেতে চাইত, সে এই আদর্শ থেকে প্রেরণা নিত। ত্যাগ, শৃঙ্খলা, সাহস আর সমাজসেবাই রোল মডেলের সংজ্ঞা ছিল। রোল মডেল হওয়া মানে ছিল অন্যকে অনুপ্রাণিত করা, সমাজকে দিকনির্দেশ দেওয়া আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উঁচুতে নিয়ে যাওয়া। সময় বদলেছে। প্রযুক্তি আর সোশ্যাল মিডিয়া পুরো ছবিটাই উল্টে দিয়েছে। এখন রোল মডেল মানে সমাজে গভীর ছাপ ফেলা মহাপুরুষ নয়, বরং সেই ব্যক্তি, যিনি ক্যামেরার সামনে সবচেয়ে বেশি হৈচৈ করে, সবচেয়ে অদ্ভুত কাণ্ড করে আর যার ভিডিও সবচেয়ে বেশি “ভাইরাল” হয়। আজ তরুণদের মুখে যাদের নাম শোনা যায়, তারা কোনো আন্দোলনের নায়ক নন, কোনো বড় মতাদর্শের বাহকও নন। তারা হলেন “গোয়ার ফ্যামিলি ব্লগ”, “টিঙ্কু সুটো আঁলি”, “ঢিমাকানা সিং কুঁচকির নাচনওয়ালা”—এমন চরিত্র, যারা কেবল হাসি-ঠাট্টা, চাকচিক্য আর দেখনদারির জোরে বিখ্যাত হয়ে গেছেন। বিরোধাভাস হলো, মানুষ তাদের দেখে নিজের সময়, শক্তি, এমনকি কখনো কখনো নিজের চিন্তাভাবনাও খরচ করে ফেলছে। আজ গ্রামের পর গ্রাম, গলির পর গলি জুড়ে বাচ্চা আর তরুণরা এই ইউটিউব চ্যানেল, টিকটক-স্টাইল রিল আর ইনস্টাগ্রাম লাইভওয়ালাদেরকেই আদর্শ হিসেবে মানতে শুরু করেছে। আগে যেখানে শিশুরা বলত, তারা বড় হয়ে ভগত সিং বা আম্বেদকরের মতো হতে চায়, এখন অনেক শিশু বলে বসে—তারা “ইউটিউবার”, “ব্লগার” বা “ইনফ্লুয়েন্সার” হতে চায়। সোশ্যাল মিডিয়ার এই ধারা শুধু বিনোদনেই সীমাবদ্ধ নয়। এটা ধীরে ধীরে আমাদের সমাজের চিন্তা আর সংস্কারকে প্রভাবিত করছে। যখন কোনো মহিলা কেবল মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার জন্য নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক জনসমক্ষে এনে ফেলে, যখন স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া বিনোদনে পরিণত হয়, যখন “লুগাই লুগাই কো আপনা খসম বতান লাগি”-র মতো কথা ট্রেন্ড হতে শুরু করে, তখন স্পষ্ট বোঝা যায় যে আমাদের সমাজের বড় একটি অংশ বিনোদন আর মজার নামে গুরুতর মূল্যবোধ থেকে সরে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন বিপজ্জনক, কারণ সমাজ গড়ে ওঠে তার নির্বাচিত আদর্শের মতো। যদি রোল মডেলরা হন সেইসব লোক, যারা শুধু হাততালি আর ভিউয়ের জন্য অদ্ভুত কাণ্ড করে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ত্যাগ আর সংগ্রামের বদলে সস্তা জনপ্রিয়তার পথই বেছে নেবে। আসল পরিশ্রম, পড়াশোনা, মনন আর সামাজিক অবদান পিছিয়ে যাবে। এটাও অস্বীকার করা যায় না যে এই প্রবণতার একটি অর্থনৈতিক দিকও আছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো জনপ্রিয়তাকে সরাসরি অর্থের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে। যার ভিডিও বেশি চলবে, তার আয়ও বেশি হবে। তাই লক্ষ লক্ষ তরুণ না ভেবেই এই পথে দৌড়াচ্ছে। তারা ভাবে সমাজসেবার চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক হলো মজার ভিডিও বানানো। এ কারণেই মহাপুরুষদের জীবনী পড়া তরুণদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, আর “কনটেন্ট ক্রিয়েটর” হওয়ার ভিড় বাড়ছে। কিন্তু এই অবস্থা কি স্থায়ী? সমাজ কি সত্যিই এত দ্রুত আদর্শ থেকে বিমুখ হয়ে যাবে? এর উত্তর এত সহজ নয়। ইতিহাস সাক্ষী যে প্রতিটি সমাজেই এক সময় আসে, যখন মূল্যবোধ ফাঁপা মনে হয় আর বাহ্যিক চাকচিক্য বেশি প্রভাব ফেলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যায় সেই সমাজ, যারা নিজেদের সত্যিকারের আদর্শকে মনে রাখে। ভারতের মতো দেশে, যার আত্মা স্বাধীনতা সংগ্রাম আর সামাজিক ন্যায়ের লড়াই থেকে গড়ে উঠেছে, সেখানে মানুষ কোনোদিনও মহাপুরুষদের ভুলে যেতে পারে না। প্রয়োজন এক ভারসাম্য আনার। বিনোদন আর প্রযুক্তি জীবনের অংশ, কিন্তু এগুলোকে আদর্শ করা যায় না। রোল মডেল হওয়া উচিত সেইসব মানুষ, যারা সমাজকে এগিয়ে নেবে, মানুষের মধ্যে আস্থা আর প্রেরণা জাগাবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ত্যাগ, সাহস আর সেবার পথে চালিত করবে। আজও এমন মানুষ আমাদের চারপাশে আছেন—বিজ্ঞানী, শিক্ষক, কৃষক, সেনা, ডাক্তার, সমাজকর্মী—যারা নীরবে নিজেদের পরিশ্রম আর সততার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সমাজের উচিত এই গল্পগুলো শিশু ও তরুণদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। মিডিয়া আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব আছে যে তারা শুধু সস্তা বিনোদনকেই মঞ্চ দেবে না, বরং আসল নায়কদের কাহিনি প্রকাশ করবে। স্কুল-কলেজে মহাপুরুষদের জীবনী আবার পড়ানো হোক, স্থানীয় স্তরে সমাজসেবী আর কর্মঠ মানুষদের সামনে আনা হোক। তাহলেই আমরা সেই হারানো ভারসাম্য ফিরে পাবো, যেখানে বিনোদন থাকবে তার জায়গায়, আর আদর্শ থাকবে তার জায়গায়। আজ যখন আমরা পিছনে ফিরে তাকাই আর পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকার স্মরণ করি, তখন স্পষ্ট বোঝা যায় যে আমাদের যেসব মহাপুরুষ দেশ আর সমাজকে গড়ে দিয়েছিলেন, তারা কোনো রিল, কোনো ট্রেন্ড বা ক্ষণিক জনপ্রিয়তার অংশ ছিলেন না। তারা বেছে নিয়েছিলেন কঠিন পথ, সংগ্রাম করেছিলেন, আর জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন সমাজ আর জাতির জন্য। তাদের তুলনায় আজকের “ট্রেন্ডিং তারকারা” অনেক হালকা আর ক্ষণস্থায়ী। সমাজকে এটা বুঝতে হবে যে রোল মডেল কেবল তারা নন, যাদের লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার আছে। রোল মডেল তারা, যারা তাদের জীবন, চিন্তা আর সংগ্রামের মাধ্যমে অন্যকে সঠিক পথ দেখায়। যদি আমরা এটা বুঝতে পারি, তবে হয়তো আবার আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ভগত সিং, আম্বেদকর আর ছোটুরামের মতো আদর্শকে পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করবে, কোনো “কুঁচকি নাচানো” ব্লগারকে নয়।
নবপ্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় গড়ে তোলার কারিগর শিক্ষকরাই : মুখ্যমন্ত্রী মমতা
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বর : শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, নবপ্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে তোলার মূল কারিগর শিক্ষকরাই। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “আজ ‘শিক্ষক দিবস’। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিবস। তাঁকে জানাই আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম। এই পুণ্যদিনে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা ও অশিক্ষক কর্মীবৃন্দকে জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। নবপ্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে তোলার মূল কারিগর তাঁরাই।” মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, “গতকাল যথাযোগ্য মর্যাদায় আমরা ‘শিক্ষক দিবস’-এর অনুষ্ঠান পালন করেছি। সেখানে সমাজের প্রতি শিক্ষকদের এই অসাধারণ অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুল, আইটিআই – এর বিশিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ‘শিক্ষারত্ন’ সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়েছে। সেরা স্কুলগুলোকেও পুরস্কৃত করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের কৃতী ছাত্রছাত্রী যারা এবারের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, জয়েন্ট এন্ট্রান্স, আলিম, ফাজিল, হাই-মাদ্রাসা, আইসিএসই, আইএসসি, সিবিএসই এবং ভোকেশনাল পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে, তাদেরও সম্মানিত করা হয়েছে। সকলকে আমি আরও একবার আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”