শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধু পড়ানো নয়, দেশের প্রতি কর্তব্যও শেখানো : ধর্মেন্দ্র প্রধান
সকাল সকাল ডেস্ক।নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর : শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জানালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শুক্রবার সকালে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, “শিক্ষকরা শুধুমাত্র শিক্ষকতাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং তাঁরা আমাদের চিন্তাভাবনার দৃষ্টিভঙ্গি, জীবনযাপনের কলা ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ শেখান। ‘শিক্ষক দিবস’ উপলক্ষ্যে আসুন আমরা আমাদের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং তাঁদের আদর্শ জীবনে ধারণ করার অঙ্গীকার করি।” ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, “দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এবং প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ‘ভারতরত্ন’ ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মবার্ষিকীতে, আমি তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই এবং সমাজকে দিকনির্দেশনা প্রদানকারী, জীবনকে মূল্য দেওয়ার এবং অজ্ঞতা দূর করে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালানো সকল শিক্ষককে ‘শিক্ষক দিবস’-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।”
মেসির জোড়া গোল, ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে সহজ জয় আর্জেন্টিনার
সকাল সকাল ডেস্ক।বুয়েনা আইরিশ, ৫ সেপ্টেম্বর : ঘরের মাটিতে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে হয়তো শেষ ম্যাচ খেললেন লিওনেল মেসি। শুক্রবার ভোরে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে জোড়া গোল করেন লিওনেল মেসি। তাতে তার দল সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। এস্তাদিও মাস মনুমেন্টালে ভেনেজুয়েলাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। মেসির জোড়া গোল ছাড়াও লাউতারো মার্টিনেজ করেছেন বাকি গোল। পুরো ম্যাচে আধিপত্য দেখানো আর্জেন্টিনা প্রথম হাফে একটি এবং দ্বিতীয় হাফে দুইটি গোল করে। ৩৯ মিনিটে মনুমেন্টালে হাজির ৮০ হাজারের মতো দর্শককে উল্লাসে মাতান এলএমটেন। হুলিয়ান আলভারেজের পাস থেকে মেসি দারুণ এক চিপে মেসি বলটা জড়ান জালে।এরপর প্রথম হাফে আর কোন গোল করতে পারেনি আলবিসেলেস্তারা। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে আলভারেজের বদলি হিসেবে নামেন লাউতারো। মাঠে নামার চার মিনিটের মাথায় গোল করেন ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকার। গোলটি আসে ৭৮ মিনিটে নিকোলাস গঞ্জালেজের পাস থেকে। ৮০ মিনিটে আবারও মেসির গোল। আলমাদার পাস থেকে গোল করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তবে আজ ম্যাচে হ্যাটট্রিক পেতে পারতেন মেসি। সেই গোলটি এসেছিল ৮৯ মিনিটে মেসির পা থেকে। তবে ভিএআরের সাহায্যে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মেসিরা।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চিলিকে উড়িয়ে ব্রাজিলের দাপুটে জয়
সকাল সকাল ডেস্ক। মারকানা, ৫ সেপ্টেম্বর : বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে ঘরের মাঠ মারকানাতে চিলিকে আতিথ্য দিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সেই ম্যাচে চিলিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আনচেলত্তির দল। আর এই জয়ে কনমেবল অঞ্চলের পয়েন্ট টেবিলে দুইয়ে উঠে এলো ব্রাজিল। যদিও বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত আগেই করেছে ব্রাজিল। এদিন ব্রাজিলের দলে ডাক পাননি ভিনিসিউস জুনিয়র ও নেইমার। ব্রাজিলের এই দলটা বেশ তরুণ। ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখানো ব্রাজিল প্রথম গোল করে ৩৮ মিনিটে। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে প্রথম গোলটি করেন এস্তেভাও উইলিয়ান। প্রথম হাফে আর গোল হয়নি। দ্বিতীয় হাফে আরও দুই গোল হজম করে চিলি। ৭১ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে ৭২ মিনিটেই গোল করেন লুকাস পাকেতা। আর ৭৬তম মিনিটে চিলির কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন ব্রুনো গিমারেস। আগামী বুধবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচটি খেলতে মাঠে নামবে ব্রাজিল।
সাধ্যের মধ্যে স্ট্রোক চিকিৎসায় বিপ্লব আনবে দেশীয় প্রযুক্তি, দাবি বিশেষজ্ঞদের
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বর : মস্তিষ্কের বড় শিরাতে জমাট বাঁধা রক্ত অস্ত্রোপচারে এবার ব্যবহৃত হবে দেশের তৈরি ‘যন্ত্র’। দিল্লি এইমস-সহ দেশের মোট আটটি হাসপাতালে স্ট্রোকের চিকিৎসায় ওই যন্ত্রের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পরে তা ব্যবহারে ছাড়পত্র দিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই জানালেন ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’-এ অংশ নেওয়া একবালপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা। প্রায় বছরখানেক ধরে ওই পরীক্ষামূলক প্রয়োগে দেশের পূর্বাঞ্চলে একমাত্র অংশ নিয়েছিল কলকাতার সিএমআরআই হাসপাতাল। সেখানকার স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দীপ দাস জানান, মস্তিষ্কের ভিতরের বড় শিরাতে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন রোগী। সাধারণত এক চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে রোগীর মৃত্যু হয়। আর, তিন চতুর্থাংশ ক্ষেত্রে রোগী জীবিত থাকলেও জটিল পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। তিনি আরও জানান, বড় শিরার ক্ষেত্রে রক্ত গলানোর (থ্রম্বলাইসিস) ওষুধে কাজ হয় না। তখন মেকানিক্যাল থ্রম্বেক্টমি করতে হয়। ডাঃ দীপ দাস বলেন, অস্ত্রোপচারে বিদেশি যে স্টেন্ট রিট্রিভার-ডিভাইস ব্যবহার করা হয়, তার দাম প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। দেশীয় যন্ত্রটিতে আমজনতার উপকার হবে। তিনি এও বলেন, প্রায় বছরখানেক যাবৎ ৮টি হাসপাতালের মোট ৪২ জন রোগীর অস্ত্রোপচারে ওই যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। যন্ত্রটির কার্যকারীতা ও সুরক্ষা বিষয়ক রিপোর্ট খতিয়ে দেখেছে কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ কমিটি। তারপরেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের ছাড়পত্র মিলছে। ডাঃ দীপ দাস বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, উক্ত প্রক্রিয়ায় নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোলজির প্রফেসর বিমান কান্তি রায়। পাশাপাশি গ্র্যাভিটি ইন্টারন্যাশনাল এর মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক ডঃ শাশ্বত দেশাই এর বড় ভূমিকা ছিল তৃণমূল স্তরে ট্রায়ালের ক্ষেত্রে। জানা যাচ্ছে, পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য যন্ত্রটি বিদেশে তৈরি হলেও, আগামী দু’মাসের মধ্যে ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশীয় সংস্থা সেটি তৈরির কাজ শুরু করবে। তাতে দেশীয় বাজারে প্রায় ৫০ শতাংশ কম দামে যন্ত্রটি মিলবে।
কেরলে মহাসাড়ম্বরে ওনাম উদযাপন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা
সকাল সকাল ডেস্ক। তিরুবনন্তপুরম ও নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর : কেরলে মহাসাড়ম্বরে উদযাপিত হচ্ছে ওনাম উৎসব। সারা বছর এই সময়টির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন কেরলের মালয়ালি সমাজ। হিন্দুদের উৎসব হলেও ‘ওনাম’ আসলে কৃষি উৎসব। তাই এই উৎসবে মাতেন সমাজের সব সম্প্রদায়ের মানুষই। শুক্রবার তিরুবনন্তপুরমে ধুমধাম করে ওনাম উৎসব উদযাপন করা হয়। ১০-দিনব্যাপী ওনামের, শুক্রবার প্রধান উৎসব তিরুভোনাম। মানুষ এদিন মন্দির পরিদর্শন করেন, ঘরে ঘরে জড়ো হয়ে ওনাম উৎসব পালন করে ও উপহার বিনিময় করে উদযাপন করেন। ওনাম উপলক্ষ্যে সমগ্র দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাষ্ট্রপতি মুর্মু এক্স মাধ্যমে শুভেচ্ছা-বার্তায় লিখেছেন, “ওনামের শুভ উৎসব উপলক্ষ্যে, আমি সমস্ত নাগরিকদের, বিশেষ করে ভারতে এবং বিদেশে বসবাসরত কেরলের ভাই ও বোনদের আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানাই।” প্রধানমন্ত্রী মোদী শুভেচ্ছা বার্তায় লিখেছেন, “সবাইকে ওনামের শুভেচ্ছা জানাই! এই সুন্দর উৎসব সকলের জন্য নতুন আনন্দ, সুস্বাস্থ্য এবং প্রচুর সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। ওনাম কেরলের কালজয়ী ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে। এই উৎসব ঐক্য, আশা ও সাংস্কৃতিক গর্বের প্রতীক। এই উৎসব আমাদের সমাজে সম্প্রীতির চেতনাকে শক্তিশালী করে এবং প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সংযোগকে আরও নিবিড় করে।”
মেয়েদের শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর : রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বৃহস্পতিবার নতুন দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে শিক্ষকদের জাতীয় পুরষ্কার প্রদান করছেন। এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেছেন, কন্যাশিশুদের সর্বোত্তম শিক্ষা প্রদান করা নারী-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নকে উৎসাহিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, মেয়েদের শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, কন্যাশিশুদের শিক্ষায় বিনিয়োগ পরিবার, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নে একটি অমূল্য অবদান। রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উচ্চ শিক্ষায় মেয়েদের মোট ভর্তির অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষা ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন করে, দুর্বলতম পটভূমির শিশুদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনে সক্ষম করে। তিনি বলেন, খাদ্য, বস্ত্র এবং আশ্রয়ের মতোই, একজন ব্যক্তির মর্যাদা এবং নিরাপত্তার জন্য শিক্ষা অপরিহার্য। রাষ্ট্রপতি মুর্মু উল্লেখ করেছেন, জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ স্কুল পর্যায়ে শিক্ষাকে আরও সহজলভ্য এবং নিরবচ্ছিন্ন করার উপর বিশেষ জোর দেয়।
শতাব্দী প্রাচীন আগ্নেয়াস্ত্রের দোকানের তিন মালিক গ্রেফতার করল এসটিএফ
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বর, : রহড়ার ফ্ল্যাটে বিপুল কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে নেমে বেঙ্গল এসটিএফের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন শহরের শতাব্দী প্রাচীন দোকানের তিন মালিক। গত ৪ জুলাই রহড়ার রিজেন্ট পার্কের একটি আবাসনে অভিযান চালিয়ে ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৯০৪ রাউন্ড গুলি এবং কয়েক লক্ষ টাকা উদ্ধার করে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা দফতর। ওই আবাসন থেকেই লিটন মুখোপাধ্যায় নামে এক অস্ত্র কারবারিকে ধরা হয়। পরে তাকে জেরা করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থেকে কংস প্রামাণিক নামে আরও এক অস্ত্র কারবারিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার তদন্তভার ব্যারাকপুর কমিশনারেটের হাত থেকে তুলে দেওয়া হল রাজ্য পুলিশের এসটিএফের হাতে। বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল এসটিএফের একটি দল। সঙ্গে দোকান বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র। দোনলা ও একনলা বন্দুক মিলিয়ে মোট একচল্লিশটি বন্দুক উদ্ধার করে পুলিশ। কলকাতার ডালহৌসির দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রীদের বেধড়ক মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার ইংরেজি শিক্ষক
সকাল সকাল ডেস্ক। পূর্ব মেদিনীপুর, ৫ সেপ্টেম্বর, : ক্লাসেই ছাত্রীদের বেধড়ক মারের অভিযোগ ইংরেজির শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অবশেষে শুক্রবার পুলিশ গ্রেফতার করল অভিযুক্ত শিক্ষককে। অসুস্থ হয়ে বহু ছাত্রী ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবল শোরগোল এগরায়। ক্ষোভে অভিযুক্ত স্যর-সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষককে তালাবন্দি করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরার অস্তিচক সুরেন্দ্র যোগেন্দ্র বিদ্যাপীঠে। ওই স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক বিপ্লব পণ্ডা। সূত্রের খবর, অন্যান্যদিনের মতোই বৃহ্স্পতিবার স্কুলে গিয়েছিল পড়ুয়ারা। দুপুরের দিকে অষ্টম শ্রেণির ক্লাস নিতে যান বিপ্লব। অভিযোগ, সেখানেই ছাত্রীদের বেধড়ক মারধর করেন তিনি। এর জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে। তাঁদের মধ্যে ২১ জনকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। যদিও এই মারধরের কারণ স্পষ্ট নয়। বিষয়টা অভিভাবকরা জানামাত্রই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। অভিভাবক ও স্থানীয়রা হাজির হন স্কুলে। বিপ্লব-সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্কুলে তালাবন্দি করে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। উত্তাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় এগরা থানার পুলিশ। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আয়ত্তে আসে পরিস্থিতি। শুক্রবার শিক্ষকদিবসে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত বিপ্লবকে। অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা।
ত্রাণ শিবিরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন কেজরিওয়াল
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর : দিল্লির ত্রাণ শিবিরের ‘অব্যবস্থা’ নিয়ে সরব হলেন এএপি প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং এএপি-র জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, “আমরা মানুষের অবস্থা জানতে একটি ত্রাণ শিবিরে (শাস্ত্রী পার্ক এলাকা) এসেছি। তারা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তারা সময়মতো খাবার পাচ্ছে না, মশার উপদ্রব আছে, কিন্তু তা কমানোর কোনও ব্যবস্থা নেই, পানীয় জলের সমস্যা আছে, আমাদের বলা হয়েছিল যে গতকালই তাঁবু স্থাপন করা হয়েছিল, যদিও ইতিমধ্যেই বৃষ্টি হচ্ছিল। আমরা বুঝতে পারি যে এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিন্তু মানুষের জন্য সমস্ত ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব। আমরা সরকারকে ত্রাণ শিবিরে থাকা মানুষদের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য অনুরোধ করছি।” কেজরিওয়াল বলেন, “দিল্লিতে সর্বত্র জল জমে রয়েছে, বেশ কয়েকটি এলাকায় এর মূল কারণ হল সময়মতো পলি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি, ড্রেনগুলি সময়মতো পরিষ্কার করা হয়নি এবং বেশ কয়েকটি এলাকায় নর্দমার প্রবাহ বন্ধ রয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় পানীয় জল নেই। তাই, আমরা সরকারকে জনগণের জন্য যতটা সম্ভব সুবিধা প্রদানের জন্য অনুরোধ করছি। সমগ্র উত্তর ভারত – জম্মু ও কাশ্মীর, পঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, দিল্লি এবং উত্তরাখণ্ড বন্যার কবলে পড়েছে। তাই, আমি কেন্দ্রকে যতটা সম্ভব মানুষকে ত্রাণ সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করছি।ভূমিকম্পের পর কেন্দ্র আফগানিস্তানে ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করেছে। এটা ভালো, কিন্তু কেন্দ্রের উচিত বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত সকল রাজ্যকে ত্রাণ সরবরাহ করা।”
আদর্শ শিক্ষকের পরিচয়
সকাল সকাল ডেস্ক। গুরুদেব শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর ভারতে গুরু-শিষ্য পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত একটি অনন্য ধারণা রয়েছে। গুরু সবসময় শিষ্যের সাফল্যের কামনা করেন এবং শিষ্য গুরুর বিজয়ের কামনা করে। শিষ্য গুরুর বিজয়ের কামনা করে। এটি শুভ লক্ষণ, কারণ যদি শিষ্যের মনে হয় যে সে গুরুর চেয়ে বেশি জানে, তাহলে এর অর্থ তার শিক্ষা থেমে গেছে এবং তার অহংকার জ্ঞানকে নষ্ট করে দিয়েছে। শিষ্য জানে যে যদি তার ক্ষুদ্র মন জয়লাভও করে, তবু সে দুঃখই পাবে, কিন্তু যদি শিক্ষক জয়ী হন, তবে সেটি জ্ঞানের জয়, যা সবার জন্য শুধু মঙ্গল ও আনন্দ বয়ে আনবে।একজন মহান শিক্ষক বোঝেন যে শিষ্য কোথা থেকে আসছে এবং তাকে ধাপে ধাপে কীভাবে পথ দেখাতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ একজন আশ্চর্যজনক শিক্ষক ছিলেন! তিনি অর্জুনকে জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের জন্য সিঁড়ি-সিঁড়ি করে এগিয়ে নিয়েছিলেন। শুরুতে অর্জুন খুব বিভ্রান্ত ছিল। যখন একটি শিষ্য বিকাশ লাভ করতে থাকে, তখন সে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, কারণ সে তার ধারণাগুলোকে ভেঙে পড়তে দেখে। একজন ছাত্র হিসেবে, প্রথমে তুমি শিখো যে সূর্য পূর্ব দিক থেকে উদয় হয়। পরে তাকে গ্রহ-নক্ষত্র এবং তাদের সূর্যের চারপাশে আবর্তনের কথা শেখানো হয়। এভাবে প্রতিটি ধাপে তার ধারণা ভাঙে এবং নতুন ধারণা গড়ে ওঠে। মহান শিক্ষকরা এই প্রক্রিয়াটি বোঝেন। তারা শিষ্যকে কোনো একটি মতবাদে আঁকড়ে থাকতে দেন না, কারণ প্রতিটি ধারণাই কেবল চূড়ান্ত লক্ষ্য অভিমুখে একটি ধাপ। আর সেই ধারণাগুলিকে ভেঙেই পরবর্তী ধাপে ওঠা সম্ভব। একজন ভালো শিক্ষক শিষ্যের বিভ্রান্তি দূর করতে সাহায্য করেন এবং কখনো কখনো প্রয়োজন হলে আরও বিভ্রান্তিও সৃষ্টি করেন। আমার মনে আছে ছোটবেলায়, আমাদের একজন সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষিকা ছিলেন, যিনি খুবই স্নেহশীলা ছিলেন এবং সবাই তাঁর পাঠে থাকতে ভালোবাসত, কিন্তু পরীক্ষায় ছাত্রদের খুব কম নম্বর আসত। এর বিপরীতে, আমাদের একজন খুব কঠোর পদার্থবিদ্যার শিক্ষক ছিলেন, যাকে দেখে ছাত্ররা ভয় পেত, কিন্তু তাঁর পাঠের সবাই পরীক্ষায় খুব ভালো ফল করত। মহান শিক্ষকরা জানেন কীভাবে স্নেহ আর কঠোরতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রাখতে হয়। কিছু শিশু বিদ্রোহী প্রকৃতির হয়। তাদের বেশি শারীরিক সান্নিধ্য, উৎসাহ আর পিঠ চাপড়ানোর প্রয়োজন হয়। তাদের মনে করিয়ে দেওয়া দরকার যে তারা ভালোবাসা ও যত্ন পাচ্ছে এবং তাদের আপন করে নেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে, কখনো কখনো শিক্ষক ভীতু শিশুদের প্রতি কিছুটা কঠোর হতে পারেন। এর উদ্দেশ্য তাদেরকে খোলামেলা হতে সাহায্য করা। প্রায়ই এর উল্টোটাই হয়। শিক্ষকরা বিদ্রোহী শিশুদের সঙ্গে কঠোর হন আর ভীতু শিশুদের সঙ্গে নরম হন। ফলে এই আচরণ-পদ্ধতিগুলো থেকে যায়। শিক্ষকের আচরণে কঠোরতা এবং কোমলতা দুই-ই থাকা আবশ্যক; নইলে তারা ছাত্রকে সেই দিকটিতে নিয়ে যেতে পারবেন না, যেদিকে তারা নিয়ে যেতে চান। অবশেষে, শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল জ্ঞান প্রদান করা নয়, বরং ছাত্রদের দেহ ও মনের সামগ্রিক বিকাশ ঘটানো। শিশুদের মধ্যে ভাগাভাগি করা, যত্ন নেওয়া, অহিংসা ও আপনত্ববোধের মতো মূল্যবোধও গড়ে তুলতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষকদের সবসময় বিশাল ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের উচিত একসঙ্গে কাজ করে আমাদের দেশে শান্তি ও অগ্রগতি আনা। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় পরিবর্তনের ঢেউ তুলেছিলেন শিক্ষকরাই। তাঁরা পুরো দেশকে অনুপ্রাণিত করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আজও শিক্ষকদের শিশুদের অনুপ্রাণিত করা উচিত। শিশুরা খালি স্বচ্ছ পাত্রের মতো; তুমি তাদের যা কিছু দেবে, তারা সেটিই প্রতিফলিত করবে এবং সেভাবেই আচরণ করবে। যদি তুমি তাদের মধ্যে ভয় আর ভুল ধারণা ভরাও, তবে তারা সেভাবেই আচরণ করবে। কিন্তু যখন তুমি তাদের ভালো আদর্শ ও উত্তম গুণ দেবে, তখন তারা বড় হয়ে আদর্শবান ও দায়িত্বশীল নাগরিক হবে। আমরা কাউকে আদর্শ কেবল তখনই দিতে পারি, যখন আমরা নিজেরাই সেই আদর্শ ও গুণাবলী আত্মস্থ করেছি এবং তা মেনে চলি। তাই, এটি খুবই জরুরি যে শিক্ষক তাঁর জীবনে যা বলেন, তা নিজেও আচার-আচরণে প্রয়োগ করেন।