কড়া নিরাপত্তায় পুরীতে বাহুড়া যাত্রা শুরু, শ্রীমন্দিরে প্রত্যাবর্তন ঘিরে ভক্তদের উচ্ছ্বাস
সকাল সকাল ডেস্ক। ভুবনেশ্বর : পবিত্র নগরী পুরীতে শুক্রবার আয়োজিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাহুড়া যাত্রা (জগন্নাথদেবের ফিরতি রথযাত্রা) । ভগবান জগন্নাথ, ভগবান বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রা গুণ্ডিচা মন্দির থেকে পুনরায় শ্রীমন্দিরের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। এই উপলক্ষে পুরী শহরে ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা বলবৎ করা হয়েছে। পহণ্ডি বিহে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই যাত্রার সূচনা হচ্ছে। সকাল থেকেই হাজার হাজার ভক্ত এই পবিত্র যাত্রার সাক্ষী হতে পুরীতে সমবেত হতে শুরু করেছেন। গ্র্যান্ড রোড বা বড়দাণ্ডায় উপচে পড়া ভিড়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে ওড়িশা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তরা মহাপ্রভুর দর্শনের জন্য একত্রিত হচ্ছেন। রথযাত্রার সমাপ্তি পর্ব হিসেবে আয়োজিত এই বাহুড়া যাত্রায় লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটেছে। রথগুলির সুশৃঙ্খল প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের পুঙ্খানুপুঙ্খ আয়োজন করেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে, বিশেষ করে বড়দাণ্ডা মার্গে ব্যাপক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যে পথ ধরে তিনটি রথ শ্রীমন্দিরের দিকে অগ্রসর হবে। পুণ্যার্থীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অধীনে প্রশাসন পুরী ও তার আশেপাশের এলাকায় মোট ৩১টি পার্কিং জোন তৈরি করেছে। এই পার্কিং স্থানগুলিতে প্রায় ৭,৩৩০টি চার চাকা গাড়ি এবং ১৮,০০০-এরও বেশি দু-চাকার যানবাহন পার্ক করার ব্যবস্থা রয়েছে। বিপুল ভিড়ের কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত ট্রাফিক ডাইভারশন ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে পুণ্যার্থীদের কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় সিজেপি, সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পরও জারি আন্দোলন
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে শুক্রবার নয়াদিল্লির ভিপি পটেল হাউসে বৈঠক করলেন ‘করকোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। বৈঠকের পর সিজেপি জানিয়েছে, তাদের দুই দাবিতে সরকার নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এখনও অনড় তারা।
এখনও খারাপ আবহাওয়া, টানা ৫-দিন স্থগিত বৈষ্ণোদেবী যাত্রা
সকাল সকাল ডেস্ক।জম্মু: জম্মু ও কাশ্মীরের আবহাওয়া এখনও খারাপ, আর সেই কারণেই বৃহস্পতিবারও স্থগিত রাখা হয়েছে বৈষ্ণোদেবী যাত্রা। জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরা এবং ত্রিকুটা পাহাড়ে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এই নিয়ে টানা পঞ্চম দিনের জন্য বৈষ্ণো দেবী যাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। টানা পঞ্চম দিনের মতো যাত্রা স্থগিত থাকায়, শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী তীর্থযাত্রার বেস ক্যাম্প ও যাত্রার প্রারম্ভিক কেন্দ্রটি জনশূন্য ও নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। খারাপ আবহাওয়ার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই তীর্থযাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছে, এই স্থগিতাদেশের কারণে কাটরা এলাকায় তীর্থযাত্রীদের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তীর্থযাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত যাত্রাপথের দিকে অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত থাকেন।
কাশ্মীর সর্বদাই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে : পি হরিশ
কাশ্মীর সর্বদাই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে, রাষ্ট্রসঙ্ঘে জোর দিয়ে বললেন ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে প্ররোচণা দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ‘প্রাকৃতিক সম্পদ শাসন : শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির ভিত্তি’ শীর্ষক উচ্চ-স্তরের বিতর্কে পি হরিশ পাকিস্তানের তীব্র নিন্দা করেন।
বাদল অধিবেশনের চতুর্থ দিনেও উত্তাল সংসদ
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি: সংসদের বাদল অধিবেশনের চতুর্থ দিনেও উত্তাল সংসদ। নিট-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলে দফায় দফায় মুলতুবি হয়েছে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন। প্রথমে দুপুর বারোটা এবং পরে দুপুর দুটো পর্যন্ত মুলতুবি করে দেওয়া হয়েছে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, “আজ প্রধানমন্ত্রী একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এটি একটি উসকানিমূলক বিবৃতি। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত; তবেই আমরা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত হব।” সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, “সব দলই দাবি জানিয়েছে, নিট নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। এনডিএ-র সব শরিক দল আবারও দাবি জানিয়েছে, নিট নিয়ে আলোচনা হোক। গতকাল খাড়গে জি এবং বিরোধী দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর আমাদের মনে কিছুটা আশা জেগেছিল যে, আজ হয়তো আলোচনা হতে পারবে। কিন্তু কংগ্রেস দল একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। আমরা অনুরোধ করেছিলাম, আলোচনা কীভাবে এবং কতক্ষণ ধরে চলবে তা আমরা নিজেদের মধ্যেই ঠিক করে নেব, কিন্তু কোনও শর্ত চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার এই মানসিকতা ঠিক নয়, কারণ এর মাধ্যমে আপনারা আসলে আলোচনাটিই বন্ধ করতে চাইছেন। আমরা আবারও অনুরোধ করছি, কোনও রকম রাজনৈতিকীকরণ ছাড়াই সংসদের উভয় কক্ষে নিট পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হোক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও অত্যন্ত জোরালো একটি পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং দেশকে জানিয়েছেন, বিচার ব্যবস্থায় ‘ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট’ বা দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা প্রয়োজন; যাতে দেশে কোনও ঘটনা ঘটলে যত দ্রুত সম্ভব কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। সরকার এমন একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার অনুরোধ, আপনারা কোনও শর্ত চাপাবেন না।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত এফআইআরে একযোগে আইনি রক্ষাকবচ দিতে অস্বীকার আদালতের
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা : রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর সংক্রান্ত মামলায় সুরাহা মিলল না কলকাতা হাই কোর্টে। বৃহস্পতিবার তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলায় একযোগে আইনি রক্ষাকবচ দেওয়ার মৌখিক আর্জি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। সম্প্রতি রাজ্যের ভবানীপুর, শিলিগুড়ি, নকাশিপাড়া, বিষ্ণুপুরসহ বিভিন্ন থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে আটটি নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই সমস্ত মামলাকে একত্র করে কড়া পদক্ষেপের হাত থেকে সুরক্ষার আর্জি জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবী। মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে এভাবে একযোগে ঢালাও আইনি সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। অভিষেকের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল করে জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন থানায় পর পর মামলা করা হচ্ছে। তাই সবকটি মামলায় একসঙ্গে স্বস্তি দেওয়া হোক। সিব্বল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ টেনে যুক্তি দেন, পূর্বে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হলে আদালত তাঁকে আইনি সুরক্ষা দিয়েছিল এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া নতুন মামলা দায়েরের ওপরও স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। তবে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়, শুভেন্দু অধিকারীর বিষয়টি একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ মাত্র ছিল। বিচারপতি ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, শুভেন্দু অধিকারীর মামলার উদাহরণ এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সমস্ত পক্ষের বক্তব্য না শুনে আদালত কোনো নির্দেশ জারি করবে না। তবে আদালত এ-ও জানিয়েছে, পরবর্তী শুনানির আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যদি কোনো কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হয়, তবে তা আদালতকে জানানো যেতে পারে। আগামী ৩০ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
অসমে অপরিবর্তিত বন্যা পরিস্থিতি, মৃত বেড়ে ৩১
সকাল সকাল ডেস্ক। গুয়াহাটি : দু-একটি এলাকায় সামান্য জল কমলেও সার্বিকভাবে অসমে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় আরও ২১ জনের মৃত্যু হওয়ায় রাজ্যে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএসডিএমএ) সর্বশেষ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সর্বাধিক ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে শিবসাগর জেলায়। এছাড়া চড়াইদেওয়ে পাঁচ, গোলাঘাটে দুই এবং যোরহাট জেলায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে এএসডিএমএ-এর বুলেটিনে। এ খবর লেখা পর্যন্ত বন্যার প্রভাবে ১৬টি জেলা যথাক্রমে শিবসাগর, যোরহাট, চড়াইদেও, গোলাঘাট, ডিব্রুগড়, ধেমাজি, লখিমপুর, শোণিতপুর, বিশ্বনাথ, ওদালগুড়ি, হোজাই, নগাঁও, কামরূপ (গ্রামীণ), কামরূপ (মেট্রো), তিনসুকিয়া এবং কার্বি আংলং-এর ৫ লক্ষ ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এএসডিএমএ-এর তথ্য বলেছে, ৪৪টি রাজস্ব চক্রের অন্তর্গত ৮৭২টি গ্রাম এখনও বন্যার জলে প্লাবিত। প্রায় ২৪,২১০ হেক্টর কৃষিজমি জলের নীচে চলে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষককুল, এতে তাঁদের জীবিকা নির্বাহে সংকট দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর জেলা। শিবসাগরে ৩ লক্ষ ৫৯ হাজারের বেশি মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। এর পর রয়েছে যোরহাট। যোরহাটে ৮৭,৬৬২ জন, চড়াইদেওয়ে ৭২,৬৪৬, ডিব্ৰুগড়ে ১৮,৬১৫ জন এবং ১৬,৭৯৯ জন গোলাঘাটে। বন্যাদুর্গতদের আশ্রয় ও ত্রাণের জন্য জেলা প্রশাসন ২৭৩টি ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করেছে। ওই সব ত্রাণ শিবিরে ১ লক্ষ ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। ত্ৰাণ ও উদ্ধারে যৌথভাবে নিরলস কাজ করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, ভারতীয় বায়ুসেনা, ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ), স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ), অগ্নিনির্বাপক ও জরুরি পরিষেবার দল, আসাম পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন যৌথভাবে নিরলস কাজ করছে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে যোরহাট জেলার অন্তর্গত টিয়ক রাজস্ব সার্কলের অধীন সেলেংঘাট এলাকা, সেলেং চা বাগানের কাছে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা পাওয়ার পর একটি বিশেষ উদ্ধার অভিযান চালায় এনডিআরএফ। খোদ ডেপুটি কমান্ডেন্ট এনকে তিওয়ারির তত্ত্বাবধানে ইনস্পেক্টর কেবি নাথের নেতৃত্বাধীন দলটি পাঁচজনকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ছিলেন প্লাবিত বাড়ির ছাদে আটকে পড়া এক কিশোরী, প্রবল স্রোতে আটকে পড়া এক ব্যক্তি এবং বন্যার জলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া তিনজন মহিলা। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ বন্যার জলে থাকার ফলে মারাত্মক হাইপোথার্মিয়ায় আক্রান্ত এক বৃদ্ধাকেও উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর নির্ধারিত ত্রাণ শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উজান অসমের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও বন্যার জলে ডুবে থাকায় উদ্ধারকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর রাজ্য প্রশাসন নিবিড় নজর রাখার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
শ্রাবণের প্রথম সোমবারেই ভক্তদের ঢল তারকেশ্বরে
হুগলি: শ্রাবণের প্রথম সোমবার। আর সেই শুভ তিথিতেই কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হল শৈবতীর্থ তারকেশ্বর। এদিন ভোর রাত থেকেই লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ঢল নামে বাবা তারকনাথের দরবারে। শেওড়াফুলির নিমাই তীর্থ ঘাট থেকে বাঁক কাঁধে গঙ্গাজল নিয়ে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার পথ হেঁটে শিবের জয়গান করতে করতে তারকেশ্বরের উদ্দেশে রওনা দেন ভক্তরা। প্রথম সোমবারকে ঘিরে গোটা তারকেশ্বর জুড়ে ছিল ভক্তি, আবেগ এবং উৎসবের এক অনন্য পরিবেশ।
তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজই থাকছে, অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিল না হাইকোর্ট
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে অন্তর্বর্তী স্বস্তি পেল না তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র জারি করা নোটিসের বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্তর্বর্তী আবেদন সোমবার খারিজ করে দেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। ফলে ইডি যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করেছে, সেগুলি আপাতত আগের মতোই ফ্রিজ অবস্থায় থাকবে। সূত্রের খবর, তদন্তের স্বার্থে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ন’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এর মধ্যে তিনটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। ওই অর্থের উৎস, লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইডির এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের আইনজীবীদের দাবি ছিল, একই বিষয়ে এর আগে আদালতে শুনানি হয়েছে এবং সেই সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য কিছু পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে নতুন করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নোটিস জারি আইনসঙ্গত কি না, তা আদালতের বিবেচনার বিষয় বলে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। মামলার শুনানিতে ইডির আইনজীবীরা জানান, তদন্ত এখনও চলমান। তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি সচল করা হলে প্রমাণ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। সেই কারণেই অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ রাখা প্রয়োজন বলে আদালতে সওয়াল করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও অন্তর্বর্তী আবেদন খারিজ করে দেন। আদালতের এই নির্দেশের ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্রিজ করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে আপাতত কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টির আইনি দিক নিয়ে বিস্তারিত শুনানি হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।
অভিষেকের বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে তোপ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
কলকাতা: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়া এবং তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।