প্রকৃত বন্ধু চেনার সহজ উপায়

সকাল সকাল ডেস্ক

জীবনে বন্ধুর গুরুত্ব অপরিসীম। সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া থেকে শুরু করে কঠিন সময়ে পাশে থাকা—বন্ধুত্বের সম্পর্ক মানুষের জীবনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু যাঁদের আমরা কাছের বন্ধু বলে মনে করি, তাঁদের সকলেই যে আমাদের ভালো চান, এমনটা নয়। অনেক সময় বন্ধুত্বের আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে ঈর্ষা, প্রতিযোগিতা কিংবা নেতিবাচক মনোভাব। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটর জোশ এবং কয়েকজন সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ এমন কিছু আচরণের কথা তুলে ধরেছেন, যা বন্ধুত্বের সম্পর্কে অস্বস্তি বা দূরত্বের ইঙ্গিত দিতে পারে।

কোনও বন্ধু যদি বারবার আপনার সাফল্যকে গুরুত্বহীন বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন, তবে তা ঈর্ষার লক্ষণ হতে পারে। প্রকৃত বন্ধু সাধারণত অন্যের অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেন। কিন্তু কেউ যদি প্রশংসার পরিবর্তে সব সময় সমালোচনা করেন কিংবা সাফল্যকে ছোট করে দেখান, তাহলে সেই সম্পর্ক নিয়ে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে যোগাযোগও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্ক বজায় রাখতে যদি একজনকেই বারবার উদ্যোগী হতে হয় এবং অন্যজন কখনও নিজে থেকে খোঁজ না নেন, তাহলে সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে ব্যস্ততা বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণেও যোগাযোগ কমে যেতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও একটি লক্ষণ হল আচরণে বৈষম্য। কোনও ব্যক্তি অন্যদের সঙ্গে হাসিখুশি ও আন্তরিকভাবে মিশলেও আপনার সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে শীতল কিংবা উদাসীন আচরণ করলে তা সম্পর্কের দূরত্বের ইঙ্গিত হতে পারে। একইভাবে আপনার ভালো খবর শুনে আনন্দিত না হয়ে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়া কিংবা অন্যদের সামনে আপনার দুর্বলতা নিয়ে উপহাস করাও সুস্থ বন্ধুত্বের পরিপন্থী।

কারও মনে আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলে তিনি অনেক সময় সাধারণ কথাবার্তার মধ্যেও খারাপ উদ্দেশ্য খুঁজতে পারেন। এর ফলে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে এবং সম্পর্কের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়।

শুধু সমাজমাধ্যমের পর্যবেক্ষণ নয়, সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও শ্রদ্ধার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেছেন কাউন্সেলররা। কাউন্সেলর ডোনা মরগানের মতে, বন্ধুত্বে পারস্পরিক প্রচেষ্টার অভাব একটি বড় সমস্যা। একজন ব্যক্তি যদি সব সময় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন, অথচ অন্যজন কোনও উদ্যোগ না নেন, তাহলে ধীরে ধীরে হতাশা ও অবমূল্যায়িত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, কাউন্সেলিং ডিরেক্টরির সদস্য আবিগেইল হোলম্যানের মতে, বন্ধুত্বে একতরফা মানসিক নির্ভরতাও সমস্যার কারণ হতে পারে। কেউ যদি প্রতিনিয়ত নিজের সমস্যার কথা বলে যান, অথচ বন্ধুর পরামর্শ বা সহযোগিতাকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে সেই সম্পর্ক উভয়ের কাছেই মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় মতপার্থক্যের বিষয়টিও উঠে এসেছে। রাজনীতি কিংবা সামাজিক নানা বিষয়ে বন্ধুদের মধ্যে ভিন্ন মত থাকতেই পারে। তবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার অভাব দেখা দিলে সেই মতবিরোধ সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে।

তবে একটি বা দুটি আচরণের ভিত্তিতে কোনও বন্ধুকে শত্রুভাবাপন্ন বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, মানসিক চাপ কিংবা যোগাযোগের সমস্যাও আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করা জরুরি।

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ বন্ধুত্বের মূল ভিত্তি হল বিশ্বাস, সম্মান, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা। যে সম্পর্ক বারবার মানসিক অস্বস্তি, অপমান কিংবা অবমূল্যায়নের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, সেই সম্পর্কের সীমারেখা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কারণ বন্ধুত্বের আসল পরিচয় শুধু একসঙ্গে সময় কাটানো নয়, বরং একে অপরের ভালো-মন্দে আন্তরিকভাবে পাশে থাকা।

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More