সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লি: দিনের শুরুটা হয়েছিল ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু সেই গতি ধরে রাখতে পারল না দেশের শেয়ার বাজার। নিফটির সাপ্তাহিক মেয়াদ শেষের দিনে বিদেশি লগ্নিকারীদের বিক্রি, উঁচু স্তরে মুনাফা তোলা এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার শেয়ারে বড় পতনের জেরে শেষ পর্যন্ত লাল দাগেই বন্ধ হল সেনসেক্স ও নিফটি। মঙ্গলবারের লেনদেন শেষে সেনসেক্স ০.৪৪ শতাংশ এবং নিফটি ০.৩৬ শতাংশ নেমেছে। বাজারের পতনে একদিনেই লগ্নিকারীদের সম্পদ কমেছে প্রায় ২.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা।
এদিন বিএসই সেনসেক্স ৪২.৫১ পয়েন্ট বেড়ে ৭৪,৯০১.৫০ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। প্রথম দিকে সামান্য ওঠানামার পর ক্রেতাদের সক্রিয়তায় সূচকটি আরও উপরে ওঠে। প্রথম ঘণ্টার কিছু পরে সেনসেক্স ১৭৯.৯৪ পয়েন্ট বেড়ে দিনের সর্বোচ্চ ৭৫,০৩৮.৯৩ পয়েন্টে পৌঁছয়।
তবে সেই উত্থান বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিক্রির চাপ বাড়তেই দ্রুত সমস্ত লাভ হারিয়ে লাল দাগে নেমে আসে সেনসেক্স। দুপুর দু’টো নাগাদ দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ৬১৫.২২ পয়েন্ট নেমে ৭৪,৪২৩.৭১ পয়েন্টে পৌঁছয় সূচকটি। শেষ দিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও দিনের শেষে ৩২৯.৯১ পয়েন্ট বা ০.৪৪ শতাংশ কমে ৭৪,৫২৯.০৮ পয়েন্টে বন্ধ হয় সেনসেক্স।
একই ছবি দেখা গিয়েছে এনএসই নিফটিতেও। এদিন ৩৯.৭৫ পয়েন্ট বেড়ে ২৩,৪৫৪.০৫ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে নিফটি। ক্রয়ের জেরে একসময় সূচকটি ৭৪.৭০ পয়েন্ট উঠে ২৩,৪৮৯ পয়েন্টে পৌঁছয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিক্রির চাপে সমস্ত লাভ মুছে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে নিফটি দিনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ২০৩.২৫ পয়েন্ট নেমে ২৩,২৮৫.৭৫ পয়েন্টে পৌঁছয়। শেষ দিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৮৫.৩০ পয়েন্ট বা ০.৩৬ শতাংশের পতনে ২৩,৩২৯ পয়েন্টে দিনের লেনদেন শেষ করে সূচকটি।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি লগ্নিকারীদের বিক্রি, মুনাফা তোলার প্রবণতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে চাপ বাজারের মনোভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া ভোলাটিলিটি ইনডেক্স’ বা ‘ইন্ডিয়া ভিক্স’-এর বৃদ্ধি লগ্নিকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
এদিন তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যায়। নিফটি আইটি সূচক ০.৮৬ শতাংশ এবং বিএসই টেক সূচক ০.৬৮ শতাংশ নেমে বন্ধ হয়েছে। ব্যাঙ্কিং, গাড়ি, মূলধনী পণ্য, ভোগ্যপণ্য, এফএমসিজি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ধাতু এবং তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের সূচকগুলিও পতনের মুখে পড়ে।
অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম ক্ষেত্রের শেয়ারে ক্রয়ের প্রবণতা বজায় ছিল। ফলে মিডিয়া সূচক এক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আবাসন সূচকও ০.৭০ শতাংশ বেড়ে বন্ধ হয়েছে। বৃহত্তর বাজারে অবশ্য চাপ বজায় ছিল। নিফটি মিডক্যাপ সূচক ০.০৮ শতাংশ এবং স্মলক্যাপ সূচক ০.২৩ শতাংশ কমেছে।
বাজারের পতনে লগ্নিকারীদের সম্পদেও বড় ধাক্কা লেগেছে। এদিনের লেনদেন শেষে বিএসই-তে নথিভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজারমূল্য কমে প্রায় ৪৮০.৩১ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সোমবার তা ছিল ৪৮২.৬৮ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ একদিনেই লগ্নিকারীদের সম্পদ প্রায় ২.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা কমেছে।
মঙ্গলবার বিএসই-তে মোট ৪,৫৮১টি শেয়ারে সক্রিয় লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২,১৭৪টি শেয়ার বেড়েছে এবং ২,১৮৯টি শেয়ারের দাম কমেছে। ২১৮টি শেয়ারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। এনএসই-তে লেনদেন হওয়া ৩,২৫৩টি শেয়ারের মধ্যে ১,৪৪৮টি বেড়েছে এবং ১,৮০৫টি কমেছে।
সেনসেক্সের ৩০টি সংস্থার মধ্যে মাত্র সাতটির শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী ছিল, বাকি ২৩টির দাম কমেছে। নিফটির ৫০টি সংস্থার মধ্যে ১৫টির শেয়ার বেড়েছে এবং ৩৫টির পতন হয়েছে।
দিনের উল্লেখযোগ্য লাভের তালিকায় ছিল কোল ইন্ডিয়া, এটারনাল, ইন্টারগ্লোব অ্যাভিয়েশন, টাইটান কোম্পানি এবং ডক্টর রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজ। অন্যদিকে টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস, নেসলে, বাজাজ ফিনসার্ভ, বাজাজ ফাইন্যান্স এবং সান ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গিয়েছে।
No Comment! Be the first one.