সকাল সকাল ডেস্ক
ঢাকা। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে আশুলিয়ার জামগড়া শিল্পাঞ্চলে রবিবার সন্ধ্যায় একটি কাভার্ড ভ্যানে থাকা এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, একটি সিলিন্ডার প্রায় ২০০ গজ দূরে ছিটকে গিয়ে রাস্তার পাশের একটি দোকানে পড়ে। এতে দোকানের ভিতরে থাকা এক মহিলার মৃত্যু হয়। একের পর এক বিস্ফোরণের জেরে একটি গার্মেন্টস কারখানাতেও আগুন ধরে যায়।
‘ঢাকা ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর ছড়িয়ে পড়া আগুন সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৪৫ মিনিটে জামগড়ায় থাকা পাঁচ-ছয়টি গাড়িকেও গ্রাস করে। আশুলিয়া পুলিশ রবিবার গভীর রাতে জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। রাত প্রায় সোয়া ১১টা নাগাদ কাভার্ড ভ্যানের ভিতর থেকে পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি।
মৃতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁর নাম জয়নব (৫৫)। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুরের বাসিন্দা মহম্মদ আলির স্ত্রী। জয়নব তাঁর মেয়ে সানজিদা আখতারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। সানজিদা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি দর্জির দোকানে কাজ করেন।
জয়নব দোকানের ভিতরে দাঁড়িয়ে থাকার সময় বিস্ফোরণের অভিঘাতে একটি সিলিন্ডার টিনের ছাদ ভেদ করে তাঁর মাথায় আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আধিকারিকদের মতে, জামগড়ায় প্রিটি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত একটি শিল্পাঞ্চলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া জানিয়েছেন, কারখানায় ব্যবহারের জন্য আনা সিলিন্ডারগুলি একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে নামানোর সময় আগুন লাগে।
আশুলিয়া মহিলা ও শিশু হাসপাতালের ম্যানেজার হারুন-উর-রশিদ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর মোট ২৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। আহতদের অধিকাংশই কারখানার আশপাশে থাকা সবজি বিক্রেতা এবং পথচারী।
গুরুতরভাবে দগ্ধ দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
No Comment! Be the first one.