সকাল সকাল ডেস্ক
ব্যাংকক: থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে ক্লাস চলাকালীন এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল নবম শ্রেণির এক পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। শুক্রবার ননথাবুরি প্রদেশের বাং ক্রুয়াই জেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে শিক্ষক-সহ চারজনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও, রয়টার্স পুলিশকে উদ্ধৃত করে একজন শিক্ষক নিহত এবং চারজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। হামলাকারী পড়ুয়ারও মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত কিশোর ওই স্কুলেরই নবম শ্রেণির ছাত্র। শুক্রবার ক্লাস চলাকালীন আচমকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে সে সহপাঠী ও শিক্ষকদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা স্কুলে। পড়ুয়াদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক শিক্ষক এগিয়ে এলে তাঁকেও গুলি করা হয় বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়েই বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীরা স্কুলে পৌঁছন। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় অভিযান। ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের প্রধান দেচারেপি কোংডি বিবিসিকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ওই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। তবে কী কারণে সে স্কুলে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
হামলাকারীর মৃত্যু নিয়েও প্রথম দিকে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্রাথমিকভাবে খবর ছড়ায়, গুলি চালানোর পর ওই পড়ুয়া স্কুল ভবনের ভিতরেই লুকিয়ে রয়েছে। কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পরে জানায়, হামলাকারী নিজেই গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। আবার কিছু সূত্রে পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যুর দাবি করা হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশাসনের তরফে সব দাবির আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ পোহ টেক তুং ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা স্কুলের ভিতরে গোলাগুলির খবর পান। দ্রুত সেখানে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। প্রথম দিকে আহতের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। থাই পিবিএস আহতের সংখ্যা ১৫ বলে জানায়। যদিও পরবর্তী সময়ে রয়টার্স পুলিশকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন এবং চারজন আহত হয়েছেন। একই প্রতিবেদনে হামলাকারীর আত্মহত্যার কথাও বলা হয়েছে।
প্রাথমিক খবরে বলা হয়েছিল, গুলি চালানোর পর অভিযুক্ত ছাত্রটি স্কুলের গোলাপি রঙের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় আশ্রয় নিয়েছিল। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্কুল চত্বর ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালায়। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। ব্যাংককের গভর্নমেন্ট হাউসে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দেশে এ ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয়।
অভিযুক্ত কিশোরের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে পৌঁছল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। থাইল্যান্ডের উপ-অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, অস্ত্রটির উৎস এবং কীভাবে ওই ছাত্র সেটি সংগ্রহ করেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটি দেবসিরিন স্কুলের একটি শাখা বলে জানা গিয়েছে। দেবসিরিন থাইল্যান্ডের পরিচিত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম এবং দেশটির বিভিন্ন জায়গায় এর শাখা রয়েছে। হামলার ঘটনাস্থল ননথাবুরি প্রদেশে, ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠে অবস্থিত।
থাইল্যান্ডে সাধারণ মানুষের হাতে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। দেশটিতে অস্ত্র আইন আরও কঠোর করার দাবি এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি বহুবার সামনে এলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একাধিক প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে গোলাগুলির ঘটনায় এক প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২২ সালে উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের একটি শিশুদিবাযত্ন কেন্দ্রে এক প্রাক্তন পুলিশকর্মীর হামলা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই ঘটনায় ২৪ শিশু-সহ মোট ৩৬ জন নিহত হন।
শুক্রবারের ঘটনার নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ, মানসিক চাপ নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে স্কুলের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নাবালকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছনোর বিষয়টিও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
No Comment! Be the first one.