পুরুলিয়া বিমানবন্দরের জন্য ₹২ হাজার কোটি বরাদ্দ, দ্রুত কাজ শুরুর দাবি সাংসদের

সকাল সকাল ডেস্ক

কলকাতা

ডবল ইঞ্জিন সরকারের উদ্যোগে পুরুলিয়ার বহুদিনের বিমানবন্দর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য বাজেটে ঘোষণার পরই পুরুলিয়ার ছড়রায় প্রস্তাবিত বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ₹২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি পরিত্যক্ত ছড়রা এয়ারস্ট্রিপ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

পুরুলিয়া শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছড়রা এয়ারস্ট্রিপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হত। যুদ্ধ শেষে ধীরে ধীরে সেটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। বহু বছর ধরে সেখানে বাণিজ্যিক বিমানবন্দর তৈরির দাবি উঠলেও বিভিন্ন সময়ে সমীক্ষা ও পরিকল্পনার মধ্যেই প্রকল্প সীমাবদ্ধ ছিল। বামফ্রন্ট ও পরবর্তী তৃণমূল সরকার উভয় আমলেই উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।

এবার বাজেটে বরাদ্দের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এখনও কয়েকটি প্রযুক্তিগত ও জমি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। ওএলএস (অবস্টাকল লিমিটেশন সারফেস) সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণে একটি রেললাইন এবং একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ পরিবহণ লাইন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে দিল্লি থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসার কথা রয়েছে। পাশাপাশি রেললাইনের পাশে থাকা রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ১১ নম্বর ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প অন্যত্র সরানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

এই বিমানবন্দরটি কেন্দ্রের ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে এটি পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম বাণিজ্যিক বিমানবন্দর হবে। বর্তমানে প্রায় ৩০০ একর জমি উপলব্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে রানওয়ে সম্প্রসারণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হতে পারে।

প্রকল্প অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ১১০০ মিটার দীর্ঘ ওয়ান-বি শ্রেণির রানওয়ে নির্মাণ করা হবে। পরে সেটিকে ১৭০০ মিটার দীর্ঘ টু-সি শ্রেণির রানওয়েতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নির্মিত হবে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ভবন, দমকল কেন্দ্র, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ওয়াচ টাওয়ার, ভূগর্ভস্থ জলাধারসহ আধুনিক বিমানবন্দরের সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পুরনো রানওয়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই নতুন করেই আধুনিক মানের রানওয়ে নির্মাণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

Read More News

ভুরকুন্ডায় শীঘ্রই গড়ে উঠতে পারে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন, কেন্দ্রীয় কয়লামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আশ্বাস

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই: ভুরকুন্ডায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্থায়ী ভবন নির্মাণের...

Read More