সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন: ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করার পেছনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানে টানা ১৩ দিনের বিমান হামলার পর পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকেই জেনারেল কেইন যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত, সম্ভাব্য বেসামরিক প্রাণহানি এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
একটি সূত্রের দাবি, জেনারেল কেইন ট্রাম্পকে জানান, মার্কিন সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্টের যেকোনো নির্দেশ বাস্তবায়নে সক্ষম হলেও, সম্ভাব্য পরিণতিগুলিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আলোচনায় অংশ নেওয়া একাধিক সূত্রের মতে, বৈঠকে গোলাবারুদের সীমিত মজুতের পাশাপাশি ইরানে বড় ধরনের হামলা চালালে ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানি, শরণার্থী সংকট এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি পরিশোধন অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে বৈঠকে তাঁকে সতর্ক করা হয়, এমন হামলায় বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং লাখো মানুষ বিদ্যুৎ ও খাদ্যসংকটে পড়তে পারেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ উপদেষ্টা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আরও বড় সামরিক অভিযান চালাতে সক্ষম। তবে সেই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক, মানবিক ও সামরিক পরিণতি বিবেচনা করা জরুরি।
এরপরই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয় বলে জানায় পেন্টাগনের একটি সূত্র। তবে এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী কি না বা ভবিষ্যতে আবার হামলা শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেং এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, তাহলে সব ধরনের পদক্ষেপের পথ খোলা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা এবং টানা ১৩ দিনের সামরিক অভিযানের পর ইরানের উচিত আলোচনার পথে এগিয়ে আসা। অন্যথায় সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে তেহরান অবগত।
এদিকে জেনারেল ড্যান কেইনের দফতরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টকে দেওয়া গোপন সামরিক পরামর্শ নিয়ে তাঁরা কোনও মন্তব্য করবেন না। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দফতরও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপরও চাপ বাড়ছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালৎস জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে দীর্ঘদিন সামরিক সহায়তা এবং হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তবে একই সঙ্গে দ্রুত নতুন অস্ত্র উৎপাদনের কাজও চলছে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নতুন যুদ্ধে জড়ানো হয়েছে। সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের অভিযোগ, এই সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিশ্বের অন্যান্য সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
সূত্রগুলির দাবি, ট্রাম্প প্রকাশ্যে সামরিক পদক্ষেপের কথা বললেও, একই সময়ে তিনি পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক চাপ বজায় রেখেই কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
No Comment! Be the first one.