ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিনদের সমর্থন কমছে, ট্রাম্পের লক্ষ্য নিয়েও প্রশ্ন: জরিপ

সকাল সকাল ডেস্ক

ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের প্রতি মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন ক্রমশ কমছে। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জনমত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রতি তিনজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে মাত্র একজন এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। একই সঙ্গে অধিকাংশেরই মত, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য কী।

গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত পরিচালিত এই সমীক্ষায় আরও উঠে এসেছে, ট্রাম্পের সামগ্রিক জনপ্রিয়তা সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসের তুলনায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তাঁর অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েই গেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কেন এই যুদ্ধে জড়িয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য কী, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও প্রায় ৪০ শতাংশ একই মত প্রকাশ করেছেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনমত সমীক্ষা দেখে সিদ্ধান্ত নেন না। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ইরানকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না দেওয়া।

সমীক্ষা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযানের শুরু থেকেই যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন ৪০ শতাংশের নিচে রয়েছে। সাম্প্রতিক দশকের অন্যান্য বড় সামরিক অভিযানের তুলনায় এই সমর্থন অনেক কম। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ শুরুর সময় প্রায় ৭০ শতাংশ এবং ২০০১ সালে আফগানিস্তান অভিযানের শুরুতে প্রায় ৯০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধের পক্ষে ছিলেন।

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষ ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান পার্টির ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত প্রাক্তন মেরিন সদস্য অ্যালেক্স ওম্যাক বলেন, কেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে, তা এখনও তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়। তিনি জানান, অতীতে রিপাবলিকানদের সমর্থন করলেও বর্তমান যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের প্রতি তাঁর আস্থা কমেছে।

যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ইরান ও লেবাননে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে মার্কিন অর্থনীতিতেও। দেশজুড়ে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রিপাবলিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যালেক্স কোনান্টের মতে, যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ায় ভোটারদের আস্থা ধরে রাখা রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না। প্রথমদিকে তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, ইরান সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হবে না। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সমালোচনাও বেড়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, এই সংঘাতের সঙ্গে ভিয়েতনাম যুদ্ধের কোনও তুলনা হয় না।

জর্জিয়ার বাসিন্দা রায়ান অ্যান্ডারসন, যিনি ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, বলেন, বিদেশের যুদ্ধের পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানেই প্রশাসনের বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, “আমাদের মিত্রদের পাশে থাকা জরুরি, কিন্তু নিজের দেশের মানুষের সমস্যাগুলোকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”

রয়টার্স/ইপসোসের এই সমীক্ষায় মোট ১,২৪৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন। সমীক্ষার সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ছিল ৩ শতাংশ পয়েন্ট।

Read More News

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ, একাধিক নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

সকাল সকাল ডেস্ক, নয়াদিল্লি : দেশজুড়ে বিভিন্ন আন্দোলন ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী প্রতিবাদকারীদের...

প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট অপসারণের ঘটনায় ক্ষমা চাইল মেটা, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা জানাল সংস্থা

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট সাময়িকভাবে...

হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েই রাজঘাটে সোনম ওয়াংচুক, মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বার্তা

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পরই দিল্লির রাজঘাটে...

Read More