সকাল সকাল ডেস্ক
দেওঘর, ২৫ জুলাই: আগামী ৩০ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলা রাজ্য সরকারি শ্রাবণী মেলা ২০২৬-কে সামনে রেখে শনিবার দেওঘর সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে প্রস্তুতি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ঝাড়খণ্ডের নগর উন্নয়ন, উচ্চ ও প্রযুক্তি শিক্ষা, পর্যটন, শিল্প-সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রী সুদিব্য কুমার।
বৈঠকে দেওঘরের জেলা প্রশাসক সৌরভ কুমার ভুবানিয়া এবং দুমকার জেলা প্রশাসক অভিজিৎ সিনহা বিভাগভিত্তিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তীর্থযাত্রীদের সুবিধা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী সুদিব্য কুমার বলেন, মেলা শুরুর আগেই ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে হবে। তাঁর কথায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তরা যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে জলাভিষেক করতে পারেন এবং বাবা বৈদ্যনাথ ধাম থেকে সুখস্মৃতি নিয়ে ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শ্রাবণী মেলা চলাকালীন আউট অব টার্ন দর্শন, ভিআইপি ও ভিভিআইপি দর্শন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এতে সাধারণ ভক্তদের দর্শনে কোনও অসুবিধা হবে না। আগামী ২৯ জুলাই ফের দেওঘর ও দুমকার তীর্থযাত্রী পরিষেবার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে মেলা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প, ট্রাফিক পোস্ট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র, মাতৃত্ব বিশ্রামগৃহ এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনটি টেন্ট সিটিতে আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া পানীয় জল, শৌচাগার, স্নানাগার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গরম ও আর্দ্রতার কথা মাথায় রেখে মিস্ট কুলিং ব্যবস্থা এবং ‘ইন্দ্র বর্ষা’ স্প্রে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেওঘর ও বাসুকীনাথের মধ্যে যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবার ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মেলা চলাকালীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক সমন্বিত মেলা কন্ট্রোল রুম, এআই ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা, যানবাহন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, ডিজিটাল প্যাভিলিয়ন এবং কিউআর কোডভিত্তিক অভিযোগ ও মতামত গ্রহণ ব্যবস্থা চালু থাকবে। কিউআর কোড স্ক্যান করে ভক্তরা সরাসরি প্রশাসনকে অভিযোগ বা পরামর্শ জানাতে পারবেন, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়।
বৈঠকে বিভিন্ন দফতরের সচিব, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের আশা, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত পরিকাঠামো এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবারের শ্রাবণী মেলা আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও ভক্তবান্ধব হবে।
No Comment! Be the first one.