সকাল সকাল ডেস্ক
রিয়াদ/সানা : লোহিত সাগরে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা এবং সামুদ্রিক উত্তেজনার জেরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ প্রদেশের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে। জোটের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজকে হুমকি দেওয়া এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে ব্যবহৃত সামরিক স্থাপনাগুলিকেই লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রাশিয়া টুডে (আরটি) এবং তুরস্কের সরকারি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানান, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং হোদেইদাহ বন্দরকে লক্ষ্য করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, হোদেইদাহ, রাস ঈসা এবং আল-সালিফসহ ইয়েমেনের সব প্রধান বন্দর সমুদ্রপথে চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে।
অন্যদিকে, হুথিদের পরিচালিত আল-মাসিরাহ টিভি দাবি করেছে, হামলায় হোদেইদাহ প্রদেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরের কামরান দ্বীপ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। হুথিদের দাবি, হামলায় এক নারী আহত হয়েছেন। সংগঠনের রাজনৈতিক শাখা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।”
হামলার কিছুক্ষণ পরই সৌদি আরবের শিল্পনগরী জাজান-এ হুথিদের পাল্টা হামলার খবরও সামনে আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা আরামকো-র একটি স্থাপনায় আগুন লেগেছে। এর আগে হুথিরা দাবি করেছিল, তারা চলতি সপ্তাহে সৌদি মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ট্যাঙ্কারে আগুন লাগলেও অন্যটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হুথি গোষ্ঠী লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের ওপর চলমান “অবরোধের” প্রতিবাদেই এই পদক্ষেপ। এর পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে সংঘাত শুরু হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি আরব সামরিক হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের ফলে ইয়েমেনে গভীর মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হুথিরা ইসরায়েল এবং ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে শুরু করে। তাদের দাবি, এটি ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে নেওয়া পদক্ষেপ। যদিও ২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতার পর হামলা কিছুটা কমে যায়। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের বিরুদ্ধে “কঠোর সামরিক ব্যবস্থা” নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের ইরান-সমর্থিত সংগঠন বলে উল্লেখ করেছেন।
No Comment! Be the first one.