সকাল সকাল ডেস্ক
নিট-ইউজি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতা। ডোরিনা ক্রসিংয়ের কাছে মিছিল শেষ হওয়ার পর আচমকাই বিক্ষোভকারীদের একাংশ এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পুলিশের দাবি, অবস্থান-বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল-সহ বিভিন্ন বস্তু ছোড়েন। কয়েকজন পুলিশকর্মীর গায়ে জল ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ প্রথমে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এরপর বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
এদিনের মিছিলে বাম ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সমর্থকরাও অংশ নেন। পৃথক মিছিলের অনুমতি না পাওয়ায় তারা মূল কর্মসূচিতেই যোগ দেয়। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার পথে মিছিল এগোনোর সময় বহু ছাত্রছাত্রী ও আন্দোলনকারী এতে সামিল হন। কারও হাতে ছিল প্রতিবাদী পোস্টার, কারও মুখে স্লোগান, আবার কেউ মুখোশ পরে মিছিলে অংশ নেন।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলন শুধু রাজধানীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে কলকাতার রাজপথেও প্রতিবাদে নেমেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, প্রশাসন শুরু থেকেই সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কায় এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। সংঘর্ষের পর ধর্মতলা ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না বা কতজনকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনও কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
No Comment! Be the first one.