সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন/তেহরান: হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলির ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানের জব্দ করা সম্পদ ব্যবহার করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, অন্য একটি দেশের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে।
জুলাইয়ের শুরু থেকেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। উভয় দেশই পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের জব্দ অর্থসম্পদ থেকেই হরমুজ প্রণালিতে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হলেও এই পদ্ধতিই সবচেয়ে ন্যায্য।
শুক্রবার সকালে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অন্য একটি দেশের সম্পদ জব্দ করে ভবিষ্যতের ক্ষতিপূরণ মেটানোর চেষ্টা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁর মতে, যদি এ ধরনের পদক্ষেপ স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়, তবে ভবিষ্যতে কোনও দেশের সম্পদই নিরাপদ থাকবে না এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।
ইরানের জব্দ সম্পদ দীর্ঘদিন ধরেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের বিষয়। গত জুনে সংঘাত প্রশমনের লক্ষ্যে দুই দেশ যে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল, সেখানে এই ইস্যুটিও আলোচনায় ছিল। তবে পরে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি সংকটের পর প্রথমবার ইরানের সম্পদ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে বিভিন্ন দেশে ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ আটকে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুমান অনুযায়ী, এই জব্দ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র একটি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করেছে, যা চলতি বছরের ৭ মে-র পর এক দিনে সর্বনিম্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অঞ্চলজুড়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরেই এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
No Comment! Be the first one.