সকাল সকাল ডেস্ক
রাঁচি, রোটারি ক্লাব অব রাঁচির ৭৩তম পদস্থাপনা অনুষ্ঠান করমটোলি চকের সেলিব্রেশন সভাগৃহে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ বর্ষের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। বিদায়ী সভাপতি অমিত আগরওয়াল এবং সম্পাদক ভাবনা তনেজা, প্রাক্তন গভর্নর তথা ক্লাব ট্রেনার যোগেশ গম্ভীরের উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত সভাপতি ললিত ত্রিপাঠী ও সম্পাদক শালিনী সিংঘানিয়াকে কলার পরিয়ে দায়িত্বভার অর্পণ করেন। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক স্বামী ভাবেশানন্দজি মহারাজ। তিনি বলেন, সমাজের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানবকল্যাণে রোটারি যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে, তার ইতিবাচক প্রভাব আগামী প্রজন্মের উপর পড়বে। তাঁর মতে, রোটারি শুধু বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি উন্নত পৃথিবী গড়ে তুলছে। তিনি আরও বলেন, রোটারির মূলমন্ত্র ‘সার্ভিস অ্যাবাভ সেলফ’ বা নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শ অনুসরণ করে প্রতিটি রোটারিয়ান সমাজসেবায় যে ভূমিকা পালন করছেন, তা ভারতকে বিশ্বগুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথকে আরও সুদৃঢ় করবে।
বিশিষ্ট অতিথি সরলা বিড়লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জগন্নাথন চোকালিঙ্গম বলেন, রোটারি ক্লাব বরাবরই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর মতে, ভারতের প্রতিভা, দক্ষতা ও সম্পদের কোনো অভাব নেই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তবে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা, জনসমাগমস্থল পরিচ্ছন্ন রাখা, সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো ছোট ছোট দায়িত্বই একটি উন্নত সমাজ গড়ে তোলে। এই ক্ষেত্রে রোটারিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সহকারী গভর্নর ড. বিনয় ধাঁঢানিয়া বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রোটারিয়ানরা মানবসেবার কাজ করে চলেছেন এবং সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
বিদায়ী সভাপতি অমিত আগরওয়াল ২০২৫-২৬ বর্ষে ক্লাবের বিভিন্ন কার্যক্রমের উল্লেখ করে বলেন, সদস্যদের সম্মিলিত ও নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার ফলেই একাধিক বড় প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
নবনির্বাচিত সভাপতি ললিত ত্রিপাঠী সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, রোটারির লক্ষ্য শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া। আগামী এক বছরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোটারির ভাবমূর্তি উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর আনন্দের চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু নেই। ২০২৬-২৭ বর্ষে রোটারি রাঁচি আরও বৃহৎ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে মাস্টার অব সিরেমনি গৌরব বাগারয় বলেন, রোটারির দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলেই পোলিওর মতো দুরারোগ্য ব্যাধি আজ বিশ্ব থেকে প্রায় নির্মূল হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে দৃঢ় সংকল্প ও অধ্যবসায় থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।
ক্লাবের নতুন সম্পাদক শালিনী সিংঘানিয়া বলেন, সমাজকল্যাণে রোটারির প্রতিটি পদক্ষেপ যেন অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে, সেই লক্ষ্য নিয়েই তাঁরা কাজ করবেন।
ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রাক্তন গভর্নর অজয় ছাবড়া। তিনি বলেন, রোটারি শুধু একটি সেবামূলক সংগঠন নয়, এটি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের চিন্তাধারা গড়ে তোলার একটি শক্তিশালী মঞ্চ। সংবেদনশীল মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ অজয় মারু, লায়ন্স ক্লাবের প্রাক্তন গভর্নর বি. কে. গদিয়ান, অনিল সিং, রাজীব মোদি, সুমিত আগরওয়াল, সঞ্জয় কাশ্যপ, সুরেশ সাবু, মনোজ তিওয়ারি, দীপক শ্রীবাস্তব, মুকেশ তনেজা, অজয় জৈন, ড. আনন্দ সিনহা, পবন জয়সওয়াল, প্রিয়াঙ্কা ত্রিপাঠী, হিতেশ ভগত, মেঘা জৈন, রোহন সুদ, ড. অনির্বাণ সান্যাল-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
এদিন ২০২৬-২৭ বর্ষের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিও আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ললিত ত্রিপাঠী, সম্পাদক শালিনী সিংঘানিয়া, কোষাধ্যক্ষ গিরিশ আগরওয়াল, সহ-সভাপতি ভাবনা তনেজা, মনোনীত সভাপতি হিতেশ ভগত, ক্লাব ট্রেনার যোগেশ গম্ভীর এবং অন্যান্য পরিচালক ও পদাধিকারীরা দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে রোটারি রাঁচি আগামী দিনে সমাজসেবামূলক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
No Comment! Be the first one.