সকাল সকাল ডেস্ক
হায়দরাবাদ: পর্দায় আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি, জনপ্রিয়তাও আকাশছোঁয়া। কিন্তু ছোটবেলার গল্পটা একেবারেই অন্য রকম ছিল বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার। দু’জনের শৈশবের একটা বড় অংশ কেটেছে স্কুলের ছাত্রাবাসে। তবে অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। দীর্ঘদিন ছেলেদের হোস্টেলে থাকার কারণে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতেই ভয় পেতেন বিজয়। অন্যদিকে ভাষা ও উচ্চারণের সমস্যার কারণে স্কুলে বারবার অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল রাশমিকাকে।
নতুন ছবি ‘রণবলী’-র প্রচারে নিজেদের ছোটবেলার সেই অভিজ্ঞতার কথাই ভাগ করে নিয়েছেন দুই তারকা।
মেয়েদের দেখলেই অস্বস্তিতে পড়তেন বিজয়
বিজয়ের জন্ম হায়দরাবাদে। মাত্র ছ’বছর বয়সে তাঁকে অন্ধ্রপ্রদেশের একটি আবাসিক স্কুলে পাঠানো হয়। ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন তিনি। স্কুলের নিয়মকানুন ছিল অত্যন্ত কড়া। বছরের প্রায় ১০ মাস ছাত্রাবাসেই কাটত। পরিবারের সঙ্গে থাকার সুযোগ মিলত মাত্র দু’মাস।
বিজয়ের কথায়, স্কুলটি ছিল শুধুমাত্র ছেলেদের জন্য। মহিলা শিক্ষক ছাড়া মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যত কোনও সুযোগ ছিল না। এমনকী ছেলেমেয়েদের একে অপরের দিকে তাকানোর ক্ষেত্রেও ছিল কড়াকড়ি। ফলে কৈশোরে হায়দরাবাদে ফিরে এসে মেয়েদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেও সমস্যায় পড়তেন তিনি।
অভিনেতা জানিয়েছেন, প্রথম দু’বছর কোনও মেয়ের সঙ্গে প্রায় কথাই বলেননি। স্কুলবাসে কোনও মেয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এলে চোখে চোখ রাখার বদলে জানালার বাইরে তাকিয়ে উত্তর দিতেন। সেই সময় এতটাই অস্বস্তি হতো যে বুক ধড়ফড় করত তাঁর।
মজার বিষয়, বিজয়ের এই লাজুক স্বভাবকেই অনেক মেয়ে আকর্ষণীয় বলে মনে করতেন। তাঁকে পাশে বসিয়ে গল্প করার জন্যও ডাকতেন। কিন্তু নিজের সংকোচ কাটাতে সময় লেগেছিল অভিনেতার।
কলেজে ওঠার পরই পরিস্থিতি বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন বিজয়। নিজের ভয়কে জয় করতে একদিন সরাসরি এক তরুণীর সঙ্গে গিয়ে কথা বলেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলার অস্বস্তি কাটতে শুরু করে তাঁর।
ভাষাই ছিল রাশমিকার বড় বাধা
রাশমিকার শৈশবের লড়াই ছিল অন্য রকম। ছোটবেলায় ভাষাগত সমস্যার কারণে স্কুলে বেশ অসুবিধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তাঁর প্রথম ভাষা ছিল তামিল। ফলে কুর্গের স্কুলে গিয়ে ইংরেজিতে কথা বলতে বলা হলে অনেক সময়ই চুপ করে যেতেন তিনি।
রাশমিকার কথায়, কেউ ইংরেজিতে কিছু জিজ্ঞাসা করলে কীভাবে উত্তর দেবেন, সেটাই বুঝে উঠতে পারতেন না। ফলে সহপাঠীদের সঙ্গে মিশতেও সমস্যা হতো।
শুধু স্কুলজীবনেই নয়, অভিনয়জগতে পা রাখার পরও ভাষা এবং উচ্চারণ নিয়ে নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছে তাঁকে। কখনও তাঁর উচ্চারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কখনও আবার অভিনয় দক্ষতা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে এসব মন্তব্য সামলাতে শিখেছেন অভিনেত্রী। এখন এ ধরনের সমালোচনা তাঁকে আর বিশেষ অবাক করে না বলেই জানিয়েছেন রাশমিকা।
শৈশবে একজনের লড়াই ছিল সংকোচের সঙ্গে, অন্যজনের ভাষার সঙ্গে। পরবর্তী সময়ে অবশ্য সেই বাধা পেরিয়েই ভারতীয় সিনেমার পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা।
No Comment! Be the first one.