সকাল সকাল ডেস্ক
লন্ডন-ওয়াশিংটন: ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে সমস্ত মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে আমেরিকা। আচমকা এই সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ঘাঁটিতে সম্ভাব্য হামলার হুমকি ছিল। সেই কারণেই ঝুঁকি না নিয়ে বিমানগুলি আমেরিকায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই হুমকির সঙ্গে ইরানের যোগ থাকতে পারে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে ঘিরে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে তথ্য ছিল। তাঁর যুক্তি, তুলনামূলক ভাবে অল্প খরচেই বিমানগুলি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। ফলে হামলার আশঙ্কা থাকলে মূল্যবান বোমারু বিমানগুলিকে সেখানে রেখে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নেওয়ার কোনও কারণ নেই।
হুমকির নেপথ্যে কারা থাকতে পারে, সে সম্পর্কেও আমেরিকার কাছে তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে ওই হুমকির যোগ রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি সম্ভাব্য যোগসূত্রের ইঙ্গিত দেন। যদিও এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ সামনে আসেনি।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে কয়েকটি ভ্যান ঘিরে সন্দেহ তৈরি হওয়ার পর সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত শুরু করে ব্রিটিশ পুলিশ। পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে প্রথমে আটক করা হয়। পরে ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট ভ্যানগুলি থেকে বিস্ফোরক না পেলেও পেট্রল উদ্ধার করেন। আটক ব্যক্তিদের পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকেই ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। ইউরোপে মার্কিন দূরপাল্লার বোমারু বিমান মোতায়েনের ক্ষেত্রে এই ঘাঁটির বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে মার্কিন হামলার ক্ষেত্রেও ফেয়ারফোর্ড থেকে বি-১ বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে ঘাঁটিতে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিয়েই দেখছে ওয়াশিংটন।
তবে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যেই বিমান সরানোর কারণ নিয়ে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে। বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী নিয়মিত প্রয়োজন অনুযায়ী বিমান ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ এক ঘাঁটি থেকে অন্যত্র সরিয়ে থাকে। অন্য দিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বিষয়টিকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন।
ব্রিটিশ সরকারও জানিয়েছে, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী। অন্য দিকে, তেহরান সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ইরানের যোগ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হুমকির উৎস এবং তার সঙ্গে ইরানের সরাসরি যোগ ছিল কি না, তা নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না।
তা সত্ত্বেও ফেয়ারফোর্ড থেকে একযোগে বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বি-১ ল্যান্সার দূরপাল্লায় বিপুল অস্ত্র বহন করে হামলা চালাতে সক্ষম মার্কিন বিমানবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বোমারু বিমান। মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ড্রোন হামলার আশঙ্কাও এই সিদ্ধান্তের পিছনে ছিল। তবে সেই হুমকি কতটা আসন্ন ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ফলে এখন মূল প্রশ্ন, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির বিরুদ্ধে সত্যিই কি কোনও হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল এবং তার নেপথ্যে ইরানের কোনও ভূমিকা ছিল কি না। আপাতত তার চূড়ান্ত উত্তর মেলেনি। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য এবং মার্কিন বিমানবাহিনীর পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকিকে হালকা ভাবে নেয়নি ওয়াশিংটন।
No Comment! Be the first one.