সকাল সকাল ডেস্ক
US-Iran Conflict নতুন মোড়ে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ইরানের সামরিক স্থাপনায় মার্কিন আঘাত, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা।
ওয়াশিংটন/তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে ফের সংঘাতের আবহ ঘনীভূত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীতে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে US-Iran Conflict। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত বাহিনী সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি এভার লাভলি’-কে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ফলে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
কীভাবে শুরু হল নতুন US-Iran Conflict?
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর দাবি অনুযায়ী, ২৫ জুন ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় ‘এমভি এভার লাভলি’ জাহাজটিকে লক্ষ্য করে একমুখী আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওয়াশিংটনের মতে, এই হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের উপর সরাসরি আঘাত এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে এমন হামলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। সেই কারণেই দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন হামলা
সেন্টকম জানিয়েছে, ২৬ জুন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র, অস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলিতে নির্ভুল বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
US-Iran Conflict-এর এই নতুন অধ্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে আন্তর্জাতিক জলপথে হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা মূলত ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে চাপে রাখার কৌশলের অংশ।
পাল্টা আঘাতের দাবি তেহরানের
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে।
যদিও এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও পক্ষই এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তেহরানের দাবি, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, US-Iran Conflict আরও জটিল রূপ নিতে পারে যদি দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকে।

ট্রাম্প ও ভ্যান্সের কড়া প্রতিক্রিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump জাহাজে হামলার ঘটনাকে ‘যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “ইরান এর ফল ভোগ করবে। তারা যা করেছে, তা করা উচিত হয়নি।”
ট্রাম্পের দাবি, জাহাজটিকে লক্ষ্য করে চারটি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি মার্কিন বাহিনী ভূপাতিত করেছে।
অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance বলেন, “হিংসার জবাব হিংসা দিয়েই দেওয়া হবে।” তাঁর অভিযোগ, ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব কেন এত বেশি?
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়।
এই কারণে US-Iran Conflict-এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত এবং বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
সেন্টকমের দাবি, হামলার জবাবে ২৬ জুন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলিতে নিখুঁত বিমান হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে। যদিও উভয় পক্ষের তরফে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি উদ্যোগেও অনিশ্চয়তা
উত্তেজনার আবহেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ চুক্তি মানবে না বলে জানিয়ে দেওয়ায় তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে শান্তি উদ্যোগ, অন্যদিকে US-Iran Conflict-এর নতুন উত্তেজনা—এই দুই বিপরীত পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা চিত্রকে আরও জটিল করে তুলছে।
No Comment! Be the first one.