ককপিটে ঘটনার পর বড় সিদ্ধান্ত, ইজরায়েলগামী সব উড়ান স্থগিত ফ্লাইদুবাইয়ের

সকাল সকাল ডেস্ক

দুবাই: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী একটি বিমানে গুরুতর ঘটনার পর ইজরায়েলগামী সমস্ত উড়ান সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল ফ্লাইদুবাই। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তেল আভিভের সঙ্গে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ উড়ানে ঘটনাটি ঘটে। বিমানটিতে যাত্রী ও কর্মী মিলিয়ে মোট ১৭২ জন ছিলেন। দুবাই থেকে উড়ে তেল আভিভের দিকে যাওয়ার পথে সৌদি আরবের আকাশসীমায় বিমানটি আচমকা দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। পরে জরুরি পরিস্থিতির সংকেত পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত গতিপথ পরিবর্তন করে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। সংস্থার দাবি, বিমানে থাকা সকলেই নিরাপদে রয়েছেন।

ফ্লাইদুবাইয়ের প্রধান নির্বাহী গাইথ আল গাইথ জানিয়েছেন, বিমানের ক্যাপ্টেন চিকিৎসকদের অনুমোদন পাওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ফিরে এসেছেন। যাত্রী ও বিমানকর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা নেওয়া পাইলট, কেবিন ক্রু এবং যাত্রীদের ধন্যবাদ জানিয়েছে সংস্থা।

তবে ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হল বিমানের ককপিটে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, উড়ানের সময় ফ্লাইট ডেকে একটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর ওই ঘটনায় আহত হন। অভিযোগ, বিমানের সহকারী পাইলট তাঁর উপর হামলা চালান এবং তার পর ককপিটে বিমান নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ধস্তাধস্তি হয়। যদিও এই দাবিগুলির পূর্ণাঙ্গ সত্যতা এখনও তদন্তে নির্ধারিত হয়নি।

উড়ানের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আকাশসীমায় থাকার সময় বিমানটি আচমকা তীব্র বাঁক নেয় এবং দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। ফ্লাইট ডেটা বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিমানটি ১৬ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতা হারিয়েছিল। প্রায় এক মিনিটের মধ্যে উচ্চতা প্রায় ১৭ হাজার ফুট কমে যায়।

এর পর বিমান থেকে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সেই সংকেতে সাধারণ জরুরি অবস্থার পাশাপাশি বেআইনি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনারও ইঙ্গিত ছিল। পরবর্তী সময়ে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয় এবং সেটি সৌদি আরবের তাবুকের দিকে যায়। সেখানেই নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি।

ঘটনার পর থেকেই ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কী কারণে বিমানটি এত দ্রুত উচ্চতা হারিয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না ফ্লাইদুবাই। সংস্থার বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলেই প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইজরায়েলগামী সমস্ত উড়ান সাময়িক ভাবে স্থগিত করেছে ফ্লাইদুবাই। সংস্থার দাবি, যাত্রী ও বিমানকর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উড়ান বাতিলের কারণে সমস্যায় পড়া যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ফ্লাইদুবাই।

এখন তদন্তকারীদের সামনে একাধিক প্রশ্ন। এফজেড ১০৭৩-এর ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল, পাইলট কী ভাবে আহত হলেন, কেন বিমানটি আচমকা এত দ্রুত উচ্চতা হারাল এবং জরুরি পরিস্থিতি তৈরির নেপথ্যে কী কারণ ছিল—তদন্তে সেই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে। আপাতত তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রেখে তেল আভিভগামী উড়ান স্থগিত রেখেছে ফ্লাইদুবাই।

Read More News

ইন্ডি জোটের বৈঠকে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ জানালেন বেণুগোপাল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডি জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী...

Read More