সকাল সকাল ডেস্ক।
এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় প্রেম নিবেদন, শান্তির বার্তা, তারপর পুলিশের হাতে গ্রেফতার—রুশ যুগলের ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল বিতর্ক।
Empire State Building Proposal ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সর্বোচ্চ অংশে উঠে প্রেম নিবেদন, শান্তির বার্তা লেখা ব্যানার প্রদর্শন এবং পরে পুলিশের হাতে গ্রেফতার—এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে ভারতের সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভালোবাসার প্রকাশ যেমন মানুষের আবেগকে ছুঁয়েছে, তেমনই নিরাপত্তা ও আইন লঙ্ঘনের প্রশ্নও সামনে এসেছে।
কী ঘটেছিল Empire State Building Proposal-এ?
রাশিয়ার পরিচিত ‘রুফটপার’ অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ এবং ইভান কুজনেৎসভ ওরফে ইভান বীরকুস নিউইয়র্কের প্রায় ১,৪৫৪ ফুট উঁচু এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের অ্যান্টেনার মাথায় উঠে একটি বিশাল ব্যানার মেলে ধরেন। সেখানে লেখা ছিল—“When the power of love beats the love of power, the world knows peace।”
এরপর অ্যান্টেনার নিচের একটি প্ল্যাটফর্মে হাঁটু গেড়ে অ্যাঞ্জেলার সামনে আংটি বাড়িয়ে দেন ইভান। আবেগঘন মুহূর্তে দু’জনে একে অপরকে আলিঙ্গন ও চুম্বন করেন। এই Empire State Building Proposal-এর ভিডিও এবং ছবি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
কীভাবে নিরাপত্তা ভেঙে উপরে উঠলেন?
তদন্তে জানা যায়, যুগল আগের রাতেই বৈধ টিকিট কেটে ভবনে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তাঁরা ভবনের ভেতরেই গোপনে রাত কাটান। পরদিন ভোরে নিরাপত্তা বলয় ভেঙে নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেন এবং সম্প্রচার অ্যান্টেনার দরজার তালা ভেঙে বিশেষ সরঞ্জামের সাহায্যে উপরে ওঠেন।
নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে তাঁদের চলাফেরা ধরা পড়ে। এরপর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউইয়র্ক পুলিশ।
উদ্ধার অভিযান ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ
এই Empire State Building Proposal-এর পর উদ্ধার অভিযানও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সম্প্রচার অ্যান্টেনা থেকে নির্গত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রেডিও সিগন্যালের কারণে প্রথমে উদ্ধারকারী দল উপরে উঠতে পারেনি।
উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য সাময়িকভাবে অ্যান্টেনার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়। এরপর নিউইয়র্ক পুলিশের জরুরি পরিষেবা শাখার সদস্যরা উপরে উঠে যুগলকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনেন।

পুলিশের অভিযোগ কী?
নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ ও ইভান বীরকুসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে—
- অনধিকার প্রবেশ
- চুরি
- নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষতি
- বেপরোয়া আচরণের মাধ্যমে বিপদ সৃষ্টি
- জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ
তদন্তকারীদের মতে, তাঁদের এই পদক্ষেপ শুধু নিজেদের নয়, উদ্ধারকারী বাহিনীর জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনজীবীর বক্তব্য
ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে তোলা হলে বিচারক পর্যবেক্ষণাধীন মুক্তির নির্দেশ দেন। আদালত থেকে বেরিয়ে নবনিযুক্ত যুগলকে হাত ধরাধরি করে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইভানের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ছিল, “আমরা নিউইয়র্ককে ভালোবাসি।”
অন্যদিকে তাঁদের আইনজীবী দাবি করেন, এই Empire State Building Proposal-এর উদ্দেশ্য ছিল ভালোবাসা ও শান্তির প্রতীকী বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কারও ক্ষতি করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না। যদিও তদন্তকারী সংস্থার মতে, অনুমতি ছাড়া এমন বিপজ্জনক স্থানে ওঠা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ভবন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দর্শনার্থী বা কর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি।
তবে তারা স্পষ্ট করেছে, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের অবজারভেশন ডেকে বৈধভাবে ও নিরাপদ পরিবেশে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।
কারা এই অ্যাঞ্জেলা ও ইভান?
অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ ও ইভান বীরকুস আন্তর্জাতিক ‘রুফটপিং’ জগতের পরিচিত নাম। বিশ্বের একাধিক সুউচ্চ অট্টালিকার মাথায় উঠে ছবি ও ভিডিও তৈরির জন্য তাঁরা বহুবার আলোচনায় এসেছেন।
তাঁদের জীবন ও সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে নির্মিত হয়েছে তথ্যচিত্র “Skywalkers: A Love Story”। সেই পরিচিতির কারণেই Empire State Building Proposal বিশ্বজুড়ে আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
জনমনে কী প্রতিক্রিয়া?
ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ঘটনার ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ তাঁদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন, আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—ভালোবাসার প্রকাশ কি এমন হওয়া উচিত, যেখানে নিজের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দলের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে?
আরো খবর দেখতে আমাদের ফেসবুক পেজ –
এই ঘটনা একদিকে প্রেমের সাহসী প্রকাশের প্রতীক হলেও অন্যদিকে আইন, নিরাপত্তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার গুরুত্বও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। ভালোবাসা মানুষকে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখাতে পারে, কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আইন ও নিরাপত্তার সীমারেখা মেনে চলাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
No Comment! Be the first one.