Digital Services Tax

Digital Services Tax: ট্রাম্পের ১০০% শুল্ক হুঁশিয়ারিতে চাপে ইউরোপ, ভারতের উপর কি পড়বে প্রভাব?

সকাল সকাল ডেস্ক

Digital Services Tax নিয়ে কড়া অবস্থান ট্রাম্পের, মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর কর আরোপকারী দেশগুলির বিরুদ্ধে ১০০% আমদানি শুল্কের হুঁশিয়ারি।

ওয়াশিংটন : বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর Digital Services Tax বা ডিজিটাল পরিষেবা কর আরোপকারী দেশগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, যেসব দেশ মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির উপর বিশেষ কর চাপাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে নতুন করে আলোড়ন শুরু হয়েছে।

আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ

Digital Services Tax নিয়ে ট্রাম্পের কড়া অবস্থান

নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কোনও দেশ যদি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থার উপর Digital Services Tax আরোপ করে, তাহলে সেই দেশের সমস্ত পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হবে। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে বিদ্যমান বা ভবিষ্যতে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিও কার্যত অকার্যকর বলে বিবেচিত হতে পারে।

ট্রাম্পের মতে, এই ধরনের কর মূলত মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকেই নিশানা করে। তাঁর অভিযোগ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের রাজস্ব বাড়ানোর জন্য আমেরিকার প্রযুক্তি জায়ান্টদের উপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

Digital Services Tax

কেন বিতর্কের কেন্দ্রে Digital Services Tax?

Digital Services Tax মূলত এমন একটি কর ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিদেশি প্রযুক্তি সংস্থাগুলির স্থানীয় বাজার থেকে অর্জিত আয়ের উপর কর আরোপ করা হয়। গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট, মেটা, অ্যাপল এবং অ্যামাজনের মতো সংস্থাগুলি বহু দেশে বিপুল ব্যবসা করলেও অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় কর কাঠামোর বাইরে থেকে যায় বলে অভিযোগ ছিল।

এই কারণেই ইউরোপের একাধিক দেশ ডিজিটাল পরিষেবা কর চালু করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই করের লক্ষ্যবস্তু মূলত আমেরিকার সংস্থাগুলি, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিপন্থী।

ভারতের উপর কি প্রভাব পড়বে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে ভারতের উপর সরাসরি কোনও বড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ ভারত ইতিমধ্যেই বহুল আলোচিত ‘গুগল ট্যাক্স’ বা Equalisation Levy প্রত্যাহার করেছে।

২০১৬ সালে বিদেশি ডিজিটাল সংস্থাগুলির অনলাইন বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের উপর ৬ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছিল। পরে ই-কমার্স পরিষেবার উপর ২ শতাংশ কর চালু হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে কেন্দ্র সরকার ধাপে ধাপে এই কর প্রত্যাহার করে নেয়।

২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের উপর আরোপিত শেষ করটিও বাতিল করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে ভারতের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় দেশগুলির উপর বাড়ছে চাপ

ট্রাম্পের নতুন অবস্থানের ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি সদস্য দেশ। বিশেষ করে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন এবং অস্ট্রিয়ার মতো দেশ দীর্ঘদিন ধরে Digital Services Tax কার্যকর রেখেছে।

ফ্রান্স ২০১৯ সাল থেকেই বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির স্থানীয় আয়ের উপর ৩ শতাংশ ডিজিটাল কর আরোপ করে আসছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছিল।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি হলেও ডিজিটাল কর সংক্রান্ত বিষয়টি সেই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছিল। ফলে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের মতবিরোধ আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, ইউরোপ তার নিজস্ব করনীতি ও আইন প্রণয়নের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি, কোনও বাণিজ্যিক চাপের মুখে তারা নতি স্বীকার করবে না বলেও স্পষ্ট করেছে।

কমিশনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডিজিটাল অর্থনীতিকে করের আওতায় আনা প্রতিটি দেশের সার্বভৌম অধিকার এবং এ বিষয়ে ইউরোপ তার অবস্থান বজায় রাখবে।

বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, Digital Services Tax-কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন বাণিজ্য সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদি ট্রাম্প প্রশাসন বাস্তবে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, তাহলে তা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি শিল্প এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক মাসে এই ইস্যু বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হতে পারে। ফলে ওয়াশিংটন এবং ব্রাসেলসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক বাজার।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই অবস্থানের ফলে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি হলেও ডিজিটাল পরিষেবা করের বিষয়টি সেই চুক্তির আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল। ফলে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

বিশেষত ফ্রান্স ২০১৯ সাল থেকেই বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দেশীয় আয়ের উপর ৩ শতাংশ ডিজিটাল কর আরোপ করে আসছে। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

Read More News

SIR Process: যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের জন্যই ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা, বিভাগীয় কমিশনারদের প্রশিক্ষণ দিলেন সিইও

সকাল সকাল ডেস্ক ৩০ জুন থেকে শুরু ইনুমেরেশন পর্ব, ভুল তথ্য দিলে হতে পারে আইনি ব্যবস্থা SIR...

রাঁচি স্টেডিয়াম পদদলিতের ঘটনায় জেএসসিএ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিজেপির তীব্র আক্রমণ, এফআইআরের দাবি

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি রাঁচি স্টেডিয়ামে সাম্প্রতিক পদদলিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় জনতা...

ডুরান্ড কাপ আয়োজন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি রাঁচির কাঁকে রোডে অবস্থিত মুখ্যমন্ত্রীর আবাসিক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার...

মাদকাসক্তি বিরোধী সচেতনতায় রাঁচিতে ম্যারাথন দৌড়, তরুণদের শপথ ঝাড়খণ্ডকে নেশামুক্ত গড়ার

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি মুখ্যমন্ত্রী শ্রী হেমন্ত সোরেনের নির্দেশে ঝাড়খণ্ডজুড়ে মাদকাসক্তি বিরোধী...

ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারের নাম বাদ যাবে না, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের

রাঁচি: ঝাড়খণ্ডের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কে. রবি কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিশেষ নিবিড়...

Read More