সকাল সকাল ডেস্ক
ডারবান : মাত্র ১২৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকেই দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। ম্যাট রেনশর অসাধারণ ১৯০ রানের ইনিংসে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ৩৯০ রান তুলল অস্ট্রেলিয়া। ডারবানের কিংসমিডে দ্বিতীয় দিনের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ১ উইকেটে ২৭ রান। প্রথম ইনিংসে এখনও ৩৬৩ রানে পিছিয়ে রয়েছে প্রোটিয়ারা।
দলের কঠিন পরিস্থিতিতে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন রেনশ। ৩৯৭ বল মোকাবিলা করে ১৯০ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে শতরানের মুখ দেখলেন তিনি। এর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সিডনিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৮৫ রান করেছিলেন। সেটিই ছিল তাঁর আগের সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোর। এবার সেই নজির ছাপিয়ে কেরিয়ারের সেরা ইনিংস খেললেন রেনশ।
প্রথম দিনে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৮৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন রেনশ। ৬ উইকেটে ১৮৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। কামিন্স ৪৩ এবং মিচেল স্টার্ক ৬ রান করে আউট হলে ফের চাপে পড়ে সফরকারীরা। তবে নাথান লিয়ঁকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রেনশ। নবম উইকেটে দু’জনে যোগ করেন ১৩৪ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্টে নবম উইকেটে এটি অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রানের জুটি। কিংসমিডের ইতিহাসেও নবম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের নজির গড়েন তাঁরা। লিয়ঁ করেন ২৭ রান।
ইনিংস চলাকালীন অনরিখ নোখিয়ার বাউন্সারে হেলমেটে আঘাত পেলেও মনঃসংযোগ হারাননি রেনশ। শেষ পর্যন্ত দ্বিশতরান থেকে মাত্র ১০ রান দূরে সাইমন হার্মারের বলে এডেন মার্করামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৩৯০ রানে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে উইয়ান মুল্ডার ৬৮ রানে ৪টি এবং মার্কো জানসেন ৬৮ রানে ৩টি উইকেট নেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। জশ হেজলউডের বলে কোনও রান না করেই আউট হন রায়ান রিকেলটন। তৃতীয় স্লিপে তাঁর ক্যাচ ধরেন বিউ ওয়েবস্টার। এরপর এডেন মার্করাম ও ডেভিড বেডিংহ্যাম ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। মার্করাম ১৫ এবং বেডিংহ্যাম ১২ রানে অপরাজিত থাকাকালীন আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হয়।
প্রথম ইনিংসে বড় রান তুলে ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় দিনে দ্রুত উইকেট তুলে দক্ষিণ আফ্রিকার উপর চাপ বাড়ানোই লক্ষ্য থাকবে কামিন্সদের। অন্যদিকে ম্যাচে ফিরতে বড় জুটি গড়ার উপর নির্ভর করতে হবে প্রোটিয়া ব্যাটারদের।
No Comment! Be the first one.