সকাল সকাল ডেস্ক
ফিটনেস, ত্বকের যত্ন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া—জীবনের প্রায় প্রতিটি বিষয়েই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়। সেই তালিকায় বাদ নেই প্রেম ও সম্পর্কও। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে প্রতিদিনই ভাইরাল হচ্ছে সম্পর্ক নিয়ে অসংখ্য রিল ও ভিডিও। সেখানে কখনও উঠে আসছে ‘রেড ফ্ল্যাগ’, কখনও ‘টক্সিক পার্টনার’, ‘গ্যাসলাইটিং’ কিংবা ‘লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ’-এর মতো শব্দ। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক সেকেন্ডের একটি রিল দেখে নিজের সঙ্গীর আচরণের সঙ্গে মিল খুঁজে তাঁকে বিচার করতে শুরু করলে উল্টে সম্পর্কেই তৈরি হতে পারে সমস্যা।
কাউন্সেলর ও ফ্যামিলি থেরাপিস্ট অর্চনা সিংঘালের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পর্ক সংক্রান্ত সমস্ত কনটেন্টকে নেতিবাচক হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং এর কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ব্যক্তিগত সীমারেখা বা ‘বাউন্ডারি’ তৈরি করা, মানসিক নির্যাতন কিংবা অসম্মানজনক আচরণ চিহ্নিত করার মতো বিষয়ে মানুষের সচেতনতা অনেকটাই বেড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন বাস্তব জীবনের সাধারণ ঘটনা বা মতবিরোধকেও সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় কিছু শব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়।
বর্তমানে ‘রেড ফ্ল্যাগ’, ‘টক্সিক’ এবং ‘গ্যাসলাইটিং’-এর মতো শব্দ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব সম্পর্ক অনেক বেশি জটিল। সঙ্গী কোনও এক দিন খারাপ আচরণ করেছেন বা কোনও বিষয়ে আপনার সঙ্গে একমত হননি মানেই তিনি ‘টক্সিক’, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। বরং দেখতে হবে, একই ধরনের নেতিবাচক আচরণ তিনি বারবার করছেন কি না। নিজের ভুল বুঝতে পারার পর তা সংশোধনের চেষ্টা করছেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র ৩০ সেকেন্ডের একটি রিল দেখে কারও ব্যক্তিত্ব বা মানসিক অবস্থা বিচার করা উচিত নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট সাধারণত নির্দিষ্ট একটি পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়। বাস্তব জীবনে একই ধরনের ঘটনার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।
একই ভাবে, সম্পর্কে মতবিরোধ হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। দু’জন মানুষের চিন্তাভাবনা, পছন্দ, অভ্যাস এবং কোনও বিষয়কে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হতে পারে। তাই মতের অমিল হলেই সঙ্গী আপনার জন্য ‘সঠিক মানুষ নন’, এমন ধারণা তৈরি করা উচিত নয়।
সুস্থ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে অপরের কথা শোনা, অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা জরুরি। তবে নিয়মিত অসম্মান, নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কিংবা ম্যানিপুলেশনের মতো আচরণ দেখা গেলে অবশ্যই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার রিলকে সম্পর্কের চূড়ান্ত মাপকাঠি না বানিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয়।
No Comment! Be the first one.