সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন, ৮ অক্টোবর: নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁরই পাওয়া উচিত বলে ফের দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চলতি বছর এই সম্মানজনক পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নিজেই সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প অভিযোগ করেন, নোবেল কমিটি তাঁর মতো ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করতে আগ্রহী নয়। আগামী শুক্রবার ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি। তার ঠিক আগেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাই এই পুরস্কার পাওয়ার উপযুক্ত সময় এখনই।
এ প্রসঙ্গে গত বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কারিনা মাচাদোর কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, গত জানুয়ারিতে মাচাদো তাঁর ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, মাচাদো নিজেই বলেছিলেন, ইতিহাসে তাঁর চেয়ে বেশি কেউ এই পুরস্কারের যোগ্য নন। ওই ঘটনাকে নিজের জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক বলে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রসঙ্গত, ভেনেজুয়েলার সরকারবিরোধী আন্দোলনে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন মাচাদো। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে নোবেল পুরস্কারের পদক উপহার দেওয়া হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের বিজয়ীর স্বীকৃতি অন্য কোনও ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা যায় না।
ট্রাম্পের দাবি, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি অন্তত আটটি যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সংঘাত বন্ধ করতে ভূমিকা পালন করেছেন। সেই সাফল্যের ভিত্তিতেই নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য বলে মনে করেন তিনি। কম্বোডিয়া, ইজরায়েল এবং পাকিস্তানের নেতাদের পক্ষ থেকেও তাঁকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়নের কথা বলা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট মনোনয়নগুলির আনুষ্ঠানিক তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়নি। যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রত্যাশিত শান্তিচুক্তি এখনও অধরা।
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সামরিক সংঘাতও ট্রাম্পের শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে।
বিশেষ করে আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরেও বিতর্ক চলছে।
এদিকে, চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় উঠে এসেছে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ প্রতিনিধির মতো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম। তবে নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্ভাব্য বিজয়ীদের কোনও তালিকা প্রকাশ করে না। ফলে পুরস্কার ঘোষণার আগে নির্দিষ্ট কোনও প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এই পরিস্থিতিতে শুক্রবারের ঘোষণার দিকে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। একদিকে ট্রাম্প নিজের কূটনৈতিক উদ্যোগের স্বীকৃতি দাবি করছেন, অন্যদিকে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে তাঁর শান্তি প্রতিষ্ঠার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শেষ পর্যন্ত নোবেল কমিটি কাকে ২০২৬ সালের শান্তি পুরস্কারের জন্য বেছে নেয়, সেটাই এখন দেখার।
No Comment! Be the first one.