সকাল সকাল ডেস্ক
নিউইয়র্ক: আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পথে আমেরিকা। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে আরও দুটি সামরিক ঘাঁটি চালুর পরিকল্পনা করেছে ওয়াশিংটন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ ও পূর্ব গ্রিনল্যান্ডে নতুন করে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তৈরি হবে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এই সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। যদিও চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
প্রস্তাবিত দুটি স্থানের একটি দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নরসারসুয়াক। শীতল যুদ্ধের সময় এখানে আমেরিকার ‘ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান’ নামে একটি সামরিক ঘাঁটি ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব ছিল যথেষ্ট। পরবর্তী সময়ে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে নরসারসুয়াকে জনবসতি অত্যন্ত কম। নতুন চুক্তির মাধ্যমে পুরনো সামরিক পরিকাঠামো ব্যবহার করে সেখানে ফের মার্কিন উপস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
দ্বিতীয় স্থানটি পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের মেস্টার্সভিগ। বর্তমানে এই দুর্গম আর্কটিক অঞ্চলে ডেনমার্কের ‘সিরিয়াস ডগ স্লেজ প্যাট্রোল’ নজরদারি চালায়। ডেনিশ সশস্ত্র বাহিনীর এই বিশেষ ইউনিটটি বিস্তীর্ণ ও দুর্গম এলাকায় টহল এবং নজরদারির দায়িত্বে রয়েছে। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে মেস্টার্সভিগেও মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে পরিকল্পনার খুঁটিনাটিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে সূত্রের দাবি।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার একমাত্র সক্রিয় সামরিক ঘাঁটি হল পিতুফিক স্পেস বেস। সেখানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সামরিক কর্মী মোতায়েন রয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ, মহাকাশ নজরদারি এবং আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই ঘাঁটির বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
শীতল যুদ্ধের সময় অবশ্য গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। একসময় দ্বীপটিতে ১৭টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ছিল এবং ১০ হাজারেরও বেশি সেনা ও কর্মী সেখানে মোতায়েন ছিলেন। পরবর্তী কয়েক দশকে সেই উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এবার নতুন দুটি ঘাঁটি চালু হলে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক পরিকাঠামো আবারও সম্প্রসারিত হবে।
বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ায় নতুন সমুদ্রপথ এবং প্রাকৃতিক সম্পদে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে আর্কটিকের কৌশলগত গুরুত্বও বেড়েছে। আমেরিকার পাশাপাশি রাশিয়া ও চিনও এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি এবং কার্যক্রম বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে। ফলে গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান সামরিক ও ভূকৌশলগত দিক থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, নতুন দুই সামরিক ঘাঁটির পরিকল্পনা গ্রিনল্যান্ড ও বৃহত্তর আর্কটিক অঞ্চলকে ঘিরে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। তবে চুক্তির সম্পূর্ণ শর্ত প্রকাশ্যে আসার পরই স্পষ্ট হবে, প্রস্তাবিত ঘাঁটিগুলিতে কত সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে এবং সেখানে কী ধরনের সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
No Comment! Be the first one.